শূন্যতাকে জয় করে বহুদূরে!

0
25

শাহ্‌ আহমেদ উজ্জ্বল: পাঁচ পাঁচটা বিশ্বকাপ আছে!
হ্যাট্রিক শিরোপা সহ কনফেডারেশন কাপ জয়ের রেকর্ড আছে সর্বোচ্চ ৪ বার!
মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব কোপা জয় করা হয়েছে ৯ বার!
অনুর্ধ-১৭ বিশ্বকাপ আছে ৪ টি!
অনুর্ধ-২০ বিশ্বকাপ জয়ের সংখ্যাও পাঁচ!

সবকিছু আছে, তবুও কোথায় যেন এক নিঃসীম শূণ্যতা! পরিপূর্ণতার মাঝে সে এক অপরিসীম অপূর্ণতা।

ব্রাজিল ফুটবল মিউজিয়ামে সারি সারি করে রাখা অর্জিত সব অর্জন। তারপরও যেন কি একটা নেই! কেন যেন সব পাওয়ার ষোলকলা পূর্ণ হয়নাই! কোথায় যেন আটকে আছে সব পূর্ণতা।

কি সেটা..?
“অলিম্পিক গোল্ড মেডেল”??
হ্যা সেটাই..!! এই একটা অর্জন যে অধরা থেকে গেল সবকিছু অর্জন করা ফুটবলের সবচেয়ে সফল দলটার।

১৯৫২ সালে প্রথম অলিম্পিক ফুটবলে অংশ নেয় ব্রাজিল। ২০১৬ রিও অলিম্পিকের আগে ১২ বার অলিম্পিক ফুটবল খেলার সুযোগ পায় সেলেসাওরা।
ভাভা, দুঙ্গা, রোনালদো, রিভালদো, কার্লোস, রোনালদিনহো, তাফারেল, দিদা, সিলভা, মার্সেলো সহ অনেক লিজেন্ডরা হলুদ জার্সি গায়ে অলিম্পিকে অংশ নিলেও কেও এনে দিতে পারেননি কাঙ্ক্ষিত সাফাল্য। সবাই পূরণ করতে ব্যর্থ হন ব্রাজিলের ষোলকলা। বারবার হতাশ করে যুগের পর যুগ বাড়িয়েছেন অপেক্ষা।
১৯৮৮, ১৯৯৪ ও ২০১২ সালে খুব কাছে গিয়েও ছোয়া হয়নাই গোল্ড মেডেলটি। অল্পের জন্য হাতছানি হয় অধরা অলিম্পিক গোল্ড মেডেল। ২০১২ সালে সেরা দল নিয়েও শেষ ধাপে এসে রোপ্য নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল নেইমার-অস্কারদের।

২০ বছর বয়সী নেইমার ও অস্কারদের নিয়ে সেলেসাও দলটি অধরা অলিম্পিকের আশায় খেলতে গিয়েছিল লন্ডন অলিম্পিক। ফাইনালে মেক্সিকোর কাছে ২-১ গোলে হেরে রোপ্য নিয়েই অশ্রুসিক্ত চোখে ফিরতে হয়েছিল নেইমার-অস্কারদের।

২০১৪ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর ২০১৫ কোপা আমেরিকাতেও আশানুরূপ ফল এনে দিতে ব্যর্থ টিম ব্রাজিল।
২০১৬ সালে কোপা আমেরিকা শতবর্ষ উপলক্ষে আবার আয়োজন করা হয় কোপা আমেরিকার।
কোপা আমেরিকার পর পরই ঘরের মাঠে অধরা অলিম্পিক জয়ের মিশন।

বার্সা সুপারস্টার নেইমারকে নিয়েই আবার মিশনে নামতে চায় ব্রাজিল। বাধা হয়ে দাঁড়াল তার ক্লাব বার্সেলোনা। বার্সা ম্যানেজমেন্ট সাফ জানিয়ে দিল দু’টি টুর্নামেন্টে ছাড়পত্র দিতে পারবেনা নেইমারকে। হয়ত কোপা নয়ত অলিম্পিক, যে কোন একটি বেঁছে নিতে হবে তাকে।

