বাংলাদেশ এবং বিশ্বকাপ বাছাই

0
51

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে বাংলাদেশ কখনোই ভালো করতে পারেনি। বরাবরই ছিলো ব্যর্থ। সুখস্মৃতি বলতে শুধু ইন্দোনেশিয়াকে হারানো। বর্তমান সময়ে বলতে গেলে পুরোই ব্যর্থ বাংলাদেশ জাতীয় দল। ১০ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব শুরু হবে বাংলাদেশ দলের। এবার ভালো কিছুর আশায় আছে সবাই। দলটিও এবার তুলনামূলক শক্তিশালী এবং কোচ জেমি ডের পরিকল্পনা নিয়েও সবাই আশাবাদী।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের মিশন প্রায় ৩৪ বছরের পুরোনো। ১৯৮৫ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অংশ নিয়েছিলো বাংলাদেশ দল। সেবারই সবচেয়ে বড় সাফল্য পেয়েছিলো বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ডের মত দেশেরে বিরুদ্ধে জয় পেয়েছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু ভারতের সাথে হারতে হয়েছিলো। ১৯৮৫ সালে ২ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ঢাকার মাঠে জয় পেয়েছিলো বাংলাদেশ। ২-১ গোলে ম্যাচ জেতে লাল-সবুজ বাহিনী। বাংলাদেশের পক্ষে গোল করেন কায়সার হামিদ এবং আশরাফউদ্দিন চুন্নু। এরপর ৫ এপ্রিল থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় পায় বাংলাদেশ। এই ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে গোল করেছিলো ইলিয়াস হোসেন।

এই পযর্ন্ত বাংলাদেশ ৯ বার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অংশ নিয়েছে। ৪৪ ম্যাচ খেলে গোল করেছে ৩৩ টি। বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্রথম গোল করেন আশরাফ উদ্দিন চুন্নু। ১৯৮৫ সালে ৩০ মার্চ ভারতের বিপক্ষে গোলটি করেছিলেন তিনি।

তখনকার দলের সাথে বর্তমান বাংলাদেশের দলের অনেক পার্থক্য রয়েছে। বর্তমান দল যত ভালো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে তখনকার দল তা পায়নি। তারপরও তারা বাংলাদেশকে ভালো ফল এনে দিতে পেরেছিলো কিন্তু বর্তমান দল পারছে না।

বর্তমানে আফগানিস্তানের ফিফা র্যাকিং ১৪৯তম। অন্যদিকে বাংলাদেশের ১৮২ তে। প্রায় ৩৩ ধাপ এগিয়ে আছে দেশটি। আফগানদের দল কিছু ইউরোপে খেলা ফুটবলার রয়েছে। ৪ জন ফুটবলার রয়েছে যারা জার্মানির ক্লাবে খেলে। মিডফিল্ডার ওমিদ খেলেন বেলজিয়ামের ক্লাবে। আফগানদের নাম্বার টেন খেলেন থাইল্যান্ডের ক্লাব এয়ারফোর্স ইউনাইটেডে। তাদের নাম্বার টেন ফয়সাল জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ৩৯ টি ম্যাচ বিপরীতে গোল আছে ৯ টি। ডিফেন্সে তাদের ১৯বছর বয়সী ফুটবলার নাজিম নেদারল্যান্ডের ক্লাবে আছেন। কাতারের বিপক্ষে তার অভিষেক হয়েছে। এছাড়াও অভিজ্ঞ জোহিব ইসলামও রয়েছে। ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার জাতীয় দলের হয়ে খেলেছে ৫২ টি ম্যাচ। তার বর্তমান ক্লাব মালদ্বীপে নিউ রেডিয়ান্ট স্পোটিং ক্লাব। কাতারের বিপক্ষে ৬-০ গোলে হারলেও বাংলাদেশের জন্য তারা কঠিন প্রতিপক্ষই। আফগানিস্তানের স্ট্রাইকার জুবায়ের আমানি এবং জাবার সারজার দিকে নজর থাকবে।

বাংলাদেশ দল তাদের থেকে শারীরিক গড়নেও পিছিয়ে রয়েছে। তাদের ফিটনেসও অনেক ভালো বলতে হয়। কাতারের বিপক্ষে এত বড় ব্যবধানে হেরে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়তে পারে আফগানরা। আর এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে বাংলাদেশকে। শারীরিক গঠনে তারা শক্তিশালী হলেও নিজেদের সঠিক পরিকল্পনা মাঠে করতে পারলে জয় আনা সম্ভব। বাংলাদেশের মূল অস্ত্র হতে পারেন রবিউল। উঠতি এই তারকা ইতিমধ্যে নিজের সেরাটা দেখিয়েছেন। আফগানদের বিপক্ষে তার সেরাটাই চাইবেন কোচ। এছাড়াও স্ট্রাইকার জীবন থেকে গোল আশা করা যায়। লীগে ভালো ফর্মে ছিলেন তিনি। মতিন মিয়াকেও লীগের ফর্মে দেখতে চায় সবাই। বাংলাদেশের মূল চিন্তা গোলকিপিং নিয়ে। আশরাফুল ইসলাম রানা তার ছন্দে নেই। দুইটি প্রস্তুতি ম্যাচেই তিনি গোল হজম করেছেন। অন্যদিকে জিকো এই প্রথমবার জাতীয় দলে সু্যোগ পেয়েছে এবং সে নিজের ফিটনেসও হারিয়ে বসেছে। বাকী আছে সোহেল। তার ভুলে মাসুল গুনতে আছে বাংলাদেশের ফুটবল সর্মথকরা। তারপরও শেষে কার উপর ভরসা রাখেন কোচ তাই দেখার বিষয়।

বাংলাদেশের এই দলকে গত ৫০ বছরের সেরা দল বলেছেন বাফুফে সভাপতি সালাউদ্দিন। তার এই মন্তব্যের সাথে অনেকই একমত নয়। কিন্তু দলটির কাছে সুযোগ রয়েছে নিজেদের প্রমান করার। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে যদি ভালো কিছু করতে পারে তাহলেই বাফুফে সভাপতির মন্তব্য সত্যি হবে। ১০ সেপ্টেম্বরই বুঝা যাবে বাংলাদেশ দল কেমন করে।

তথ্য: প্রথমআলো, উইকিপিডিয়া।