৮০ বছর বয়সে ফুটবলে প্রেম

0
19

একরাতে আমার ঘুম আসছিলোনা, হুট করে লক্ষ্য করলাম আমার নাতী এই মাঝরাতে টিভি স্ক্রিনে এমনভাবে চোখ লাগিয়ে যেনো পলক’ও পড়ছেনা! টিভিতে সে ফুটবল খেলা দেখছিলো, খেলা দেখার পাশাপাশি আমি তাকে একটু পরপর জোর হাতে প্রার্থনা’ও করতে দেখলাম।

আমাকে চোখে পড়ার পর সে আমাকে বললো – দাদী, আসো! একসাথে খেলা দেখবো! আমার নাতী আমাকে কোন একটি দল দেখিয়ে বললো, ওদের নাম ‘চেলসি’! নাতীর সাথে আমিও খেলা দেখায় মনোনিবেশ করে ফেললাম, টানটান উত্তেজনা অনুভব করলাম, ম্যাচ জেতার পর নাতীর সাথে আমিও চিৎকার করতে লাগলাম! আমাদের চিৎকারে আমার ছেলে ঘুম ভেঙে উঠে চেচাতে থাকে – “৩ টা বাজে মা! তুমিও এমন বাচ্চাদের মতো চিল্লাচ্ছো!? তোমার বয়স ৮০ মা, ৮ না!”

আমি ওকে ঝাড়ি দিয়ে চুপ করতে বললাম – এই থামতো!

ক্যান জানি আমি এই শেষ বয়সে ফুটবলের প্রেমে পড়ে গেলাম! এখন আমরা নিষ্ঠাভরে প্রতিটি ম্যাচ একসাথে দেখি, ম্যাচ শুরুর আগে একসাথে পুজাও করি! খেলোয়াড়দের এমন মায়াবী হাসি আমার মন ভরিয়ে দেয়, মাঝে মাঝে ওদের ছবি গুগুলে সার্চ করি, ওদের হাসিতে কেমন চাঙ্গা হয়ে যাই! খেলা দেখবো বলে দিনে বেশি করে ঘুমিয়ে নেই যেনো রাতে খেলা দেখতে অসুবিধা না হয়! আমার রুম এখন খেলোয়াড়দের জার্সি, ক্লাব ফ্ল্যাগ, আর পোস্টারে সুন্দর করে সজ্জ্বিত, আমি আর আমার নাতী একসাথে খেলা দেখি, হাফটাইমে একসাথে চা খাই! খেলা দেখার সময় আমি এমনভাবে চিল্লাতে থাকি, “এই কর, ঐ কর” যেনো খেলোয়াড়রা আমাকে শুনতে পাচ্ছে!

ব্যাটা, দেখে নিও, একদিন না একদিন আমি স্টেডিয়ামে বসে চেলসির ম্যাচ দেখবোই দেখবো, মুখ ভর্তি হাসি আর সুদর্শন এই খেলোয়াড়দের জার্সি গায়ে এই মাঠে দৌড়াতে দেখব!

মূল লেখা – Humans of Bombay
অনুবাদ – কামরুল হাসান রাতুল

এইজন্যই বলি – ফুটবলটা তোমাদের কাছে কেবলই খেলা, কিন্তু আমাদের কাছে আমাদের প্রেরণা, আমাদের শক্তি, আমাদের বেঁচে থাকা, আমাদের ভালো থাকা। সকল কষ্ট খারাপ লাগা হতাশা দুর্দশা ভুলে গালভর্তি হাসির খোরাক গোলাকৃতি ঐ ক্ষুদ্র অনুভূতিতেই! ফুটবল ইজ লাইফ!