রোনালদোর অনুপ্রেরণায় কোমা থেকে ফিরে আসা ডেভিড

0
54

ফুটবল-ক্রিকেটসহ সবধরণের খেলা আমাদের প্রায় সবার জীবনেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারো কম, আবার কারো বেশি। তবে কিছু কিছু গল্প একদমই ভিন্ন যা ছাপিয়ে যায় সবাইকে, সবকিছুকে। পোলিশ কিশোর ডেভিড পল্যাকজিকের গল্পটা ঠিক তেমনই।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যার বিচরণ ফুটবল মাঠ থেকেও বাইরে চলে গিয়েছে অনেক আগেই। রাইভালদেরও অনেকে যাকে দেখে অনুপ্রেরণা হিসেবে। বিশ্বের লক্ষকোটি ভক্তের মধ্যে ডেভিডও পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশাল একজন ভক্ত। তার শোবার ঘর পুরোটা জুড়েই শুধু সিআরসেভেন। রোনালদো যেন তার জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

ঘটনাটা ২০১৩ সালের। অন্যান্য পোলিশদের মত ১৫ বছর বয়সী ডেভিডও সাইক্লিং করতে খুব পছন্দ করতো। প্রতিদিনের মতই কোনোএকদিন সকালে বের হলো সাইকেল নিয়ে। বাসা থেকে কিছুদূর গিয়ে করে বসে বেশ বড় ধরনের এক এক্সিডেন্ট। ডাক্তারদের যথাসাধ্য চেষ্টায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে প্রানে বাঁচলেও ডেভিড চলে যায় কোমায়। টানা ৩ মাস তার থাকতে হয় হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে। ডেভিডের বাবা-মা’ও ছেলের শোকে ধীরে ধীরে পাথর হতে থাকে। যেই ছেলেটা সারাক্ষণ ফুটবল, সাইক্লিং নিয়ে হুটোপাটির মধ্যে থাকে, আজ সেই ছেলেটাই ৩ মাস ধরে একই বিছানায় পড়ে আছে। মেনে নেয়ার মত না।

আর কোনো উপায়ান্তর না দেখে ডাক্তাররা শরণাপন্ন হলেন এক নিউরোসার্জনের। তিনি পরামর্শ দিলেন ডেভিডের প্রিয় জিনিসগুলো তার কান পর্যন্ত পৌঁছে দিতে। এতে করে ডেভিডের চেতনা ফিরলেও ফিরতে পারে। সব চেষ্টাই যখন করা হয়ে গেছে তখন এই ছোট চেষ্টাটাও বা বাকি থাকবে কেনো? বাবা-মা জানালেন তাদের ডেভিড ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর খুব বড় ভক্ত। সশরীরে রোনালদোকে হাজির করা না গেলেও টেলিভিশনে চালু করে দেয়া হলো রোনালদোর খেলা সুইডেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচটি। সেখানেই ঘটে অলৌকিক বা অবিশ্বাস্য সেই ঘটনাটি।

রোনালদোর সেই সুইডেনের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটা সম্বন্ধে প্রায় সবারই জানা। ম্যাচে একাই ৩ গোল করে ইব্রাহিমোভিচের সুইডেনকে হারিয়ে অবাক করে দিয়েছিলো সারা বিশ্বকে। ম্যাচটা টেলিভিশনে চালু করার পর রোনালদোর গোলের পর সেই ধারাভাষ্য পৌঁছে যাচ্ছিলো ডেভিডের মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রে! প্রিয় রোনালদোর গোলের ধারাভাষ্যে ৩ মাস কোমায় থাকা ডেভিড চোখের পলকেই জেগে উঠলো হাসপাতালের সবাইকে অবাক করে দিয়ে।

এটা গল্পের মত লাগলেও কাহিনীটা একদমই বাস্তব। বিভিন্ন পত্রিকার শিরোনামে উঠে আসে ডেভিডের সেই কাহিনী যা চোখ এড়ায় না স্বয়ং রোনালদোরও। মাদ্রিদে আমন্ত্রণ জানায় ডেভিড ও তার বাবা মা’কে। ঘটনার ২০১৬ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে লিগা ওয়ারসোর বিপক্ষে ম্যাচের দিন ডেভিড উপস্থিত হয় তার বাবা-মা’কে নিয়ে। সাক্ষাৎ করে তার আইডল ও অনুপ্রেরণা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সাথে। সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে রোনালদো বলেন, “ও এখন ভালো আছে দেখে আমি খুশি। আগে থেকে এখন সে বেশি সুস্থ এবং স্বাস্থ্যবান।” যদিও এর আগে ২০১৪ সালে বার্নাবেউয়ে মাদ্রিদের আমন্ত্রণে আরো একবার এসেছিলো ডেভিড। সেবার মাদ্রিদ-ডর্টমুন্ডের ম্যাচও উপভোগ করেছিলো।

আসলে এমনসব গল্পগুলো খুব ছোট্ট পরিসরে ভাবা গেলেও আসলে ভাবা উচিত না। এগুলো ভাবতে বে বিশ্লেষণ করতে হয় মনপ্রাণ উজাড় করে। ফুটবল খেলাটা যে শুধু ফুটবলের মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না তার চরম একটা উদাহরণ ডেভিড পল্যাকজিকের এই কাহিনীটা।