বিউটি উইথ ব্রেইন

ক্রিকেট কী শুধুই একটি খেলা? ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং এর গণ্ডি পেরিয়ে ক্রিকেট এখন বড়সড় এক ‘বাণিজ্যিক’ ক্ষেত্রও বটে।বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের ব্যাপক প্রচলনের পর বাণিজ্যিক ক্রিকেট এখন আর কোন অপরিচিত বিষয় নয়, মাঠের খেলা ছাপিয়ে যায় ক্রিকেটার দের সৌন্দর্য্য আর স্টাইল আর গ্ল্যামারে। যুগে যুগে তরুণীদের বুকে কাঁপন ধরানো অনেক সুদর্শন পুরুষ ই মাতিয়ে গেছেন ২২ গজের পিচ, এখন আর রক্ষে নেই তরুণ দের ও, শুধু ব্যাট বলের কারিকুরিই নয়, রূপ আর গ্ল্যামারের জাদুতেও গোটা দুনিয়ার ক্রীড়াপ্রেমীদের মোহাচ্ছন্ন করে রাখেন প্রমিলা ক্রিকেট তারকারা, টেনিসে যেমন ভক্তদের প্রিয় মারিয়া শারাপোভা কিংবা ফুটবলের প্রেয়সী এলেক্স মরগান, ক্রিকেটাঙ্গনেও তেমনি পিছিয়ে নেই খেলার সাথে সাথে সৌন্দর্য্য দিয়ে ভক্তদের মনকাড়া লাস্যময়ী গ্ল্যামার গার্ল সারাহ, পেরী, মান্দানা কিংবা জাহানারারা। আজ লিখবো টিম জাগরণ স্পোর্টসের চোখে ১০ ক্রিক-প্রেয়সী কে নিয়ে-

১। স্মৃতি মান্দানা

Related image

ক্রিকেটের ২২ গজে যে কয়জন রূপবতী রমণী শাসন করছেন তাদের মধ্যে অন্যতম ভারতের “ন্যাশনাল ক্রাশ” স্মৃতি মান্দানা। রূপবতী এই নারী ব্যাট হাতে ঘায়েল করছেন প্রতিপক্ষ বোলারদের। গত বছরের পারফরম্যান্স দিয়ে জিতেছেন আইসিসির বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটারের পুরস্কার। এছাড়া নতুন বছরের শুরুতে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্যাটসম্যানদের শীর্ষস্থান দখল করেছেন তিনি।বাপ-দাদার ক্রিকেটপ্রীতি থেকেই এই খেলার প্রতি স্মৃতির ভালোবাসার সৃষ্টি। অনূর্ধ্ব-১৫ মহারাষ্ট্র নারী দলে ডাক পান তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে গুজরাটের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি (২২৪) করে তাক লাগিয়ে দেন মহারাষ্ট্রের ক্রিকেট কর্তাদের। তাই মাত্র ১৭ বছর বয়সে খুলে যায় জাতীয় দলের দরজা। ২০১৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে অর্ধশতক করে স্বাক্ষর রাখেন নিজ প্রতিভার। এর দু’বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় ২২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের। গত বছর আইসিসি বর্ষসেরা নারী দলে জায়গা করে নেন তিনি। ২০১৮ সালে বর্ষপঞ্জিতে ১২টি ওয়ানডেতে ৬৬৯ রান করেছেন স্মৃতি। আর ১৩০.৬৭ স্ট্রাইক রেটে ২৫ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার রান ৬২২। এছাড়া গত বছর অনুষ্ঠিত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে করেছেন ১৭৪ রান। কিন্তু ইনজুরির কারণে ছন্দপতন ঘটেছিলো তাঁর ও। শেষ হতে বসেছিলো ক্রিকেট ক্যারিয়ার। কিন্তু দীর্ঘ ৫ মাস পর ২০১৭ সালে মহিলা বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন ঘটে স্মৃতির। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর থেকে খেলে যাচ্ছেন নিয়মিত। এ পর্যন্ত ৫০ ওয়ানডেতে ১৯৫১ রান করেছেন স্মৃতি। ৪ টি শতকের সঙ্গে আছে ১৬টি অর্ধশতক। ৫৮ টি-টোয়েন্টিতে ৯ অর্ধশতকে করেছেন ১২৯৮ রান। বর্তমানে ভারতীয় প্রমিলা টি২০ দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্বে আছেন এই সুন্দরী!