মাথার উপর বিশাল চাপ নেইমারের। দু’টি টুর্নামেন্টই গুরুত্বপূর্ণ, শতবর্ষী কোপা আমেরিকা বেঁছে নিলে ছাড় দিতে হবে অধরা অলিম্পিক স্বপ্ন। আর অলিম্পিক বেঁছে নিলে ছাড় দিতে হবে শতবর্ষী কোপা আমেরিকা।

অনেকটা ভেবেচিন্তে শেষমেশ সিদ্ধান্ত নিলেন কোপা আমেরিকা না খেলার। চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন অধরা অলিম্পিক গোল্ড জয়ের।

ঘরের মাঠে অলিম্পিক! ব্রাজিল প্রস্তুত হচ্ছে অধরা অলিম্পিক জয়ের লক্ষে, ৬৪ বছরের হতাশার গ্লানি এবার মুছতে হবে, সব প্রাপ্তির ষোলকলা পূরণ করতেই হবে। ২০১৩ কনফেডারেশন কাপ জয়ী তারকা নেইমারকে নিয়ে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে ব্রাজিল। দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল রজারিও মিকেলের কাঁধে।

আক্রমণভাগে অধিনায়ক নেইমারের সঙ্গী গ্যাব্রিয়েল জেসুস, গ্যাব্রিয়েল বারবোসা ও লুয়ান।
মিডে রেনাতো আগুস্তো, থিয়াগো মায়া, ওয়ালেস, ফিলেপে এন্ডারসন। রক্ষণে মার্কুয়েনহোস, রদ্রিগো কায়ো, জিকা ও ডগলাস সান্তোস। গোলবারের নিচে ওয়েভারটন।

৪ আগস্ট ২০১৬…
পর্দা উঠল রিও অলিম্পিক ফুটবলের। ৫ আগস্ট নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ দঃ আফ্রিকা। কিন্তু এতদিনের প্রস্তুতি আর অলিম্পিক গোল্ড জয়ের স্বপ্নে বিভোর সেলেসাওরা প্রথম ম্যাচেই পা কাটলো পচা শামুকে!

৯০ মিনিট শেষে ফলাফল গোলশূন্য ড্র। পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও গোলের দেখা পায়নি নেইমার-জেসুসরা। চারিদিক থেকে শুরু হল সমালোচনার ঝড়।

সমালোচনার চাপ মাথায় নিয়ে ২য় ম্যাচে অপেক্ষাকৃত আরেক দুর্বল টিম ইরাকের মুখোমুখি নেইমাররা। আগের পচা শামুকে কাটা পায়ের ঘাঁ শুকানোর আগেই কাটা পায়ে লবনের ছিটা দিল ইরাক। এ ম্যাচেও ফলাফল গোলশূন্য ড্র।

অপেক্ষাকৃত ২ দুর্বল দলের সাথে পয়েন্ট হারানোর কারনে সমালোচনার ঝড়টা রীতিমত রূপ নিল ঘূর্নিঝড়ে। শুরু হল নেইমারকে নিয়ে সমালোচনা। দর্শক, মিডিয়া, সাবেক খেলোয়াড় থেকে শুরু করে কেও বাদ যায়নি নেইমারের সমালোচনাকারীর তালিকা থেকে।

ব্রাজিল দর্শকরা এতটাই হতাশায় পুড়ে যে, নেইমারের জার্সি ছেড়ে বাধ্য হয় প্রমিলা ফুটবলার মার্তার জার্সি বেছে নিতে। এ যেন চ্যালেঞ্জ নিতে গিয়ে নিজেই পড়লেন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জে।

গ্রুপের শেষ ম্যাচ রূপ নিল বাঁচামরার লড়াইয়ে।
প্রতিপক্ষ ইউরোপীয়ান টিম ডেনমার্ক। চাপের পাহাড় কাঁধে চেপে মাঠে নামে ব্রাজিল। শুরু থেকেই ক্ষুধার্ত বাঘের ন্যায় ডেনিশদের রক্ষণে ঝাঁপিয়ে পড়ে নেইমার-জেসুসরা।

ফল পেতেও দেরি হয়নি ব্রাজিলের। ২৬তম মিনিটে লেফট ব্যাক ডগলাস সান্তোসের এসিস্টে আসরে দলের হয়ে প্রথম গোলের খাতা খুলেন গ্যাব্রিয়েল বারবোসা। বিরতির আগে লুয়ানের এসিস্ট থেকে স্কোরবোর্ডে নাম লেখান গ্যাব্রিয়েল জেসুস।
বিরতির পর এবার স্কোরার লুয়ান, এসিস্ট আসে ডগলাস সান্তোসের পা থেকে।

৮০ মিনিটে গোলবন্যার সমাপ্তি ঘটিয়ে নিজের ২য় এবং দলের চতুর্থ গোল করেন গ্যাব্রিয়েল বারবোসা।

বাঁচামরার ম্যাচে ব্রাজিল জয় পায় ৪-০ গোলে। ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায় মিকেলের শিষ্যরা।

কিছুটা হলেও বন্ধ হয় সমালোচকদের মুখ, নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু হয় অধরা অলিম্পিক জয়ের।
পুরো ম্যাচ ডেনমার্কের গোলবার লক্ষ্য করে ২০ টি শট নেয় ব্রাজিল, যার ১৩ টিই ছিল অন টার্গেটে।

কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া।

ম্যাচের ১২তম মিনিটে আসরে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান অলিম্পিক জয়ের সবচেয়ে বড় স্বপ্নসারথি নেইমার জুনিয়র।

ডি বক্সের বাহির থেকে দুর্দান্ত ফ্রি কিকে বল জালে জড়ান তৎকালীন বার্সা সুপারস্টার নেইমার। খেলার শেষ দিকে ৮০তম মিনিটে ডি বক্সের বাহির থেকে লুয়ানের দুর্দান্ত শট খুঁজে পায় কলম্বিয়ার জাল। ২-০ গোলের জয় নিয়ে সেমির টিকেট কাটে টিম ব্রাজিল।

সেমিতে প্রতিপক্ষ হন্ডুরাস।
শুরু হল ফাইনালে টিকেট কাটার লড়াই। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ১৪ সেকেন্ড। কিছু বুঝে উঠার আগেই বল হন্ডুরাসের জালে। অলিম্পিক জয় করে ইতিহাস হওয়ার আগেই অলিম্পিক রেকর্ড বুকের ইতিহাসে ঠাই করে নেন নেইমার জুনিয়র।

অলিম্পিক ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম গোল করে সমালোচক আর নিন্দুকের চোখে আঙ্গুল দিয়ে গোলবন্যার সূচনা করেন নেইমার। এরপরের সময়টা শুধুই ব্রাজিলের। হন্ডুরাসকে নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা শুরু করে নেইমার-জেসুস-লুয়ানরা। গুনে গুনে ৬ বার হন্ডুরাসের জালের ঠিকানায় বল পৌঁছে দেয় টিম ব্রাজিল।

নেইমারের গোলের পর লুয়ান ও নেইমারের এসিস্ট থেকে ২৬ ও ৩৫ মিনিটে জোড়া গোল করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস।

বিরতির পর নেইমারের কর্ণার থেকে এবার স্কোরবোর্ডে নাম লেখার ডিফেন্ডার মার্কুয়েনহোস।
৭৯ মিনিটে বদলি নামা এন্ডারসনের এসিস্টে ব্যবধান ৫-০ করেন লুয়ান। অতিরিক্ত সময়ে ডি বক্সে লুয়ানকে ফাউল করলে পেনাল্টি থেকে হন্ডুরাসের জালে শেষ পেরেক মারেন নেইমার।
২ গোল ২ এসিস্টের মাধ্যমে সব আলো নিজের করে নিয়ে ম্যাচসেরা হন ২৪ বছর বয়সী তারকা নেইমার জুনিয়র। ৬-০ গোলের বিশাল জয়ে টানা ২য় বারের মত অলিম্পিকের ফাইনালে পৌঁছায় ব্রাজিল।

