বাল্যবিয়ে রুখে লাল-সবুজের হয়ে তিন সোনার পদক জয়ী ইতি

১২ বছরের কিশোরী ইতি খাতুন বাড়ি থেকে পালিয়ে যোগ দিয়েছিলেন আরচ্যারি ক্যাম্পে। সেদিন না পালালে দুই বছর আগে বিয়েই হয়ে যেত ১৪ বছরের ইতি খাতুনের। দুই বছর পর সেই কিশোরি দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে গিয়ে জিতে নিয়েছেন তিনটি সোনার পদক।

রোববারই (৮ ডিসেম্বর) দলীয় এবং মিশ্র দ্বৈত দুই ইভেন্টে সোনা জিতেছিলেন ইতি। নেপালের পোখারায় মেয়েদের রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে ভুটানের বিপক্ষে ৬-০ সেট পয়েন্টে জিতে মেয়েরা। পরে রিকার্ভ মিশ্র ইভেন্টে রোমান সানার সঙ্গে ভুটানকে ৬-২ সেট পয়েন্টে হারিয়ে সোনার পদক জিতেন ইতি।

সোমবার ব্যক্তিগত রিকার্ভে সাফল্যের আলোয় নিজেকে উজ্জ্বল করেন তিনি। তৃতীয় সোনা জেতে লাল সবুজ পতাকা উড়ান সবার উপরে। তার সৌজন্যে দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে তিনবার বেজে উঠে ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।

চুয়াডাঙ্গার দরিদ্র পরিবারে জন্ম ইতির। হোটেল কর্মচারী বাবা ইবাদত আলি তিন মেয়ের মধ্যে ইতিকে বিয়ে দেওয়ার সব প্রস্তুতিই সেরে নিয়েছিলেন। ইতিকে পছন্দ করেছিল বরপক্ষ। বিয়ের সব কথা পাকা হয়ে গেলেও ইতি খুঁজছিল মুক্তি। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আরচ্যারির প্রতিভা অন্বেষণ ক্যাম্পের খবর পেয়েই চম্পট দেন তিনি। তাতে প্রথমও হয়ে যান এই কিশোরি।

এরপরই বদলে গেছে ইতির জীবনের ছক। জাতীয় পর্যায়ে সাফল্যের আলোয় নিজেকে রাঙিয়ে এখন পেয়েছেন আন্তর্জাতিক সাফল্য। যেখানে একটি সোনার পদক জিততেই অনেকের জেরবার অবস্থা, ইতি এনেছেন তিন সোনার পদক।

নিজের এসব সাফল্য দিয়ে পরিবারের চিন্তার জগতও বদলে ফেলেছেন ইতি। এক সময় তাকে বাল্য বিয়ের চেষ্টা করা সেই পরিবারও ইতির সাফল্যে আলোকিত, গর্বিত, ‘একসময় আমার বাবা আমাকে বিয়ে দিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি রাজি ছিলাম না। তখন তারা বলতেন, মেয়ে হয়েছিস কিসের খেলা। তবে এখন আমাকে অনেক আদর করেন। আমার সাফল্যে তারাও গর্বিত।’