২. এলিস পেরী

Image result for elisa perry cricketer
২০০৬ এ মাত্র ১৬ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ নারী ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়া দলে অভিষেক ঘটে এলিস পেরির। তার রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে তখনও অভিষেক ঘটেনি। এর তিন মাস আগেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। অভিষেক ওডিআইতে ব্যাট হাতে নয় নাম্বারে নেমে ১৯ রান করার পাশাপাশি দুই উইকেট শিকার করেন তিনি।২০০৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট ম্যাচ খেলেন তিনি। অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসে মোট ২৭ রান এবং তিন উইকেট শিকার করেন। ২০০৮-১৭ সাল পর্যন্ত সাতটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন পেরি, যার সবকটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। নারী ক্রিকেটের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার সাতটি টেস্টে ৬১.৭১ ব্যাটিং গড়ে ৪৩২ রান এবং ১৭.৩৩ বোলিং গড়ে ৩০ উইকেট শিকার করেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে এলিস পেরি মূলত বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। তার ব্যাটিং পজিশন ছিলো শেষের দিকে। ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৭, ৮ নম্বরে ব্যাটিং করা ব্যাটসম্যান এলিস পেরির ভেলকি শুরু হয় ২০১৪ সাল থেকে মিডল অর্ডারে প্রমোট হওয়ার পর থেকে। ২০১৪-১৬ সাল পর্যন্ত ২৩টি ওডিআইতে ১৭টি অর্ধশতক হাঁকিয়েছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৭টি অর্ধশতক হাঁকাতে সবচেয়ে কম ইনিংস খেলেছেন তিনি।ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের সুবাদে ২০১৭ সালের এপ্রিলে ‘উইজডেনস লিডিং ওমেন ক্রিকেটারের’ পুরষ্কার জেতেন পেরি। পেরি এখন পর্যন্ত ১০৬টি ওডিআইতে ৫০.২৭ ব্যাটিং গড়ে ২,৮২০ রান করেছেন এবং ১৪৫ উইকেট শিকার করেছেন।

এলিস পেরি ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলেও সমান দক্ষ। ফুটবলে ডিফেন্ডার হিসাবে খেলেন তিনি। ২০০৭ সালের ৪ আগস্ট মাত্র ১৬ বছর ৯ মাস বয়সে হংকংয়ের বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলেন পেরি। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারে তিনটি গোল করেছেন তিনি। ফুটবল এবং ক্রিকেট দুটো খেলাতেই সমান পারদর্শী হওয়ার কারণে বেশ কয়েকবার মধুর সমস্যায় পড়তে হয়েছিলো পেরিকে। ২০১০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং এএফসি উইমেনস এশিয়া কাপ একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। দুই দলের মূল একাদশে পেরির সুযোগ পাওয়া নিশ্চিত ছিল। শেষপর্যন্ত তিনি ক্রিকেটকেই বেছে নেন।২০১৩ সালের ১৯ জানুয়ারি আবারও এমনই এক সমস্যায় পড়েন পেরি। ফুটবলে উইমেন লীগের সেমিফাইনাল তার দল সিডনি ফুটবল খেলা এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের টি-টোয়েন্টির ফাইনাল খেলার সময়সূচী একই দিনে পড়ে। এবার তিনি ফুটবলকে বেছে নেন। বর্তমানে এলিস পেরি ফুটবলের চেয়ে ক্রিকেটে বেশি মনোযোগী, যেটা তার সাম্প্রতিক ব্যাটিং পারফরমেন্স দেখেই বোঝা যায়। যেসব মেয়ের খেলাধুলা নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখেন, তাদের বড় আইডল এখন এলিস পেরি।

৩। জাহানারা আলম

Image result for jahanara alam

হতে পারতেন মডেল। কিন্তু তিনিই এখন দেশসেরা ক্রিকেটারদের একজন। বল হাতে প্রতিপক্ষের ত্রাস গ্ল্যামার গার্ল জাহানারা আলম। নেতৃত্বও দিয়েছেন দলের। সাফল্য যেমন খুব বেশি আসেনি, তেমনি খেলার সুযোগ আর সুবিধাও খুব বেশি মেলেনি জাহানারার, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে ২০১১ সালে আয়ারলান্ডের বিপক্ষে। নিজের খেলা ৩৫টি একদিনের ম্যাচে নিয়েছেন ৩০উইকেট এবং ৫৫ টি-টোয়েন্টিতে নিয়েছেন ৩৯ উইকেট।

৪। সারাহ টেইলর

Image result for sarah taylorইংলিশ টিমের এই উইকেট কিপার-ব্যাটসওম্যানটিকে দেখলে তার সৌন্দর্যের মোহে হারিয়ে যাবে নিঃসন্দেহে, অসাধারণ সুন্দরী সারা একদিনের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের হয়ে ওপেন করতে নামেন। আবার টেস্ট ক্রিকেটে নামেন মিডল অর্ডারে ব্যাট করেন। অনেকের মতে ইংল্যান্ডের মহিলা ক্রিকেট দলে তার মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটার সারাহ, পরিসংখ্যানের দিকে চোখ দিলে সে কথাই প্রমাণ হয়। ৯ টেস্ট, ১১৮ ওডিআই ও ৯০ টি-২০তে সাতটি সে়ঞ্চুরি ও ৩৬ টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে তার। ২০১৪-তে আইসিসি-র উইমেন্স ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার-এর পুরস্কারও জোটে সারার। উইকেট কিপার হিসেবেও কিন্তু দারুণ দক্ষ এই নারী ক্রিকেটার।