২০১২ সালের পর আবারো অলিম্পিক ফুটবলের ফাইনালে ব্রাজিল। অধরা অলিম্পিক স্বর্ণ জয়ের খুব কাছে নেইমাররা। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর বয়ে যাওয়া অলিম্পিক স্বর্ণপদক জয়ের আক্ষেপটা এবার হয়ত ঘুঁচবে নেইমারের হাত ধরে।

৮০ হাজার দর্শকে ভরপুর ঐতিহাসিক মারাকানায় তিল ধরানোর জায়গা নেই। হলুদের মেলায় জনসমুদ্রে পরিণত মারাকানা। টিভি সেটের সামনে কোটি ভক্তের অপেক্ষা একটি জয়ের। কারো মধ্যে নেই কোন ভয়ের ছাপ, সবারই বিশ্বাস কিছু একটা হবে! নেইমার আজ ঠিকই আক্ষেপ ঘোঁচাবে।

ফাইনালের প্রতিপক্ষের নাম জার্মানী, এই জার্মানীর সাথে ২ বছর আগে নেইমারহীন ব্রাজিল সম্মুখীন হয়েছিল তাদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডির।

প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে পুরো ব্রাজিল। তবে সেলেসাও শিবিরে ভয়টাও ছিল প্রখর। ৮০ হাজার দর্শক সাপোর্ট দিতে এসেছে ঠিকই, কিন্তু নেইমারদের কাছে যেন এই দর্শকরাই আসল প্রতিপক্ষ।

ঘরের মাঠে এবার যদি কোন ভুল হয়, যদি কোন অঘটন ঘটে এবার যে আর ক্ষমা নেই! স্বপ্ন পূরণ থেকে মাত্র ১ পা দূরে ব্রাজিল।

চাপের উপর চাপ! দর্শকের চাপ! মিডিয়ার চাপ! আছে ভয়-শঙ্কা! বিশ্বকাপে লজ্জাজনক হারের প্রতিশোধের চাপ! মাথার উপর পাহাড়সম চাপ! তারপরও আছে বিশ্বাস!

ব্রাজিল এবার পারবেই! পারতেই হবে! বাংলাদেশ সময় ২১ আগস্ট রাত ২:৩০ মিনিটে শুরু হল ফাইনালের লড়াই।

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমনে এগিয়ে চলছে খেলা।
২৭ মিনিটে ডি বক্সের বাহিরে ফ্রি কিক পায় ব্রাজিল। বল বসালেন নেইমার, নিলেন শুট……

জার্মান গোলরক্ষক ফাঁকি দিয়ে বল জড়ালো জালে। উল্লাসে ফেটে পড়ল পুরো মারাকানা নেইমার..নেইমার স্লোগানে উত্তাল পুরো স্টেডিয়াম।
এ ছেলেটা ২ বছর আগে বিশ্বকাপের ম্যাচে থাকলে হয়ত সেই লজ্জায় পড়তে হতনা ব্রাজিলের।
উত্তাল মারাকানায় হঠাৎ নেমে এলো নিরবতা। ৮০ হাজার দর্শকের উল্লাসে জল ঢেলে ৫৯ মিনিটে সমতায় ফিরল জার্মান!

