৩৪ এর সুবাসে বিভোর রিয়াল মাদ্রিদ

0
46

অবশেষে আরাধ্যের লা-লীগা শিরোপা জিতে নিলো জিদানের রিয়াল মাদ্রিদ। মঞ্চ প্রস্তুতই ছিলো, মাদ্রিদের ফুটবলাররাও তাতে আলোই ছড়িয়েছে বেশ। দুই বছর পর আবারও স্পেনের রাজত্ব ফিরে আসলো রাজাদের হাতেই।

আলফ্রেডো দে স্তেফানোতে ম্যাচের শুরু থেকেই
আক্রমণ, প্রতি আক্রমণে ম্যাচ এগিয়ে যেতে থাকে। ম্যাচের শুরুতেই গোল পেতে পারতো রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর তা গোল হয়ে উঠেনি। কিন্তু ২৯ মিনিটে ক্যাসিমারো বাড়ানো বল থেকে লুকা মড্রিচের অসাধারণ এসিস্টে ফিনিশিং দিয়ে এই মৌসুমে লীগে ২০ গোলের দেখা পান করিম বেমজেমা। মাদ্রিদের হয়ে ক্যারিয়ারে এই প্রথম লা-লীগায় টানা দুই মৌসুমেই ২০ বা তার বেশী গোলের দেখা পেলেন এই ফ্রেঞ্চম্যান। এরপর প্রথমার্ধে আর গোল না পাওয়ায় ১-০ গোলের লিড নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয়ার্ধের ৮ মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ করার চেষ্টা করেন কারভাহাল। তবে তার নেওয়া দুরন্ত শট রুখে দেন গোলরক্ষক সের্হিও আসেনহো। এরপর ৬৬ তম মিনিটে গোল বাচাতে গিয়ে বক্সের মধ্যেই আঘাত পান থিবো কর্তোয়া। এই মৌসুমে রিয়ালের সাফল্যের অন্যতম নায়কও এই বেলজিয়ান প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই আবারও খেলা শুরু করে দেন।

এরপর ৭৭ মিনিটে রামোসকে বক্সের ভিতর ফাউল করলে পেনাল্টির দেখা পায় রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু স্পট কিক নিতে এসে আলতো টোকায় নিজে গোল না দিয়ে বেনজেমাকে এসিস্ট করেন অধিনায়ক। তবে কিক নেওয়ার আগেই বক্সে ঢুকে পড়ায় গোলটি বাতিল করে আবারও পেনাল্টির নির্দেশ দেয় রেফারী। এবার বেনজেমা নিজেই পেনাল্টি থেকে গোল দিয়ে দলকে ২-০ এর লিড এনে দেন। এর ফলে গত মৌসুমের মতো এই মৌসুমেও লীগে ২১ গোল করলেন বেনজেমা। যদিও বাকি আছে আরো এক ম্যাচ।

এরপর ৮৩ তম মিনিটে হেডে ইবোরা গোল দিলে জয় নিয়ে শংকা জাগে মাদ্রিদের। ৮৮তম মিনিটে ত প্রায় গোল দিয়েই বসতো ভিয়ারিয়াল। রিয়ালের ভক্তদের মনে অতিরিক্ত মিনিটেও আরেকবার ভয় ধরিয়ে দেন। শেষদিকে এসেনসিও গোল করলেও বেনজেমার হ্যান্ডবলের জন্য ভার তা বাতিল করে।

এরপর শেষ বাশি বাজলেই মাঠে শুরু হয়ে যায় শিরোপা উল্লাস। প্রথম মেয়াদে ৯ টি আর দ্বিতীয় মেয়াদে এসে আরো ২টি। এপর্যন্ত মাত্র ৪ বছরে ১১ শিরোপা জয় করে ফেললেন ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন ইয়াজিদ জিদান। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের প্রথম গোলকিপার হিসেবে লা-লীগায় ১৮ ম্যাচে ক্লিনশিট রাখলো গত মৌসুমে চরম বাজে খেলা বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া।

অথচ করোনাভাইরাসে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় বার্সেলোনার চেয়ে ২ পয়েন্টে পিছিয়ে ছিলো রিয়াল মাদ্রিদ। সেখান থেকেই পুনরায় খেলা শুরুর পর যেনো মাঠে অন্য এক রিয়াল মাদ্রিদ। ১০ ম্যাচে টানা ১০ জয়। মোট ৩৭ ম্যাচে ২৬ জয় ও আট ড্রয়ে রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৮৬।

অন্যদিকে একই সময়ে ওসাসুনার বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে যাওয়ায় সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৭৯।

সবমিলিয়ে ৩৪ তম লা-লীগা শিরোপা জিতলো রিয়াল মাদ্রিদ। ২৬ শিরোপা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা।