বর্তমান সময়ের সেরা পাঁচ মিডফিল্ডার

0
325
টনি ক্রুস // Source: Metro

৫. টনি ক্রুস

ঠিক টেকনিক্যালি গিফটেড না হলেও অত্যন্ত ঠান্ডা মাথা আর বিচক্ষণ ডিসিশন মেকিং-এর কারণে এই জেনারেশনের সেরা একজন মিডফিল্ডার হিসেবে ধরা হয় তাকে। লা লীগায় এই সিজনে ৫ গোল আর ৭ এসিস্ট করেছেন, সেই সাথে ৯৩ শতাংশেরই বেশি একুরেট পাস দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ টিমের মস্তিষ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। উইংব্যাকদের কাছে পিনপয়েন্ট লং বল আর ডায়াগোনাল বল দিয়ে দ্রুত গেম সুইচ করতে পারেন, আবার অপোনেন্টের হাইলাইন ডিফেন্সের পিছনে দৌড়ানো সুযোগসন্ধানী পোচারটিকেও মাপা ক্রস তুলে দিতে পারেন। লুজ বল কিংবা উইং থেকে মাইনাসে পাওয়া বল স্নাইপারের দক্ষতায় জালে পাঠাতে জুড়ি নেই তার। তবে এরিয়াল ডুয়েলে খানিকটা দুর্বল, আর মাঝেমধ্যে খুব সহজেই ডিসপজেসড হয়ে যাওয়ার দুর্নাম আছে এই জার্মানের।

এনগোলো কান্তে // Source: The National

৪. এনগোলো কান্তে

মাঠে তাকে দেখলে মনে হয়, খোদ ক্লদ ম্যাকেলেলেই বুঝি অবসর ভেঙ্গে ফিরে এসেছেন আবার। এগ্রেসিভ মুভমেন্ট, টেকনিক্যাল এবিলিটি- সবখানেই তিনি তার ফ্রেঞ্চ পূর্বসূরীর ডিএনএ বহন করে আসছেন। তার ট্যাকল পারসেন্টেজ ৬৮%, পাস ইন্টারসেপ্ট করেছেন ৯১৩ বার। এই ডিফেন্স স্ট্যাট যেকোন সেন্টারব্যাকের জন্যই ঈর্ষণীয়। তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে- তাহলে মিডে করছেনটা কি তিনি? প্রতিপক্ষের পা থেকে বল রিকভারি করেই ক্ষান্তি দেন না তিনি, বল ড্রাইভ করে নিজেদের সীমানা থেকে বের করে এনে এটাকিং অপশনও তৈরি করে দেন এই মিডফিল্ডার। লো সেন্টার অফ গ্র্যাভিটির কারণে তার বল কন্ট্রোলিং অসামান্য, আর প্রতিপক্ষের পাস ইন্টারসেপ্ট করার ক্ষেত্রে তার ভিশন প্রায় অতিমানবীয় পর্যায়ের। এমনি এমনিই তো আর তিনি ১৬/১৭ সিজনে সেরা প্রিমিয়ার লিগ খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হননি।

মেসুত ওজিল // Source: Mirror

৩. মেসুত ওজিল

ক্ল্যাসিক নাম্বার টেন বা ত্রেকার্তিস্তাদের শেষ সেনানী হিসেবে ধরা হয় তাকে। মিডফিল্ড নামের ক্যানভাসে বলকে তুলির মত ব্যবহার করে ছবি আঁকেন তিনি। একজন পারফেক্ট গেম কন্ট্রোলারের মত ফরোয়ার্ডদের বল সাপ্লাই দেন তিনি। তার গেম রিডিং এতই উঁচু লেভেলের যে, অনেক সময় কোনরকম দৃশ্যমান মুভমেন্ট ছাড়াই তার চারপাশে বেশ বড়সড় একটা স্পেস তৈরি হয়ে যায়। শুধুমাত্র বডির মুভমেন্ট আর কয়েকটা পারফেক্ট টাচের মাধ্যমেই অপোনেন্টকে ছিটকে ফেলতে পারেন তিনি। নিন্দুকেরা অবশ্য বলে থাকেন, এতসব ক্ষমতার মাঝেও কেন যেন বিগ ম্যাচগুলোতে তিনি হ্যারি পটারের ইনভিজিবল ক্লোক পরে অদৃশ্য হয়ে যেতেই পছন্দ করেন।

 