সবার কপালে চিন্তার ভাজ, মারাকানা জুজুর ভয় কাজ করছিল সবার মনে। ১৯৫০ বিশ্বকাপেও এভাবে এগিয়ে থেকে শেষমেশ উরুগুয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল।

ভয়কে আরো বাড়িয়ে দিয়ে ১-১ সমতায় শেষ হল ম্যাচের নির্ধারিত সময়। হিটলারের দেশ পুরো ৯০ মিনিট লড়াই করল সমানতালে। ম্যাচ গড়ায় এক্সট্রা টাইমে।

রোমাঞ্চ আর নাটকীয়তায় ভরপুর ম্যাচে ১২০ মিনিটে ম্যাচের আধিপত্য নেইমারদের হাতে থাকলে আর কোন গোলের দেখা পায়নি নেইমারের দল। ৮০ হাজার দর্শকের কানফাটা চিৎকারের মধ্যেও জার্মান তরুণরা খেলা নিয়ে যায় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারে দু’দলের প্রথম ৪ শ্যুট গোল! জার্মানদের পঞ্চম শট নিতে আসা পিটারসনের শট দক্ষতার সাথে ফিরিয়ে দেন ব্রাজিল গোলরক্ষক ওয়েভারটন! গর্জে উটে পুরো মারাকানা।
শেষ শট নিতে আসছেন স্বপ্নসারথি নেইমার!
গর্জনশীল মারাকানা জুড়ে এখন নীরবতা, সবার চোখ নেইমারের দিকে, নেইমার গোল দিতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নেইমার কি পারবে আজন্ম আফসোস ঘুঁচিয়ে ইতিহাস রচনা করতে?
অবসান ঘটবে কি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর বয়ে যাওয়া আক্ষেপের? চোখের সামনে ভাসছে ব্রাজিল ফুটবলের চির-আক্ষেপ অলিম্পিক স্বর্ণ!
নেইমার আসলেন, বল বসালেন, সব সমালোচনার জবাব দেওয়ার এটাই সময়।

মঞ্চ প্রস্তুত ব্রাজিলের প্রথম স্বর্ণজয়ের। ঠাণ্ডা মাথায় নেইমার নিলেন শ্যুট…!!!!
কোটি ভক্তের প্রত্যাশার চাপ জয় করে নেইমার করলেন গোল……. উল্লাসে মাতোয়ারা পুরো মারাকানা!!

কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন নেইমার সহ পুরো দল।
নিয়তিই বোধহয় ঠিক করে রেখেছিল নেইমারের শট হবেই ফল নির্ধারক। নেইমার হাত ধরেই পূর্ণতা পেল সব পাওয়ার ষোলকলা।

৪ বছর আগে লন্ডন অলিম্পিকের ফাইনাল হেরে যেভাবে কেঁদেছিলেন নেইমার, ৪ বছর পর মারাকানাতেও এভাবে কাঁদলেন নেইমার, তবে এবার আর দুঃখের কান্না নয়, এ কান্না যে আনন্দের!
যে কান্নার জন্য যুগ যুগ ধরে লিজেন্ডরা লড়াই করে ফিরেছেন ব্যর্থ হয়ে। চাপকে জয় করে নেইমার আরেকবার প্রমাণ করলেন নিজেকে…!

ইতিহাস রচনা করে দিলেন সব সমালোচনার জবাব। পায়ের জাদুতে মুগ্ধ করলেন পুরো বিশ্বকে!
মিডিয়াপাড়া থেকে শুরু করে হেটার্সরাও প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেইমারের। এ যে যুগের পর যুগ বয়ে যাওয়া আক্ষেপের হল অবসান। ফুটবলের সবচেয়ে সফল দলটির একমাত্র অপ্রাপ্তি-র হল পরিসমাপ্তি।
শতভাগ পূর্ণতা পেল ব্রাজিলের ফুটবল মিউজিয়াম।

পেলে থেকে শুরু করে সব লিজেন্ডারি ফুটবলারদের অভিনন্দন বার্তায় শুধুই নেইমারের প্রশংসা।

মারাকানার বিজয়মঞ্চে একে একে গোল্ড মেডেল গলায় ঝুলিয়ে বীরের মত দাঁড়িয়ে আছে টিম ব্রাজিল।

ব্রাজিল জাতীয় সংগীত বাজছে, ৮০ হাজার দর্শক সমানতালে গাইছে নেইমারদের সাথে। সবার চোখেই জল! এ জলটা যে বড়ই আনন্দের…!