যেভাবে হবে ২০২৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপ

0
1670

এখনও ২০১৯ বিশ্বকাপ আসতে বেশ কিছুটা দেরি আছে। এর মধ্যেই ২০২৩ বিশ্বকাপের চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছে আইসিসি। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা বিশ্বকাপের কোয়ালিফিকেশন পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। আইসিসি প্রেস বিজ্ঞপ্তি মারফত জানিয়ে দিয়েছে যে, যোগ্যতা অর্জনের নতুন প্রক্রিয়ায়। কি সেই প্রক্রিয়া, সেই আলোচনাই তুলে ধরছি।

২০২৩ ভারত বিশ্বকাপের জন্য নতুন কোয়ালিফাইং সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে আইসিসি। যেখানে ৩২ টি দল ৩ টি লীগে লড়াই করবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর থাকছেনা পুর্বের কোন রেটিং পয়েন্ট, প্রতিটি দল ০ থেকে শুরু করবে, পরবর্তী ম্যাচের পর নতুন রেটিং পয়েন্ট যোগ হবে এবং নতুন রেংকিং প্রকাশ হবে।

থাকছে ৩ টি লীগ; সুপার লীগ, লীগ ২, চ্যালেঞ্জ লীগ!

যেখানে সুপার লীগে থাকছে মোট ১৩ টি দল; বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, উইন্ডিজ, সাউথ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড। এই লীগে প্রতিটি দল মোট ২৪ টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। ১৩ টি দলের টপ ৮ দল (হোস্টসহ) বিশ্বকাপের মুল পর্বে সরাসরি জায়গা করে নিবে। আর বাকি ৫ দল বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে সরাসরি অংশ নিবে। এই লীগ চলবে মে-২০২০ থেকে মে-২০২২ পর্যন্ত।

লীগ ২ এ থাকছে ৭ টি দল। বর্তমান ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লীগের স্ট্রাকচার অনুযায়ী, ১৪-২০ পর্যন্ত৷ স্কটল্যান্ড, আরব আমিরাত, নেপাল, পাপুয়া নিউগিনি, হংকং, কানাডা, নামিবিয়া। এই লীগের প্রতিটি দল মোট ৩৬ টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। ৭ টি দলের টপ ৩ টি দল বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে সরাসরি অংশ নিবে। আর বাকি ৪ টি দল বাছাইয়ের প্লে অফে অংশ নিবে। এই লীগ চলবে জুলাই-২০১৯ থেকে ডিসেম্বর-২০২২ পর্যন্ত।

চ্যালেঞ্জ লীগ এ থাকছে ১২ টি দল। বর্তমান ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লীগের স্ট্রাকচার অনুযায়ী, ২১-৩২ পর্যন্ত৷ ওমান, কেনিয়া, সিংগাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, উগান্ডা, ডেনমার্ক, মালয়েশিয়া, জার্সি, ভানুয়াতু, বার্মুডা, কাতার, ইতালি/ জার্মানি/ ঘানা। এই লীগ কে দুই ভাগে ভাগ করা হবে, লীগ A এবং লীগ B, যেখানে ২ লীগের চ্যাম্পিয়ন বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে অফে অংশ নিবে। এই লীগ চলবে আগস্ট-২০১৯ থেকে জানুয়ারী-২০২২ পর্যন্ত।

বাছাইপর্বের প্লে অফের ৬ দলের সেরা ২ দল বাছাইপর্বে খেলার সুযোগ পাবে, এবং বাছাইপর্বে প্লে অফের ২ দল সাথে লীগ ২ এর সেরা ৩ দল এবং সুপার লীগের নিচের ৫ দল অংশ নিবে (পুর্বে উল্লেখিত)। বাছাইপর্ব শেষে ২ টি দল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।

আইসিসি-র সিইও ডেভিড রিচার্ডসন বললেন, “নতুন এই পদ্ধতিতে অ্যাসোসিয়েট সদস্যরা অনেক বেশি ওয়ান-ডে খেলার সুযোগ পাবে। যদিও ২০২৩ বিশ্বকাপে দশটি দল অংশ নেবে।” তিনি আরো বলেন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগের ফলে অ্যাসোসিয়েট সদস্যদের খেলার মানোন্নয়ন হয়েছে। নতুন এই কাঠামোয় ম্যাচের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের সদস্যরা প্রতিযোগিতায় সুযোগ নিতে পাচ্ছে। পাশাপাশি পুরো বিষয়টা দু থেকে আড়াই বছরের মধ্যে হয়ে যাচ্ছে। আগে যেটা ছ’বছর লেগে যেত। এর ফলে দলগুলো ক্রিকেট বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার একটা পরিস্কার রাস্তা পেল”।

নতুন নিয়ম ক্রিকেটের বিশ্বায়নে কিভাবে কিভাবে ভুমিকা রাখে, এখন সেইটাই দেখার বিষয়।