কেভিন ডি ব্রুইনা // Source: Squawka Football

২. কেভিন ডি ব্রুইনা

মডার্ন মিডফিল্ডারদের অগ্রপথিক বলতে পারেন উনাকে। মূলত ম্যানসিটির হয়ে মিডফিল্ডের রাইট হাফস্পেসে খেললেও খেলার সময় বিভিন্ন পজিশনে খুঁজে পাওয়া যায় তাকে। টিম কর্নারে আউটনাম্বারড হয়ে আছে? সমস্যা নেই, কেডিবি এসে আরেকটি পাসিং লেন তৈরি করে দেবেন। গার্ডিওলার ইনভার্টেড ফুলব্যাক ট্যাকটিক মেনে রাইটব্যাক ওয়াকার মিডলে চলে এসেছেন, আর সেই ফাঁকে অপোনেন্টের লেফট উইংগার ওই ফ্ল্যাংক ইউজ করে দান মেরে দেবেন? নো অপশন, কেডিবি মূহুর্তেই বনে যাবেন রাইটব্যাক। রাইট উইংগার স্টারলিং কাট-ইন করে অপোনেন্টের ডি-বক্সে ঢুকে যাচ্ছেন, সাথে সাথে কেডিবি চলে আসলেন রাইট উইং-এ। টিম কাউন্টার এটাকে যাচ্ছে, কিভাবে যেন জেসুস পিছনে পড়ে গেলেন। সমস্যা কি, কেডিবি আছেন না? তিনি নিজেই স্ট্রাইকার বনে যাবেন, আর না হয় ডিকয় রান দিয়ে অপোনেন্টের সেন্টারহাফকে টেনে নিয়ে যাবেন যাতে জেসুস এসে পর্যাপ্ত স্পেস পান। শুধু গোল করাতেই নয়, গোল করতেও কম যান না তিনি। ডি-বক্সের বাইরে জোন-১৪ বা তার কাছাকাছি এলাকায় বল পড়েছে কি পড়েনি, দিলেন দৌড়ে এসে পল স্কোলসের মত শুট করে। ডান পা- বাম পা নিয়ে তার আবার কোন শুচিবায়ু নেই, দুই পায়েই গোল করতে উস্তাদ তিনি। ১৭/১৮ সিজনে ১১ গোল আর ১৫ এসিস্ট করে ম্যানসিটিকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

 

১ নাম্বার প্লেসটা প্রকাশ করার আগে দু’জনকে Watchmojo স্টাইলে অনারেবল মেনশন দেওয়া যাকঃ

সার্জিও বুস্কেটস // Source: EIF Soccer

সার্জিও বুসকেটস– একজন স্মার্ট ডিএম। তিনি বিখ্যাত তার ‘ডিসগাইজ পাস’-এর জন্য। এক্ষেত্রে তিনি প্রথমে অধিক সুবিধাজনক স্থানে থাকা টিমমেটকে পাস দেওয়ার ভান করেন। তখন অপোনেন্টের একজন প্লেয়ার সম্ভাব্য ওই পাস রিসিভারকে প্রেস করার জন্য এগোতে থাকেন, আর বুসকেটস সেই ফাঁকে তার ছেড়ে আসা জায়গায় থাকা টিমমেটকে পাস দিয়ে দেন। এছাড়াও অপোনেন্টের প্রেস রেসিস্ট করার ক্ষেত্রে উনার চেয়ে বেটার অপশন খুব কমই আছে।

ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন // Source: Futbol Post

ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন– ড্যানিশ ফ্যানরা তাকে বলে থাকে ‘নতুন মাইকেল লাউড্রপ’। এই সিজনে ১০ গোল আর ১০ এসিস্ট করে টটেনহ্যামকে টপ ফোর ফিনিশে সহায়তা করেছেন। টিমের বিল্ডআপ কিংবা বল পজেশন ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। হ্যারি কেন বা ডেলে আলি যে এত ভুরি ভুরি গোল দিচ্ছেন, তার পিছনে কিন্তু অবদান রাখছে এরিকসেনের মাপা ক্রস আর ডিফেন্স ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া থ্রু বল।

লুকা মদ্রিচ // Source: Croatian World Network

১. লুকা মদ্রিচ

তর্কাতীতভাবে বর্তমান সময়ের সেরা মিডফিল্ডার। রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান টিমটার পিভোট হিসেবে ভাবা হয় তাকে। অনবরত পজিশন শিফট করে টিমমেটদের জন্য পাসিং লেন তৈরি করার চেষ্টা চালান, এবং এই কারণে প্রায়ই অপোনেন্ট প্লেয়ারদের মাঝে ফ্রি স্পেসগুলোতে তিনি পজিশন নিতে পারেন। অপোনেন্টের পায়ে বল গেলে চারপাশটা স্ক্যান করে নিয়ে সম্ভাব্য পাসিং লেনগুলো বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেন। ওয়াইড স্পেসে তাকে ডিসপজেস করাটা প্রায় অসম্ভব বলা চলে। পাস রিসিভ করার সময় তার ইউনিক বডি পজিশনের কারণে দ্রুত টার্নের মাধ্যমে মার্কারকে হারিয়ে দিতে পারেন। তার ওয়ান টাচ পাসগুলো অপোনেন্ট হাফের বিপজ্জনক জায়গাগুলোতে রোনালদো, বেলদের খুঁজে নিতে পারে। ম্যান-মার্কার হিসেবেও বেশ সুনাম আছে তার। টিমের প্রয়োজনে দ্রুত উইং-এ সুইচ করে ডি-বক্সে কাটব্যাক করতেও কম পারদর্শী নন তিনি। গত বছর ইউসিএল ফাইনালে রিয়ালের তিন নম্বর গোলটা এভাবেই এসেছিল। মাদ্রিদের দুই উইংব্যাক সহ টোটাল পাঁচজন বেশিরভাগ সময় অফেন্সিভ পজিশনে থাকায় দ্রুত ব্যাক ট্র্যাক করে নিচে নেমে কাউন্টার এটাক থামাতে মড্রিচের জুড়ি নেই।

 

________________________

ফিচার পোস্টটি লিখেছেন

কাফায়েত তামজিদ