৫। ক্যাথেরিন ব্রান্ট

Related image

বয়স-ভিত্তিক ক্রিকেটে ওর্কশায়ারের বিধ্বংসী ফাস্ট বোলার ক্যাথেরিন ব্রান্টের জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে ২০০৪ সালে। ইংলিশ প্রমিলা বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ক্যাথেরিন ব্রান্ট ও সর্বোচ্চ উইকেট টেকার ছিলেন দলের হয়ে। ক্যারিয়ারে ১১ টেস্ট,১১৬ ওডিআই ও ৬৮ টি ২০ তে ২৫৩ টি উইকেট নিয়েছেন এই সুন্দরী, পাশাপাশি লোয়ার অর্ডারে স্লগ ওভারে হিট করে বাড়তি রান যোগ করায় ও ওস্তাদ ছিলেন এই প্রেয়সী।

৬। লরা মার্শ

Image result for laura marsh cricketerক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই দক্ষতা দেখিয়েছেন ইংল্যান্ডের লরা মার্শ। অফস্পিনের পাশাপাশি ব্যাটেও দলকে ভরসা দেন দরকারের সময়ে। মিডিয়াম পেসার হিসাবে কেরিয়ার শুরু করলেও চোট-আঘাতের জন্য অফস্পিনকেই বেছে নিয়েছেন লরা। এখনও পর্যন্ত ৮ টেস্ট, ৯৫ ওডিআই ও ৬০ টি-২০ ম্যাচে সব মিলিয়ে ২০৩ টি উইকেট এবং ৩টা হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে তার।

৭। মিজনোন দু’প্রিজ

Image result for mignon du preez
২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন ফরম্যাটেই সাউথ আফ্রিকান উইমেন্স দের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরে ডান ভ্যান নিয়েকার্ক সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেযার পর অবসর মেলে তার।মাঝে মধ্যে উইকেটের পিছনে দাঁড়ালেও মূলত ব্যাটিংয়ে ভরসা দেন মিজনোন প্রিজ। ১টা টেস্ট, ১০৬ ওডিআই ও ৬৭ টি-২০ ম্যাচে ৩টি সেঞ্চুরি ও ১৯ হাফ-সেঞ্চুরির মালকিনের টি-২০তে রান রয়েছে ১৪৮৭ যা টি-২০তে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ!

৮। ডেন ফান নিয়াকার্ক 

Related image
মিজনোনের পর তিন ফরম্যাটেই দক্ষিণ আফ্রিকার দলের দায়িত্বে পান লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার ডেন ফান নিয়েকার্ক। একটি মাত্র টেস্টে দেখা গেলেও তার ঝুলিতে রয়েছে ৯৯ ওডিআই ও ৭৬ টি-২০ খেলার অভিজ্ঞতা। ব্যাটিংয়ে দলের অন্যতম ভরসা নিয়েকার্কের ১৯টি হাফ সেঞ্চুরি ও ১ টি সেঞ্চুরি রয়েছে। সঙ্গে লেগ স্পিনের ফাঁদে ফেলেছেন ১৮৭ জন বিপক্ষ ক্রিকেটারকে।বর্তমানে প্রমিলা ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার এই সুন্দরী।

৯। হোলি ফারলিং (অস্ট্রেলিয়া)

Image result for holly ferling australian cricketer

২০১৩ থেকেই জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য অস্ট্রেলিয়ার ২৩ বছর বয়সী হোলি ফারলিং। ২০১৩ সালের বিশ্বকাপের চার ম্যাচে ৯টি উইকেট (গড় ১০.৫৫) নিয়েছিলেন এই পেসার। সে বছর প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসাবে কুইন্সল্যান্ডের বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন। ৩ টেস্ট, ২২ ওডিআই ও ৯ টেস্টে মোট ৩২টি উইকেট নিয়েছেন হোলি।

১০। ইসা গুহ

Related image

জন্মসূত্রে বাঙালি এই ইংলিশ প্রমিলা একদশক ইংল্যান্ড টিমের হয়ে ক্রিকেট খেলার পর অবসর নিয়েছেন ২০১২ সালে। ব্যাটিং ও বোলিংয়ে সমান দক্ষ এই প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেটারটি আবার টি-২০ এক্সট্রা ইনিংসের কল্যাণে ফ্যানেদের মধ্যে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন হটনেসের কারণে। ২০০৮-০৯ সালে মহিলাদের আইসিসি ব়্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর বোলার ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর বিবিসি’র স্পোর্টস ওয়েবসাইটে ক্রিকেট সংক্রান্ত কলাম লেখেন এবং আইপিএল ও আইসিসি ইভেন্টস সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন টিভি প্রেজেন্টার ও ধারাভাষ্যকার হিসেবে।