‘ফুটবল আবার তার জনপ্রিয়তা ফিরে পেয়েছে শারাফাত। ফুটবলমুখী হয়েছে। এ জয় সারা দেশের জয়। ফুটবলের জয়’

0
54

২০.০১.২০০৩

ঢাকা স্ট্যাডিয়াম, 

সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফাইনাল।

গ্রুপ পর্বে মালদ্বীপকে হারিয়ে সেমিতে বাংলাদেশ। আগের দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে স্বাগতিকরা। শেষ প্রতিপক্ষ আবারো সেই মালদ্বীপ। স্বপ্নের শিরোপা থেকে মাত্র এক ম্যাচ দূরে।

 

ম্যাচের ‘১২ তম’ মিনিট। মাঝমাঠের বাঁ পাশ থেকে লম্বা কিক বাংলাদেশ প্লেয়ারের। ঊদ্দেশ্য প্রতিপক্ষের ডি বক্সে থাকা সতীর্থ্য। বল আসলো এবং কোনোরকম রিসিভ ছাড়াই রোকোনুজ্জামান কাঞ্চনের বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জড়িয়ে গেলো জালে। গোল! লিড নিয়ে নিলো বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের সমাপ্তি।

 

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা আরম্ভ। ম্যাচের ‘৫৮ তম’ মিনিট। বাংলাদেশের ডি বক্সের ডান পাশ থেকে প্রতিপক্ষ প্লেয়ারের ছোট্ট ক্রস। ডি বক্সের বাঁ দিকে গোলবারের সামনে থাকা প্লেয়ারের ফিনিশিংয়ে আমিনুলকে ফাঁকি দিয়ে বল জড়িয়ে গেলো জালে। আলী ওমরের গোল। সমতায় চলে এলো দুদল। দিত্বীয়ার্ধের খেলা শেষ। ম্যাচ এখন অতিরিক্ত সময়ে। এখানেও কোনো গোল হয়নি। ম্যাচ চলে গেলো বাঁচা-মরার ট্রাইবেকারে।

 

স্পট কিক থেকে প্রথম দুই শট সফল গোল দুদলের। দ্বিতীয় কিক নিতে এলো মালদ্বীপের প্লেয়ার আশরাফ লুফতি। ডান পায়ের জোরালো শট গোলবারের বাঁ পাশে। ঝাপিয়ে পড়লেন আমিনুল। অসাধারণ সেভ। এগিয়ে গেলো স্বাগতিকরা। শেষ পেনাল্টি কিক নিতে এগিয়ে এলেন সুজন। শিরোপা থেকে মাত্রর এক শট দূরে। ঠায়ান্ডা মাথায় ডান পায়ে গোলবারের বাঁ দিক দিয়ে বল জড়িয় নিলো। গ্যালারিতে হাজারো কলরব, উচ্ছ্বাসে পুরো স্ট্যাডিয়াম। জিতে গেলো বাংলাদেশ। ধারাভাষ্যে খোদাবক্স, শারাফাততের উল্লাস। চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন।

 

এখন ২০১৮ সাল। নেই সেই সোনালি সময়। মাঠে নেই সৌন্দর্যময় ফুটবল। গ্যালারিতে নেই দর্শক। ফুটবলের পাগল দেশে ফুটবলের এমন ভরাডুবি।। কত সুন্দর দিনগুলি ছিলো। আহারে!

লিখেছেন

________________

আতাউর রহমান আবির