সাকিবের প্রত্যাবর্তনের দিনে খুলনার জয়

0
15

বঙ্গবন্ধু টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট কাপের দ্বিতীয় ম্যাচ দিয়ে ৪০৯ দিন পর আবারো ক্রিকেটে ফিরলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। জেমকন খুলনার হয়ে খেলতে নামা সাকিবের প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখলেন আরিফুল হক। শেষ ওভারে ২২ রানের প্রয়োজনে চারটি ছক্কা মেরে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে খুলনাকে ৪ উইকেটে জয় এনে দেন আরিফুল।

মাহমুদুল্লাহ-সাকিবের জেমকন খুলনার বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫২ রান করেছে তামিম ইকবালের ফরচুন বরিশাল। খুলনার শহিদুল নেন ৪ উইকেট। জবাবে আরিফুল বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংএ ১ বল বাকী রেখে জয়ের বন্দরে পৌছায় খুলনা। ৩৪ বলে অপরাজিত ৪৮ রান করেন আরিফুল।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ম্যাচে বরিশালের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে বোলিং করতে নামে খুলনা। ব্যাট হাতে নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই মেহেদি হাসান মিরাজকে হারায় বরিশাল। পেসার শফিউল ইসলামের বলে আউট হন মিরাজ। অধিনায়ক তামিম ১৫ ও আফিফ হোসেন ২ রানে বিদায় নেন। ফলে ৪৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বরিশাল।

তবে এক প্রান্ত আগলে রানের চাকা সচল রাখেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী খেলোয়াড় পারভেজ হোসেন ইমন। তবে হাফ-সেঞ্চুরি তুলে বিদায় নেন তিনি। ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪২ বলে ৫১ রান করেন যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ৪৭ রান করা ইমন।
ইমন ফিরে যাবার পর দলকে লড়াই করার মত পুঁিজ এনে দিয়েছেন তৌহিদ হৃদয়-ইরফান শুক্কুর-মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও তাসকিন আহমেদ। হৃদয় ২৭, অঙ্কন ২১, তাসকিন ৫ বলে অপরাজিত ১২ ও শুক্কুর ১১ রান করেন। ফলে ১৫২ রানের সংগ্রহ পায় বরিশাল। খুলনার শহিদুল ৪ ওভারে ১৭ রানে ৪ উইকেট নেন। সাকিব ৩ ওভারে ১৮ রানে ১ উইকেট শিকার করেন। সাকিবের শিকার হন ২ রান করা আফিফ।

১৫৩ রানের টার্গেট দিয়ে শুরুতেই জেমকন খুলনাকে চেপে ধরে ফরচুন বরিশালের পেসার তাসকিন আহমেদ। প্রথম ওভারেই খুলনার দুই ওপেনার এনামুল হক ও ইমরুল কায়েসকে শিকার করেন তিনি। এনামুল ৪ ও ইমরুলকে শুন্য হাতে ফেরান তাসকিন।

৪ রানে ২ উইকেট হারানোর পর দলের দুই সেরা ব্যাটসম্যান সাকিব ও মাহমুদুল্লাহ জুটি বাঁধেন। তাদের কাছ থেকে বড় জুটির প্রত্যাশায় ছিলো দল। কিন্তু দু’জন হতাশ করেছেন। সাকিব ২টি চারে ১৩ বলে ১৫ ও মাহমুদুল্লাহ ৩টি চারে ১৬ বলে ১৭ রান করেন। সাকিবকে থামান পেসার সুমন খান।
দলীয় ৩৬ রানের মধ্যে বিদায় নেন সাকিব-মাহমুদুল্লাহ। এতে লড়াইয়ের পথ হারিয়ে ফেলে তারা। পঞ্চম উইকেটে জহিরুল ইসলামের সাথে ৪২ রানের জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরান আরিফুল হক। ২৬ বলে ৩১ রান করে ফিরেন জহিরুল। তবে শামিম হোসেনকে নিয়ে দলের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন আরিফুল।

ষষ্ঠ উইকেটে ৪৪ রান যোগ করেন আরিফুল-শামিম। ১৮তম ওভারের চতুর্থ বলে থামেন শামিম। ১৮ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৬ রান করেন শামিম। ঐ অবস্থায় শেষ ১৪ বলে ৩১ রান প্রয়োজন ছিলো খুলনার।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য সমীকরন দাঁড়ায় ২২ রানের। ঢাকার স্পিনার মিরাজের শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে ও চতুর্থ-পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে বরিশালের হার নিশ্চিত করেন আরিফুল।
৪টি ছক্কা ও ২টি চারে ৩৪ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন আরিফুল। তার সাথে ৭ বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন শহিদুল। ম্যাচ সেরা হয়েছেন আরিফুল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ফরচুন বরিশাল : ১৫২/৯, ২০ ওভার (ইমন ৫১, হৃদয় ২৭, শহিদুল ৪/১৭)।
জেমকন খুলনা : ১৫৫/৬, ১৯.৫ ওভার (আরিফুল ৪৮*, জহিরুল ইসলাম ৩১, সুমন ২/২১)।
ফল : জেমকন খুলনা ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : আরিফুল হক (জেমকন খুলনা)।