বার্সা এটলেটিকোর মাথায় হাত, আড়ালে রিয়ালের স্বস্তি!

0
41

সময় যতো গড়াচ্ছে স্পেনের ঘরোয়া লীগে উত্তেজনাও যেনো বাড়ছে। স্রেফ বলার জন্য বলা নয়, আদতেই শিরোপা লড়াইয়ে অনেকটা আগুনে ঘিই ঢেলে দিচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা আর টেবিল টপার সিমিওনের এটলেটিকো মাদ্রিদ। গতকাল রাতে সিমিওনে আর কোম্যানের ট্যাকটিসের লড়াইয়ে ফল এসেছে শুন্য, সুযোগ টা তাই এবার জিনেদিন ইয়াজিদ জিদানের।

নূ ক্যাম্পে আবারও লুইস সুয়ারেজ, প্রেয়সীর ঘরে ফেরা অন্যের ভালোবাসা হয়ে। তারপরও যেনো কাতালনরা তাকে স্বাগত জানাতে ব্যস্ত। কাছের বন্ধু সুয়ারেজকে পেহে আপ্লূত লিওনেল মেসিও। ঐদিকে এটলেটিকোকে হারাতে পারলেই লীগ টেবিলের সবার উপরে এমন সমীকরণে কোম্যান বেছে নিলেন তার ৩-১-৪-২ ফর্মেশন। আর রক্ষণাত্মক সিমিওনে তার ট্রেডমার্কেই স্বস্তি খুঁজতে চাইলেন। ডিফেন্স সামলে আক্রমণে যেতে এই আর্জেন্টাইনের পছন্দ ৪-৪-২ ফর্মেশন।

ম্যাচের শুরুতেই ফাউলের শিকার লিওনেল মেসি, হিসাব করলে দেখা যায় প্রথম ১০ মিনিটেই মেসিকে রুখতে ফাউল করতে হয়েছে ৩ বার। অনেকটা মেসিকে আঁটকাও, এরপর ম্যাচ বের করে নেও। ২০ মিনিটের দিকে ম্যাচে প্রথম সুযোগ পায় এটলেটিকো যা কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেয় লেংলেট। ৮ মিনিট পর এবার সুযোগ পায় স্বাগতিকরা, কিন্ত সাবেক এটলেটিকো মাদ্রিদের ফুটবলার গ্রিজম্যানের বাঁ পায়ের দুর্বল শট সহজেই গ্লাভসবন্দী লরেন অবলাক। প্রথমার্ধে এরপর আর গোল না হলেও চড়া মাসুল দেয় কাতালানরা। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের মিডফিল্ডের মূল ভরসা সার্জিও বুস্কেটসকে। হাফ টাইমের বাশি বাজার আগে আক্রমণ যা হয়েছে ঐ মেসি আর সুয়ারেজেরই। এ প্রান্তে অবলাক ত ঐ প্রান্তে টার স্টেগান। মাঝে লরেন্তে চেষ্টা করলেও ফল শূন্য। গোলশুন্য ড্র নিয়েই তাই ডাগ-আউটে ফিরে দুই দল।

প্রথমার্ধের মতোই দ্বিতীয়ার্ধেও চলতে থাকে মেসিকে রুখে দেওয়ার মন্ত্র। যদিও তাতে আক্রমণের ধার কমেনি কোম্যানের শিষ্যদের। কিন্তু সব আক্রমণ খেই হারিয়ে ফেলে সিমিওনের সবচেয়ে বড় ভরসা অবলাকের সামনে গিয়ে। একই চিত্র দেখা যায় এ প্রান্তেও। নূ ক্যাম্পের প্রত্যাবর্তন রাঙিয়ে তুলতে পারো লুইস সুয়ারেজও। যদি না তার সামনে দেয়াল হয়ে না দাঁড়িয়ে থাকতো তারই সাবেক টিমমেট একজন স্টেগান। আক্রমণের পর আক্রমণ হয়েছে। প্রতি আক্রমণে ডিফেন্স ভেঙেছে কিন্তু বল জালে জড়াতে পারে নি একজনও। ফলে দিনশেষে ফলাফলও হয়েছে শুন্য। আর তাতে লাভ টা হয়েছে এই ম্যাচের আশেপাশেও না থাকা রিয়াল মাদ্রিদের। সদ্য চ্যাম্পিয়নস লীগের রেস থেকে বাদ পরে এবার তাই লা-লীগার দিকেও কড়া নজর দিতে পারে জিনেদিন জিদান।

৩৫ ম্যাচ শেষে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে এটলেটিকো মাদ্রিদ। সমান ম্যাচে ৭৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে বার্সেলোনা। আর এক ম্যাচ কম খেলে ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। আজ সেভিয়ার বিপক্ষে জিতলেই সুযোগ থাকছে সবার উপরে উঠে যাওয়ার। শুধু তাই না, লীগের বাকি ৪ ম্যাচই যদি জিতে যায় রিয়াল মাদ্রিদ, তবে চোখবন্ধ করেই এবারের চ্যাম্পিয়নও হচ্ছে জিদানের ইঞ্জুরি জর্জরিত এই দলটা। এতো আঘাত প্রতিঘাত সয়েও জিদানের দলের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া হবে এই শিরোপা। যা এখন পুরোটাই নিজেদের দায়িত্বে। শেষ ৪ ম্যাচে মূল্যবান ১২ পয়েন্ট লুফে নিতে পারলেই পেয়ে যাবে আরাধ্যের শিরোপা। বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না কেউই। মাঠের বাইরে জিদানের মাস্টারক্লাস আর আক্রমণভাগে আরেক ফ্রেঞ্চম্যান বেনজেমার নিখুঁত ফিনিশিং। আরেকবার কি হবে তবে আলা মাদ্রিদের গান? বাঁজবে কি সেই চিরচেনা সূর? দেখার অপেক্ষায় থাকছে পুরো ফুটবল বিশ্ব৷ দেখাই যাক, শত কষ্টেও উল্লাস করতে পারে কি না রিয়াল মাদ্রিদের ভক্তরা।