ফেডারেশনের বাজেট হয়, বিদেশ ভ্রমণ হয় শুধু অর্জনটাই হয় না

0
58

৬ দিনে এখন পর্যন্ত সাফ গেমসে বাংলাদেশের মাত্র ৪টা সোনা, যেখানে নেপালের ৪১টা, ভারতের ৮১টা! সবগুলা ফেডারেশন স্বজনপ্রীতি আর দূর্নীতির আখড়া হয়ে গেলে যা হয়।

তারও আগে বাংলাদেশের ক্রীড়া ফেডারেশন গুলার অন্যতম সমস্যা পদাধিকার বলে বিভিন্ন পদ দখল করে বসে থাকা। যেমন- পদাধিকার বলে আগে বাংলাদেশে দাবা ফেডারেশনের সভাপতি হইতেন অর্থ সচিব, এখন সেটা র‌্যাব প্রধান বেনজির আহমেদের দখলে। বিমান বাহিনীর প্রধান হবেন হকি ফেডারেশনের সভাপতি। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে বাংলাদেশের একমাত্র সোনা আসে শুটিং থেকে। সেই শুটিং ফেডারেশনের সভাপতি হইলেন জ্বালানি সচিব। যিনি আবার নিজ মন্ত্রণালয়ের দূর্নীতির কারণে দুদকে রেগুলার হাজিরা দেন। পুলিশের আইজি হইলেন কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি। সেনা প্রধান, নৌ প্রধান, অমুক মন্ত্রণালয়ের সচিব, তমুক মন্ত্রণালয়ের সচিব এরা সবাই বিভিন্ন ফেডারেশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে আছেন পদাধিকার বলে। বিজিবি প্রধান হইলেন এমেচার বক্সিং ফেডারেশনের সভাপতি। এদের ৯০ ভাগেরই খেলাটা সম্পর্কে নূন্যতম আইডিয়া নাই।

ন্যাশনাল স্কুল হকির মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টের সবসময় সভাপতি থাকবেন- মতিঝিল জোনের পুলিশের এসি৷ যিনি মহাবিশ্বের ১ জন হকি খেলোয়াড়েরও নাম বলতে পারবেন বলে আমার মনে হয়না!

এছাড়া ধান্ধাবাজির উদ্দেশ্যে এমন অনেক ফেডারেশন বানানো হইছে যেগুলার কোনো কাজ নাই, যেগুলা বাংলাদেশে কেউ খেলে না, এমনকি সেইসব খেলার নাম বাংলাদেশের ৯৯ ভাগ ক্রীড়া সাংবাদিকেরাও শুনেন নাই! যেমন- বাংলাদেশ বুত্থ্যান অ্যাসোসিয়েশন। এখন বলেন বুত্থ্যান কী খেলা? এরকম আরো অনেক আছে। এসব ফেডারেশনে বছর বছর সরকারি অনুদান আসে, কর্মকর্তারা সস্ত্রীক বিদেশ ভ্রমণে যায়। কিন্তু সেই খেলার নাম উনারা ছাড়া আর কেউ জানেন না।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনের ফেডারেশনগুলোতে এইরকম যখন অবস্থা, তখন সাফে নেপালের তুলনায় ১০ ভাগের ১ ভাগ সোনা জেতাকেও বিরাট সাফল্য মনে হয়। পত্রিকা খুললেই দেখি সৌম্য সরকাররা মালদ্বীপ ভুটানকে বিরাট ব্যবধানে হারিয়ে দিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে! অথচ সাফের মতো গেমসে সৌম্য সরকারদের মতো জাতীয় দলের ক্রিকেটার পাঠানোটাই লজ্জার!

অতিথি লেখকঃ রকিব শাওন