ম্যাচ বিশ্লেষণ : উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ

0
47

২০১৯/২০ মৌসুমের ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ(ইউসিএল) এর কোয়ার্টার ফাইনালের সবগুলো খেলাই শেষ। জানা হয়ে গিয়েছে শেষ চার।

করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ হওয়ার প্রায় পাঁচমাস পর মাঠে ফেরে ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদা সম্পন্ন ঘরোয়া ফুটবলের আসর ইউসিএল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এই মৌসুম কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে চালু হয় একলেগ এর খেলা।

কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ লাইনাপগুলো ছিলো এরকম

পিএসজি-আটালান্টা

এথলেটিকো মাদ্রিদ-লিপজিগ

বায়ার্ন মিউনিখ-বার্সেলোনা ও

ম্যানচেস্টার সিটি-অলিম্পিক লিঁও

 

প্রতিটি ম্যাচের বিশ্লেষণে আসা যাক।

পিএসজি-আটালান্টা

ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও প্রথমার্ধে পিএসজি বলতে গেলে পাত্তাই পায় নি নতুন সেনসেশন আটালান্টার কাছে। ইতালিয়ান ক্লাব আটালান্টা লকডাউনের পর থেকে আছে দূরন্ত ফর্মে। সবচেয়ে ম্যাড়ম্যাড়ে ম্যাচ হিসবে ধরে নেয়া ম্যাচটাই ছিলো সবচেয়ে বেশি উত্তেজনায় ঠাসা।

১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে পিএসজি। একাদশে ছিলেন না ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এম্বাপে। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। তাঁর সাথে সাবেক বার্সা তারকা নেইমারের অসাধারণ ড্রিবলিং শৈলীর প্রদর্শনীতে রচিত হয় কামব্যাকের গল্প। ৯০ মিনিট আর তার সাথে অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে পিএসজি করে দুইগোল, এ যেন পিএসজির বিপক্ষে করা নেইমারের কামব্যাক রূপকথার ট্রেইলার। সেমির টিকেট কাটে ফ্রেঞ্চ ক্লাব পিএসজি। উল্লাসে ফেটে পরে সাবেক ডর্টমুন্ড কোচ টমাস টাচেল।

 

এথলেটিকো মাদ্রিদ-লিপজিগ

রাউন্ড অফ সিক্সটিনে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলকে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেও কোয়ার্টারের দরজা  আর পার হতে পারেন নি সিমিওনের এথলেটিকো মাদ্রিদ। ২০১৪ সালের পর নকাউটে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দলের বিপক্ষে বাদ যাওয়া সিমিওনের সামনে ছিলো সেমির টিকিট কাটার সুযোগ। একাদশে ছিলেন না পর্তুগিজ তারকা জাও ফেলিক্স ও লিভারপুলের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মোরাতা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোল হজম করে বসে মাদ্রিদের দলটি। ফেলিক্সকে নামানোর পর খেলায় কিছুটা গতি ফিরলেও খুব আহামরি ব্যবধান গড়তে পারেন নি। ৭২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরে এথলেটি। কিন্তু ৮৮ মিনিটে মাদ্রিদের একমাত্র প্রতিনিধিদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন টাইলার এডামস।

 

বায়ার্ন মিউনিখ-বার্সেলোনা

কাগজে কলমে কোয়ার্টারের সবচেয়ে জমকমাট ম্যাচটি নিরাশ করেছে দর্শকদের। ফেভারিট হিসেবে মাঠে নেমে সেটার প্রমাণ ভালোমতই দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। গুণে গুণে দুই হালি গোল হজম করেছে বার্সা। একাদশে ছিলেন না গ্রিজম্যান, ডেম্বেলের মত হাই প্রাইস ফরোয়ার্ডরা। মেসি হয়ে ছিলেন নিজের ছায়া। ছন্নছাড়া ডিফেন্স আর অনভিজ্ঞ মিড আত্মসমর্পণ করেছে বারবার, বিধ্বস্ত হয়েছে, ভেঙে পরেছে তাসের ঘরের মত। সে দৃশ্য চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেন নি লিওনেল মেসি।

বায়ার্নের হাইপ্রেসিং এটাকিং ফুটবলের সামনে মুখ থুবড়ে পরেছে বার্সার আভিজাত্য। কোনো প্রশ্নেরই যেন জবাব ছিলো না কিকে সেতিয়েনের শিষ্যদের কাছে। প্রথমার্ধেই বলতে গেলে চার গোল হজম করে ম্যাচ থেকে  ছিটকে পরে স্প্যানিশ ক্লাবটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সুয়ারেজ একগোল শোধ দিলেও, লোনে থাকা বার্সা তারকা কৌতিনহো যেন আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন কি রত্নকে যত্ন না করে অবহেলায় ঠেলেছে বার্সা ম্যানেজম্যান্ট। পনের মিনিটে লেভানডস্কির এক গোলের এসিস্ট করেই থামেন নি ব্রাজিলিয়ান তারকা, নিজে করেছেন দুই গোল। বার্সা পরেছে লজ্জায়, নিজেদের ইতিহাসের ইউসিএল নকাউটে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের লজ্জা যে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে এবছর কোনো ট্রফিই জিততে না পারা দলটিকে।

 

ম্যানচেস্টার সিটি-অলিম্পিক লিঁও

কোয়ার্টার ফাইনালের সবচেয়ে বড় অঘটন ছিলো তারকায় ঠাসা ম্যানচেস্টার সিটির বিদায়। ফ্রেঞ্চ ক্লাব লিঁও এর কাছে ৩-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে গার্দিওলার শিষ্যরা। প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় লিঁও। দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়ান মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইনা এক গোল শোধ করলেও শেষ রক্ষা হয় নি। বদলি নামা মুসা ডেম্বেলে ম্যান সিটির হাইলাইন ডিফেন্সের ফাঁক গলে ৭৯ মিনিটে এগিয়ে দেন দলকে। ৮৭ মিনিটে এডারসনের ভুলের সুযোগ নিয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন মুসা ডেম্বেলে। তিন বছরে ৯৪৩ মিলিয়ন ডলার খরচ করেও সেমির দেখা পেলেন না বার্সার হয়ে দুইবার ইউসিএল জেতা কোচ পেপ গার্দিওলা। পিএসজির সাথে আরেক ফ্রেঞ্চ ক্লাব সঙ্গী হন সেমিফাইনালের।

 

সেমিফাইনাল লাইনাপ

পিএসজি-লিপজিগ

বায়ার্ন মিউনিখ-অলিম্পিক লিঁও