“হি ওয়াজ মিসটেকেইনলি বর্ন ইন বাংলাদেশ”

0
820

“হি ওয়াজ মিসটেকেইনলি বর্ন ইন বাংলাদেশ”
মোনেম মুন্না সম্পর্কে এই কথাটি বলেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক জার্মান কোচ অটো ফিস্টার। মুন্নার উজ্জ্বল সময়ে বাংলাদেশের কোচ হয়ে অল্প কিছু দিনের জন্য বাংলাদেশের কোচ হয়ে এসেছিলেন ফিস্টার। তিনি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে হাই প্রোফাইল্ড কোচ হিসেবে পরিচিত। মোনেম মুন্না সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, “ফুটবল বিশ্বের দূর্ভাগ্য যে মুন্নার মত ডিফেন্ডার বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছে!” সে কারণেই হয়তোবা মুন্নার আরেক নাম ছিলো ‘কিং ব্যাক’।

আশির দশকের শেষ ও নব্বই দশক জুড়ে বাংলাদেশ ফুটবল ছিল মুন্নাকে ঘিরেই। মাঠের খেলা যেমন ছিল দৃষ্টিনন্দন তেমন একজন অধিনায়ক পেশাদারী মনোভাবের দিক দিয়েও কম যান না। ছিলেন আবাহনীর প্রাণ। দলের সাফল্যের পিছনে ও সামনে থেকে দিয়েছিলেন নেতৃত্ব।

মোনেম মুন্না ৯ জুন ১৯৬৮ সালে নারায়ণগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে পাইওনিয়ার লীগ দিয়ে ফুটবলে অভিষেক মোনেম মুন্নার। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে পেশাদার ফুটবলে উত্থান। পরের মৌসুম শান্তিনগরে খেলার পর মুন্না যোগ দিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদে। পরের বছরই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। প্রথম দুই মৌসুম মুক্তিযোদ্ধায়, এরপর এক মৌসুম ব্রাদার্স ইউনিয়নে খেলেন।

১৯৮৭ সালে তিনি যোগ দেন ঢাকা আবাহনীতে। সেখানেই গড়ে তোলেন নিজের ফুটবল ক্যারিয়ার। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আবাহনীর সঙ্গেই জড়িয়ে ছিলেন। নব্বই এর গণ অভু্ত্থানের পর দেশের সেরা সব ফুটবলার চড়া দামে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে নাম লেখালেও সে সময় মুন্না একাই ছিলেন আবাহনীতে। তরুণ খেলোয়াড়দের সাথে নিয়ে আবাহনীর মর্যাদা সমুন্নত রেখেছিলেন সেবছর। ১৯৯২ মৌসুমের দলবদলে মুন্না আবাহনীতে দলবদলে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পারিশ্রমিকে। একটানা ৯৭ সাল পর্যন্ত আবাহনীতে খেলেছেন মুন্না। আবাহনীর হয়েই ফুটবলের বর্ণাঢ্য জীবন ছেড়ে অবসরে যান।

শুধু আবাহনীই নয়, মুন্না যতদিন মাঠে ছিলেন ততদিন দেশের জন্যেও নিজেকে উজাড় করে খেলেছেন। সবসময়ই নিজের সর্বোচ্চটুকু দেশের জন্য দিতে সচেষ্ট থেকেছেন।

মাঝখানে  কলকাতার ইস্ট বেঙ্গলের হয়েও ফুটবল খেলেন  তিনি। কলকাতায় নিজেকে জনপ্রিয় করে তুলেন তুন্না। এখনো তার স্মৃতি স্মরণ করে কলকাতাবাসী।

সাবেক জাতীয় ফুটবলার আসলাম সতীর্থ মুন্না সম্পর্কে বলেন,

“প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে সে যথেষ্ঠ বুদ্ধিমান ছিলো , এবং তাকে চেজ করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিলো।”

” যখন আমি ইস্ট বেঙ্গলে খেলতে গিয়েছিলাম আমি একটা ম্যাচে ইঞ্জুরড হই এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলি , যখন আমার জ্ঞান আসে। আমি তাকে কাঁদতে দেখি।”

১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে প্রথমবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন। এরপর দু’একটি ম্যাচ বাদ দিলে টানা ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলে খেলেছেন এই ডিফেন্ডার।

১৯৯০ সালে বেইজিং এশিয়ান গেমসে কিং ব্যাক মোনেম মুন্না প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছিলেন। তার নেতৃত্বেই ১৯৯৫ সালে মিয়ানমার থেকে চ্যাম্পিয়ন ট্রুফি জিতে ঘরে ফেরে লাল-সবুজরা। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে যা প্রথম সাফল্য।

১৯৯৯ সালের রমজান মাসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যান। সেখানেই তার কিডনি সমস্যা ধরা পড়ে। ২০০০ সালের মার্চে বাঙ্গালোরে বোন শামসুন নাহার আইভীর কিডনি তার দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়।২০০৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কিডনী রোগে মৃত্যুবরণ করেন মুন্না।

২০০৮ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ মোনেম মুন্নার স্মরণে ধানমন্ডির ৮ নম্বর সেতুটির নামকরণ করা হয় ‘মোনেম মুন্না সেতু’ নামে।