জন্মদিনের শুভেচ্ছা রবার্তো কার্লোস

0
68

২০০৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল চলছে, মুখোমুখি ব্রাজিল ও ফ্রান্স। ম্যাচের ৫৬ মিনিটের মাথায় ডি বক্সের ডানপাশ থেকে ফ্রী-কিক নিচ্ছেন জিনেদিন জিদান, ডি বক্সে থিয়েরি অঁরি’কে পাহাড়া দিচ্ছিলেন সময়ের সেরা লেফটব্যাক রবার্তো কার্লোস, জিদানের কিক’টি নেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তেই কি যেনো ভেবে অঁরি’কে পাহাড়া দেওয়া কার্লোস গেলেন জুতোর ফিতে বাঁধতে, বল আসলো অঁরি তা রিসিভ করে অসাধারণ এক গোল’ও করে বসলেন, অথচ রবার্তো কার্লোস তখন’ও জুতোর ফিঁতে বাঁধছিলেন!

শুধু ব্রাজিলের খেলোয়াড়েরা কিংবা দর্শকরাই নন, বরং মাঠে থাকা খোদ ফরাসি খেলোয়াড়রাই হয়তো বিশ্বাস করতে পারেননি, রবার্তো কার্লোস’ও এমন খামখেয়ালিপনা করতে পারেন!

কার্লোসের এই অদ্ভুত ভুলের মাশুলবাবদ কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বাদ ব্রাজিল; চাপা ক্ষোভ, অভিমান কিংবা রাগ যাই পুঁষে রাখেন না ক্যান, মানুষটার নাম যখন রবার্তো কার্লোস তখন একজন ফুটবলার নামক সুপারহিউম্যানের অবিশ্বাস্য সব কীর্তিতে আপনি যতবার বুঁদ হয়েছেন তাতে সেই ক্ষোভ অভিমান কিংবা রাগ একরাশ মুগ্ধতার সুবাতাস বইয়ে দেয়, ভালোবাসার বৃষ্টি ঝড়িয়ে যায়!

রবার্তো কার্লোস বলতে আপনি কি বুঝেন?? ফ্রান্সের বিপক্ষে তার সেই বিখ্যাত গোল?? যা কিনা বিজ্ঞানীদের বাধ্য করেছিলেন তার গোলটাকে ব্যখ্যা করার জন্যে‌!!

রবার্তো কার্লোস বলতে আপনি কি বুঝেন?? ৯০ মাইল বেগে দ্রুতগতির শট?? নাকি ২৩ ইঞ্চি পরিধির উরু, যা কিনা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চির একজন মানুষের জন্যে অবিশ্বাস্য?! নাকি শরীরে ৭ শতাংশ চর্বি ধারণ করা একজন, যেখানে একজন ফুটবলারের যা হয় কমপক্ষে ১৫ শতাংশ!? নাকি ২১ মাইল বেগের দৌড়, যা কিনা দৌড়বিদদের প্রতিযোগিতায় ফেলানোর জন্যে যথেষ্ট!? নাকি ২৬ ইঞ্চি উচ্চতা পর্যন্ত শূণ্যে লাফ দিতে পারাটা, যেখানে অন্যান্য ফুটবলারদের গড় ২১ ইঞ্চি পর্যন্ত!?

রবার্তো কেবল ফুটবলার নন, তিনি হলেন অবিশ্বাস্য এক মানুষের নাম!! বুলেট ম্যান! সুপার হিউম্যান! যিনি গতি আর বল কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর প্রত্যেক গোলরক্ষককে তটস্থ করেছেন, তব্দা খাইয়েছেন ফুটবল দর্শকদের, একবার দুবার নয়, বারেবারে, পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে!!

দারিদ্র্য, শূন্যতা, অভাব, ক্ষুধা আর সংগ্রাম; প্রত্যেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের বেড়ে ওঠার গল্পগুলো এক রকমই – পরিবারের অভাব অনটন মেটানোর জন্য ছেলেবেলাতেই মাত্র নয় বছর বয়সে তাঁকে যোগ দিতে হয়েছিল কফির বাগানে, এছাড়া একটি টেক্সটাইল কারখানাতেও কাজ করেন করেছিলেন।

অথচ দিনের ক্লান্তি পরিশ্রান্তি রবার্তো কার্লোসকে ফুটবল বিমুখী করতে পারেনি, সারাদিন ঘন্টার হাড়ভাঙা খাটুনির পর’ও ফুটবল নিয়ে দাপিয়েছেন! পরণে হাফপ্যান্ট, জামা, নেই খেলার বুট কিন্তু ফুটবল পায়ে দরিদ্রতার লেশহীন উচ্ছ্বাস বাবা মা’কে স্বপ্ন দেখিয়েছিলো ছেলেকে বড় ফুটবলার বানানোর!

শক্তি, গতি, টেকনিকাল দক্ষতা – নাম ডাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে সময় নেয়নি! ১৯৯১ সাল, রবার্তো কার্লোস সাও জোয়াও-এ পেশাদার ফুটবলার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। সেই মৌসুমেই মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ব্রাজিলের জাতীয় দলে ডাক পেলেন তিনি।সাও জোয়াও-এ দুই বছর কাটানোর পর নাম লেখালেন ব্রাজিলের পালমেইরাস ক্লাবে। পালমেইরাসে ২ মৌসুম কাটিয়ে জিতলেন ২টি ব্রাজিলিয়ান লিগ সহ ৫টি শিরোপা। এরপর ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলান, সেখান থেকে কার্লোস পাড়ি জমালেন ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে, প্রবেশ করলেন গ্যালাক্টিকো অধ্যায়ে। এরপর রবার্তো কার্লোস কেবলই নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন, নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়, সফলতার শিখরে!

ক্যারিয়ারে যতটুকু সফল তিনি, ততটাই তার অতিমানবিক শৈলিতে নিজেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছেন, খ্যাতি পেয়েছেন “বুলেটম্যান” নামে, “সুপার হিউম্যান” নামে!

শুভ জন্মদিন রবার্তো কার্লোস, জন্মদিনের শুভেচ্ছা নিয়েন!