শুভ জন্মদিন ‘যাদুকর’ লিওনেল মেসি

0
21

জন্মের পরের সময়টা একেবারেই ভাল যায়নি তার। পৃথিবীতে এসেছিলেন একরাশ অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে। হাতে পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল তাও বলা যাবেনা।
হরমোনের কারনে এক শারীরিক সমস্যা, দশটা ছেলের মতো সমানভাবে বেড়ে না উঠতে না পারা, অনেক টাকার মামলা তাই একটা সময়ে গিয়ে ডাক্তারের চিকিৎসা না পেয়ে করে হাসপাতাল থেকে ফিরে আসা, তার মধ্যে স্টিল ফ্যাক্টরীতে কাজ করা জর্জের বেতনও ছিল কোনরকম, একার আয়ে সংসারও আর চলে উঠত না, স্ত্রী সিলিয়াও কাজ করতেন একটা কারখানায়। যেই স্বাস্থ্য বীমা করে কোনরকম কানাকড়ি ছিল, সেটা দিয়েও বেশীদিন এই চিকিৎসার খরচ চালানো সম্ভবও হয় নি।

এগুলো দেখে হঠাৎ ফুটবল দেবতা মৃদু হাসলেন ঘটনা বশত ভাগ্যক্রমে তার প্রতি নজরে আসে কাতালান রাজ্যের এক ক্লাবের। নাম তার বার্সেলোনা। সুদূর কাতালান রাজ্যের বার্সেলোনা থেকে একজন এসে চুক্তিতে সব ব্যয়ভার বহন করল। হাতের কাছে কাগজ না থাকায় টিস্যুতে কিনা চুক্তি হয়েছিল। অতঃপর সকল কিছু উপেক্ষা করে ইশ্বর যে তাকে তৈরিই করেছিলেন বা পায়ের ক্ষুদে যাদুকর হিসেবেই ফুটবল মাঠে যাদু দেখাবেন এটাই ছিল ইশ্বরের বিশ্বাস তা প্রমাণ পেল মানবজাতি।

এরপর আর ফিরে তাকাতেই হয়নি, একদম ছোকরা ছেলে, নতুন এসেছেন ফুটবলে! এসেই সেদিন ৮০ হাজার বার্নাব্যুয়ের দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়ে জানান দিয়ে বললেন তোমরা ঘটা করেই বরন ডালা নিয়ে প্রস্তুত হও আমি আসছি! চারিদিকে সবাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, আমার সাথেও হয়ে গেল তার প্রথম পরিচয়!

ইতিহাস মুছে না গেলে মেসি নাকি রোনালদো- কে সেরা ছিল বর্তমান সময়ে তর্ক চলমান থাকবে অনন্ত এক মহাকাব্যের মত! উদাহরণস্বরুপ রোনালদো যদি হয় থাকে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির রক এন্ড রোল তবে সেখানে মেসি বল পায়ে হবেন নন্দনের সূর তোলা ক্লাসিক জাদুকর! গঠন মূলক তর্ক অবশ্য থাকতেই পারে তবে এটা কোন ভাবেই অস্বীকার করা যাবে না যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেজাল্ট নির্ভর ফুটবলের মাঝে লিওনেল মেসি দিয়েছিল চোখা ধাধানো ড্রিবলিংয়ের মায়ায় এক ক্লাসিক ফুটবল, রিফ্রেশিং পাসিং ফুটবল। যা গেঁথে রবে আজীবন।

ভক্তদের অসংখ্য অর্জন উপহার ও স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি রাইভালদের বহু স্বপ্ন ভঙ্গের কারণ তিনি ,অসংখ্য সুখের মুহূর্ত বিনষ্টকারী, শত শত দুঃস্বপ্নের কারণ, কত ঘুম নষ্টের কারণ এরপরেও তিনি সবকিছুর উর্ধ্বে।

রিও-ডি জেনিরো থেকে সান্তিয়াগো, সেখান থেকে নিউজার্সি, মেসি দাপিয়ে বেড়িয়ে ক্রমাগত ছুটেই চলছেন একটা ইন্টান্যারশনাল ট্রফির আশায়! পেলে-ম্যারাডোনার ক্রুইফের সাথে তুলনাটা যায় কিনা জানিনা, ক্রিশ্চিয়ানো সেরা না মেসি সেরা সেটা নিয়েও ভক্তদের মধ্যে আছে বিতর্ক। তবে রাইভালের খাতিরেও ব্যাক্তিগত মেসিকে কোনদিন বিন্দুমাত্র হেট করতে পারি নাই! আর পৃথিবীতে কিছু মানুষ বা জিনিস রয়েছে যাদের সম্পর্কে একদমই লিখা যায়না, তার মধ্যে আপনি একজন!

পৃথিবীতে আর্ভিভাবের পর বর্ষ পঞ্জিকার পাতা পাল্টেছে ৩৩ বার, ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সৌভাগ্য হয়েছে ৩৪ বার! ক্যারিয়ারের ক্রান্তিলগ্নে এসে পড়েছেন! ২-১ বছর এরপর হয়তো বুটজোড়া তুলে বিদায় জানাবেন ফুটবলকে! তবে আপনাকে মনে পড়বে কতবার যে আপনার দলের হার দেখার জন্য কত ঘুম ভাঙতে হয়েছে, রাত জেগেছি, চোখের নিচে কালো দাগ ফেলেছি! যখনই এগুলো মনে পড়বে আমিও নস্টালজিক হবো, স্মৃতির পাতায় স্বর্নাক্ষরে লেখা হরফে সব কিছু রোমন্থন করতে চাইবো! চশমার কাচে পড়তে পড়তে বাম্প জমে যাবে!
৩০ নম্বর জার্সি গায়ে ক্যাম্প ন্যুর ঘাসে আবির্ভাব, সেই একবিংশ শতাব্দীর সময় শেষে আমিও পড়াশোনা প্রায় শেষ করে ব্যস্তজীবনে চাকুরীর বাজারের খুব সন্নিকটের খরিদ্দার, এখন বিদায়বেলা, পড়ন্ত বিকেল গোধুলিলগ্ন… বিদায়বেলা! এরপর হয়তোবা আপনিও দুই হাত তুলে ধন্যবাদ জানাবেন আপনার ইশ্বরকে আর সঙ্গী থাকবে আপনার ভক্তকূল! আহ জীবন! তুমি বড়ই সুন্দর!

রাইভালের পক্ষ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা নিবেন। হে যাদুকর যতদিন পারেন শিল্পীর কারুকাজ ধরে রাখেন !