ম্যাচ রিভিউঃ বাংলাদেশের প্রথম শিরোপা জয়।

0
94

টসে জিতে প্রথমে বোলিং নেয় বাংলাদেশ। ব্যাট করতে নামে দুই ক্যারিবিয়ান ওপেনারর শাই হোপ এবং সুনিল এম্ব্রোস। প্রথম থেকেই মারমুখী খেলতে থাকে এই দুইজন। প্রথম দশ ওভারেই তুলে নেয় দলীয় ফিফটি৷ ১৭ ম ওভারেই দলীয় সেঞ্চুরির দেখা পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরই মধ্যে ব্যাক্তিগত অর্ধশতকের দেখা পায় শাই হোপ। একটু পর হাফসেঞ্চুরির ছোঁয়া পায় সুনি এমব্রোসও। আর বৃষ্টির জন্য এরপরেই খেলা বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টির আগে ক্যারিবিয়ান দের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০.১ বলে ১৩১ রান। প্রায় ৫ ঘন্টা পর খেলা শুরু হলে ডাকওয়ার্থ লুইস প্রদ্ধতিতে ২৪ ওভার বেধে হয়। আর এক উইকেট হারিয়ে ২৪ ওভার শেষে ক্যারিবিয়ান রা সংগ্রহ করে ১৫২/১। সুনিল এম্ব্রোস ৭৮ বলে ৬৯ রানে অপরাজিত থাকে, এর আগে মিরাজের বলে মোসাদ্দেকের হাতে দূর্দান্ত এক ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে মূল্যবান ৭৪ রান করে যায় শাই হোপ। ডাকওয়ার্থ লুইস প্রদ্ধতিতে বাংলাদেশের টার্গেট দাঁড়ায় ২৪ ওভারে ২১০ রান।

শুরু থেকেই দেখেশুনে খেলতে থাকে বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার৷ এরমধ্যে সৌম্য মারমুখী ভাবেই দলের রান বাড়াতে থাকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেয় তামিম ইকবাল। দলীয় ১৯ রানে একবার জীবনও পায় তামিম ইকবাল। অন্যদিকে দূর্দান্ত সব শটে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যেতে থাকেন এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলতে থাকা সৌম্য সরকার। ব্যাক্তিগত ১৮ রানে গ্যাব্রিয়েলের বলে হোল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যায় তামিম ইকবাল। বেশীক্ষণ টিকত পারেনি সাব্বির রুম্মনও, শূন্য রানে মাঠ ছাড়েন তিনি। যদিও তার আউট নিয়ে রয়েছে কিঞ্চিৎ বিতর্ক। তবে এরপরেই মুশফিকুর রহিম কে নিয়ে বাংলাদেশ কে জয়ের পথে রাখে সৌম্য সরকার, ২৭ বলে তুলে নেয় ব্যাক্তিগত অর্ধশতকই। এই টুর্নামেন্টে নিজের খেলা তিন ম্যাচেই তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। মুশফিকুর রহিম আর সৌম্য সরকারের ব্যাটে চড়েই প্রথমবারের মতো শিরোপার স্বপ্ন দেখতে থাকে বাংলাদেশ৷ দুজনেই মারমুখী ভাবেই রান বাড়াতে থাকেন। তবে ব্যাক্তিগত ৬৬ করে সৌম্য আর আর ৩৬ করে মুশফিকুর আউট হয়ে গেলে আবারো জয়ের শংকায় পড়ে বাংলাদেশ। এরমধ্যে মুশফিকুর রহিমের আউট নিয়ে আছে দারুন বির্তক। একটু পরে ফিরে যায় মোহাম্মদ মিথুনও। এরপর অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কে সাথে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান তরুন তুর্কী মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ৫ খানা বিশাল ছয় আর দুইটা চারের সাহায্যে তুলে নেন ক্যারিয়ারের মূল্যবান ফিফটি। শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বাউন্ডারি তে ৭ বল বাকি থাকতেই প্রথমবারের মতো কোন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার শিরোপা নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।

এই ম্যাচে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয় তরুন তুর্কী মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। আর ফাউন্ডেশন অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয় শুরুর ভিত গড়ে দেওয়া সৌম্য সরকার।

এ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রাপ্তিঃ
** এই টুর্নামেন্টের উড়ন্ত ফর্ম ফাইনালেও সৌম্য সরকারের ধরে রাখা।
** চাপের মুখে ভেঙে না পরে জয়ের মালা পড়েই ম্যাচ শেষ করা।
** দলের গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের নিজেকে প্রমাণ করা।
** নিজেদের ইতিহাসের প্রথম শিরোপা জয়।

এ ম্যাচে বাংলাদেশের অপ্রাপ্তিঃ
** তামিম ইকবালের ব্যার্থতা।
** সাব্বির রহমান রুম্মনের নিজেকে প্রমাণের সুযোগ নষ্ট করা৷
** বোলারদের বাজে পারফর্মেন্স।
** মিথুনের সুযোগ নষ্ট করা।

ম্যাজিকাল মোমেন্ট অফ দা ম্যাচঃ
** মোসাদ্দেকের অসাধারণ ক্যাচ।
** মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বাউন্ডারিতে শিরোপা জয়।
** মোসাদ্দেক হোসেনের অসাধারণ ব্যাটিং শৈলী।
** সৌম্য সরকারের তান্ডব।

টানা ৬ টা ফাইনালে হারার পর সপ্তমবার ফাইনালে এসে শিরোপা জয় করলো বাংলাদেশের বাঘেরা। ক’দিন পরেই ক্রিকেটের মহাযজ্ঞ বিশ্বকাপ শুরু। তার আগে এই জয় বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে এই প্রত্যাশাই দেশবাসীর।