সূর্যোদয়ের দেশে ফুটবলের আগমনী সূর্যসন্তানেরা

রাগবি বিশ্বকাপের সময় পুরো পৃথিবীর দৃষ্টি ছিল জাপানের দিকে, তাই আপনাকে ক্ষমা করা হবে ভাবার জন্যে যে জাপানে ফুটবল পিছপা হচ্ছে৷ কিন্তু লা লিগায় তাকেফুসা কুবোর স্পষ্ট দক্ষতা ছাড়িয়েও সূর্যোদয়ের ভূমি জাপান যে আরো কিছু তরুণ অসাধারণ খেলোয়াড় তৈরি করে যাচ্ছে! এই ফিচারে তাকেফুসো কুবো নিয়ে লিখছি৷ পরবর্তীতে আরো ৪ জন সম্পর্কে জানতে পারবেন৷

তাকেফুসা কুবো | রিয়াল মাদ্রিদ

কোথা থেকে শুরু করবো তা নিয়েই দ্বিধাদ্বন্দে পড়তে হচ্ছে আমাকে! তাকেফুসা কুবো, একজন ইয়াংস্টার যাকে কিনা সবাই মোড়কে মুড়িয়ে উপরে নামকরণ করে দিয়েছে “জাপানিজ মেসি” হিসেবে। এই ট্যাগ ভান্ডারে জমিয়ে রেখে সে প্রথমে যোগদান করে বার্সেলোনা দলে, এর পরে জাপানে ফিরে যায় এই ইয়াংস্টার এবং ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন সে পুনরায় লালিগায় ফিরে আসে, তবে অল হোয়াইটস দের জার্সি গায়ে।

Related image

লস ব্লান্কোসে যাওয়ার পর কাতালানদের মুখে তাঁর নাম একটু তিক্ত স্বাদ তো দিবেই, কেননা ৮ বছর বয়সী কুবোর ট্যালেন্টকে প্রথমে তারাই খুঁজে বের করেছিল, যদিও ফিফার আইন মেনে কুবোকে আবার জাপানিজ ললিগে পাঠাতে বাধ্য হয় তারা৷ প্ল্যানটা ছিল কুবো জাপানিজ লিগে ভালো খেলে ভালো অভিজ্ঞতা নিয়ে এসে, তাঁর খেলা ন্যু ক্যাম্পে চালিয়ে যাবে৷

হায়! মাদ্রিদ এসে তাঁকে আরো জমকালো কন্ট্রাক্ট অফার করে এবং কুবোকে বার্সার কাছ থেকে এক প্রকার ছিনতাই করে নেয়৷ যদিও এখন পর্যন্ত কুবো ফার্স্ট টিমে আসার মত অভিজ্ঞ এবং পাকাপোক্ত হয়ে ওঠেনি৷ কেননা তাঁকে দলে জায়গা করে নিতে লড়াই করতে হচ্ছে ইডেন হ্যাজার্ড, গ্যারেথ বেল এদের মত খেলোয়াড়দের সাথে৷ মাদ্রিদ তাঁকে খুব দ্রুত মায়োর্কাতে লোনে পাঠিয়ে দেয় লালিগার গুরুত্বপূর্ণ সব জিনিস বুঝতে এবং ফার্স্ট টিম এক্সপিরিয়েন্স নিতে৷ অনেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকাও কুবোর ট্যালেন্টের সুনাম করেছে৷

 

“জাপানিজ মেসি” শুনে আপনি প্লেয়ারটি সম্পর্কে ভাবতে পারেন দেখতে ছোটখাটো, বল পা থেকে ছুটেই না এবং সংকুচিত। ঠিক তাই! কুবো এমন একজন খেলোয়াড় যার পায়ে বল থাকলে সে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়কে তাঁর বুদ্ধি, চিন্তা, চমকপ্রদ পা এবং নির্ভীক সব দৌড় দিয়ে পরাস্ত করতে পারে৷ বিপক্ষ দলের ডিফেন্ডারদের জন্য এসব ধারণা করাই দুস্কর, বাঁধাদানের কথা বাদই দিলাম।

কিন্তু এধরণের খেলোয়াড়েরা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী খুব কমই সফল হয়৷ কিন্তু কুবোর উদয় কিছুটা নাটকীয় ভাবে হলেও সে তাঁর মহা শৈলীতে আরো কিছু উপকরণ মিশিয়ে যাচ্ছে নিপুণভাবে৷

কুবো ছিল জে৩ লিগে গোল করা কনিষ্ঠ খেলোয়াড় (১৫ বছর ১০ মাস)৷ এবং জে১ লিগে ইয়োকোহামা এফ. ম্যারিনোসে লোনে থাকাকালীন প্রথম স্টার্টেই গোল করে সে। গত সিজনে টেবল-টপার টিম এফসি টোকিওর হয়ে নিয়মিত একাদশে খেলে কুবো৷ ১৩ গেমে ৪ গোল এবং ৪ এসিস্ট করে সে – একজন খেলোয়াড় যার ১৮ ছোয়া হয়নি, তাঁর জন্যে এই উপাত্তগুলো ভালোর চেয়ে বেশিকিছু৷

Image result for kubo barcelona

সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর চ্যালেঞ্জ হলো মায়োর্কাতে ভালো কিছু করা৷ কিন্তু সে এতো দ্রুতই পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে, যা কিনা কেউ ভেবে উঠতে পারেনি৷ স্টার্টিং ইলেভেনের জন্যে এমনভাবে জানপ্রাণ দিয়ে খেলে যাচ্ছেন যে মায়োর্কা কোচ ভিসেন্তে মোরেনোর জন্য কুবোকে ফেলে একাদশ সাজানো কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে৷ স্পেনের পন্ডিতেরা এমনটিও বলেছেন যে মায়োর্কার সেরা এটাকিং প্লেয়ার হচ্ছে তাকেফুসা কুবো৷

আপনি যেমনটি ভাবতে পারেন, তাঁর জাপানে সিনিয়র দলের হয়ে অভিষেক হয়ে গিয়েছে৷ সকলের আশা যে, তাকেফুসা কুবো সামুরায় ব্লুয়ের এক নতুন আধিপত্য যুগের নেতৃত্ব দিবেন৷