বঙ্গদেশের রাজা ফিরুক মহারাজার বেশে (শেষ পর্ব)

0
10

বাংলায় বহুল প্রচলিত একটা প্রবাদ বাক্য আছে, ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাণে’ আজকে আমার গল্পে যে মহানায়ক কে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে যাচ্ছি তার জন্য আমি পুরনো এই প্রবাদ বাক্যটাতে সামান্য সংশোধন আনতে চাচ্ছি। আমার গল্পে ঢেঁকির রূপক হিসেবে যার চরিত্রায়ন করতে যাচ্ছি সে পাতালেও ধান ভাণে, সে স্বর্গে যাওার পথেও ধান ভাণে আবার স্বর্গে গিয়েও ধান ভাণে। ১৮ কোটির বিশাল জনসংখ্যার ছোট ভূমিতে খুব কম সংখ্যক লোকই এসেছিল যারা দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মনে জায়গা নিতে পেরেছে। আমাদের আজকের এই মহানায়ক “সাকিব আল হাসান” তাদেরই একজন এবং অন্যতম একজন। ক্রিকেট পাগল জাতির মুখে মুখে তো একবার তাকে নিয়ে গান ই রচিত হয়ে গিয়েছিল – ‘বাংলাদেশে জান, বাংলাদেশের প্রাণ। সাকিব আল হাসান , সাকিব আল হাসান।

মাগুরা থেকে উঠে আসা ফয়সালের একজন সাকিব আল হসান হয়ে উঠার গল্পটাও মসৃণ নয়। খুব কম সময়ের মধ্যেই তিনি জীবনের বহু রঙ দেখে ফেলেছেন। বেশ কিছু উত্থান-পতনের ভিতর দিয়েই তিনি সাকিব আল হাসান হয়েছেন। তবে প্রতিবার-ই পতনের পর উত্থানের গল্পটা তিনি রাজার মতোই লিখেছেন এবং তাইতো বাংলা ক্রিকেটের অবিসংবাদিত রাজা হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছেন। ২০০৬ সালে শুরু করা ক্যারিয়্যারে বেশিরভাগ সময় গাছের মগডালেই কাটিয়েছেন নিজের অতিমানবীয় নৈপূণ্য দিয়ে। তবে সফলতার মাঝেও বারবার নিজ ভুলেই বলি বা ন্যায়ের পথে অটল থাকতে যেয়ে চোখের বালিও হয়েছেন অনেক কর্তা ব্যাক্তিদের। যার ফলস্বরুপ রাজাকে বেশ কয়েকবার ই নির্বাসনে কাটাতে হয়েছে। তবে প্রতিটা প্রত্যাবর্তন হয়েছিল রাজসিক প্রত্যাবর্তন, যেন কোটি জনতা পথপানে চেয়ে আছে তাদের সুলতান আসবে তাদের দুঃখ ঘোচাবে এবং সাকিব প্রতিবার-ই নবাবের মতোই এসেছিলেন এবং হাসি ফুটিয়েছেন টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত ৬৪ জেলার সব বাঙালিকেই।

আসুন প্রথমে জেনে নেই বিভিন্ন সময় সাকিব এর ক্রিকেটিয় জীবনে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা সমূহঃ

পর্ব-১ পড়ুন: বঙ্গদেশের রাজা ফিরুক মহারাজার বেশে

দেশের সকল শ্রেণির সকল ক্রিকেটার ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামে দাবী আদায়ের নিমিত্তে এই জায়গাতেই সামনে থেকে লিড দেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের নবাব সাকিব আল হাসান। বোর্ড প্রেসিডেন্ট রাগ দেখালেও শেষ পর্যন্ত ঠিক ই সকল দাবী মেনে নেন এবং সফল আন্দোলনের পরিসমাপ্তি হয়। কিন্তু তারপরেই আবারো সাকিবের জীবনে আসে সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ।

জুয়াড়িদের কাছ থেকে একাধিকবার ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েও তা আইসিসি বা বিসিবিকে না জানানোর অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর দু’বছরের জন্যে আইসিসি থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। তবে সাকিব ভুল স্বীকার করায় তা কমিয়ে ১ বছর করা হয়, বাকি ১ বছরের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রয়েছে। এবং সেই নিষেধাজ্ঞায় ভেঙে পড়ে সারাদেশের সর্বস্তরের সব মানুষ। মসজিদে-মন্দিরে শুরু হয় সাকিবের জন্য প্রার্থনা। দেশের মানুষ আবার ফেরত চায় তাদের নবাব কে। আবারো দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখতে চায় সাকিব কে ঘিরে। মানুষ বিশ্বাস করতে চায় যে ছেলে মানুষ বছরের পর বছর নাম্বার ওয়ান হিসেবে থাকতে পারেন সেই মানুষ ই পারেন ক্রিকেটের দুর্বলতম দেশ বাংলাদেশ কেও এক নাম্বারে আসীণ করতে। সাকিবের নিষেধাজ্ঞা প্রায় শেষের দিকে। দিন গণণা করতে করতে সাকিব ভক্তরা পার করে দিয়েছে ৩৬৫ টা দিন।

