বিনাবেতনে খাটছেন জাপানি কোচ, ভালোবেসে পাশে আছেন বাংলার কারাতের!

0
225

জাপানীদের নাকি দেশপ্রেম অনেক। দেশের প্রতি প্রচন্ড শ্রদ্ধাশীল, দেশকে এগিয়ে নিতে সোচ্চার। গল্পটা একজন জাপানি নাগরিকেরই। শুধু, পার্থক্য হচ্ছে এই জাপানি ভদ্রলোকের ভালোবাসা পেয়েছে বাংলাদেশও, দুই যুগের উপরে সেই ভালোবাসার মায়াজালে আঁটকে আছেন!

১৯৮৫ সালে প্রথমবারের মতোন বঙ্গদেশে কারাতের কোচ হিসেবে এসেছিলেন। ছিলেন ২ বছরের জন্য। এরপর ফিরে গিয়েছিলেন, হয়েছিলেন অন্য দেশের কোচ। কিন্তু ভুলতে পারেননি এই দেশকে। ঠিকই ভালোবেসে আবারো বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। ভালোবাসার গল্প শুরু তখন থেকেই!

৩৩ বছর ধরে এ দেশের কারাতে ফেডারেশনের সাথেই আছেন। কখনো কোচের ভুমিকায়, কখনো পথপ্রদর্শক। সুদীর্ঘ এই সফরে পাননি কোন সংবর্ধনা। পাননি সম্মান। বেঁচে থাকার জন্য ফেডারেশন থেকে আর্থিক সহায়তাও পান নাই।

ক্যাম্প চললে দিন প্রতি পান ২৫০ টাকা। তা চলে যায় গাড়ি ভাড়াতেই। আর কোন বেতন নাই। ক্যাম্প না চললে পান না ঐ আড়াইশো টাকাও। পন্য আমদানি, রফতানির ব্যবসা করেই সংসার চালান। খেলোয়াড়দের উন্নয়নে কাজে উল্টো নিজেই আর্থিক সহায়তা দেন৷

বাংলাদেশের কারাতে ফেডারেশনের সাথে উনার নেই কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিও৷ আপাতত স্রেফ উপদেষ্টা হিসেবেই তিনি আছেন৷

জাপানের উন্নত জীবন ছেড়ে স্রেফ ভালোবেসে এই দেশে পরে আছেন। নিঃসন্তান জাপানী তেসুরো কিতামুরার কাছে কারাতের খেলোয়াড়েরাই সন্তানের মতোন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এদের আগলে রেখেই বেঁচে থাকবেন, এ দেশের কারাতে উন্নয়নে নিজেই জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কাজ করে যাবেন।

অথচ এবারের এসএ গেমসে কারাতে থেকে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত তিনটা সোনা পেয়েছে। প্রশংসায় ভেসে বেড়ায় ঐ কারাতে ফেডারেশন। অথচ আড়াল থেকে প্রিয়া, আল-আমিন, হোমায়রাদের উন্নয়নে নিজের সবটুকু দেওয়া কিতামুরারা তাই আড়ালেই থেকে যায়!

সত্যিকারের ভালোবাসা এমনই, থাকে সবার অগোচরে, পাদ-প্রদীপের আড়ালে!