কোটি ভক্তকুল অপেক্ষায় আছেন তাদের রাজার রাজসিক প্রত্যাবর্তনের। সামনেই টি-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ একদিনের বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের মানুষের ক্রিকেটের সকল স্বপ্নের এখনো সারথী তিনিই সাকিব আল হাসান। করোনাভাইরাসের কারনে থমকে ছিল পুরো দুনিয়া সাথে থেমে ছিল ক্রিকেটও। ধীরে ধীরে দুনিয়া সুস্থ্য হচ্ছেন ফিরছে ক্রিকেটও। সাকিব ও ফেরার অপেক্ষায় আছেন, সময়টা পরিবারের সাথে কাটালেও ব্যাক্তিগত অনুশীলন তিনি নিয়মিতই করেছেন বলে জানা গেছে এবং গত মাস থেকে তো অফিসিয়াল অনুশীলন ই করেছেন প্রিয় বিকেএসপির মাঠে। রাজা নির্বাসনে থাকলেও রাজার ভক্তরা রাজার খোজ খবর ঠিক ই রেখেছেন বছর জুড়েই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে, টুইটারে, ইন্সটাগ্রামে সাকিব ভক্তরা সাকিবের বিষেধাজ্ঞায় সাকিব কে দিয়েছে আকুণ্ঠ্য সমর্থন। কেউ কেউ তো পুরো সময়জুড়েই সাকিবের ছবি প্রপফাইক পিকচারে রেখে বলে দিয়েছিল সাকিব না ফেরা পর্যন্ত এটার পরিবর্তন হবেনা এবং এই সংখ্যাটাও কম না। এগুলা পাগলামি না, এগুলা ভালবাসা। আর ভালবাসার প্রতিদান প্রেমিক প্রেমিকা দিতে ব্যর্থ হলেও সাকিব কখনো ব্যার্থ হননি। সাকিব কে ভালবেসে তার ভক্তরা শীতের ভোরে টেস্ট দেখতে বসলে সাকিব তাদের কে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নান্দনিক ডাবল সেঞ্চুরি উপহার দেন, সাকিবকে ভালবেসে সব ম্যাচ হারতে থাকা আফ্রিকার মাটিতে ধুকতে থাকা একটা দেশের খেলা দেখতে বসেছিল জনগন, সাকিব সেই পেস বান্ধব উইকেটে এক ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে প্রতিদান দিয়েছিল।
তাইতো বাংলাদেশের মানুষ বারবার সাকিব কে ভালবাসতে চায়, ভালবেসে সামনের বড় বড় আইসিসি ইভেন্ট এর দিকে চেয়ে থাকবে। কেন না তারা বিশ্বাস করে সাকিব আল হান তাদেরকে নিরাশ করবেন না ।

সাকিব ফিরবেন, সাকিব হাতের জাদুতে ঘুর্নী তুলে কাবু করবেন প্রতিপক্ষ ব্যাটারকে। সাকিব ফিরবেন এবং সাকিব আবারো ম্যাচের পর ম্যাচ ব্যাট হাতে পরাস্ত করবে বুমরা, বোল্টদের ছোড়া বিধ্বংসী সব ইয়র্কাগুলো। সাকিব আবার নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার হবেন এবার শুধু একাই হবেন না এবার তিনি লাল সবুজের এই বাংলাদেশ কেউ করবেন চ্যাম্পিয়ন।

মানুষ বাঁচে আশায় , সাকিব আল হাসান হচ্ছেন সেই মহানায়ক যিনি আশার আলো হাতে জ্বলন্ত মশাল বাহক। তিনি আমাদের ক্রিকেটের মহানায়ক, তিনি আমাদের এই বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব, তিনি সাকিব আল হাসান।

আমরা ১৮ কোটি মানুষ তার অপেক্ষায়। আমরা নতুন সুর্যের উদ্দয়নের অপেক্ষায়।