ফুটবলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের

0
51

বিশ্বের ফুটবল যখন থমকে গেছে কোথাও যখন দর্শক নেই তার ঠিক বিপরীত চিত্র বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। ৮ হাজার দর্শকের অনুমতি মিললেও দর্শক ছিলো তার ও ঢের বেশি। একদল অদম্য স্বপ্নবাজরা যখন নীতিনির্ধারকদের পরিবর্তনের জন্যে রাস্তায় নেমে পারেনি অন্তত মাঠের চিত্রটা বদলে দিতে পেরেছে।

বাংলাদেশ ফুটবলে প্রথম চ্যান্ট ধরেছে তরুণরা, থান্ডার ক্ল্যাপ করা হয়েছে। যা বাংলাদেশ ফুটবলে এমনটি আগে কখনো দেখেনি কেউ। এই মহৎী কাজের আয়োজনে নেতৃত্ব দিয়েছে সেইভ বাংলাদেশ ফুটবল ও বাংলাদেশ ফুটবল আলট্রাস নামে ফেসবুক গ্রুপ। করোনা মহামারীকে পিছনে ফেলে আজ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম যেন তার চিরযৌবনা খুঁজে পেয়েছে।

জেমি ডের তারুণ্য নির্ভর একাদশ দেখে উচ্ছ্বসিত ছিল লাল সবুজের সমর্থকেরা।

ম্যাচের শুরতেই বাংলাদেশ প্রেস করে খেলার চেষ্টা করে। অভিষেক হওয়া সুমন রেজা তার নামের শেষে ঠিক মার্ক তুলে ফেলেছেন। ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় কাঙ্ক্ষিত গোল পায় বাংলাদেশ। সাদের এসিস্টে দুর্দান্ত গোলের সূচনা করে দেন নাম্বার নাইন জীবন। এরপর আরো কয়েকটি আক্রমণ হলেও ফিনিশিং ব্যর্থতায় গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে লাল সবুজের বাংলাদেশ। ২০ মিনিটে তপু বর্মণের অসাধারণ হেড গোলবারের বাইরে না গেলে নিশ্চিত গোলের সম্ভাবনা ছিল। মানিক মোল্লা সকলের নজড় কেড়েছেন খেলেছেন ব্রাজিলের ক্যসিমেরুর মতো, ১৫ মিনিটের সময় তার দূরপাল্লার বারুদ শর্ট নেপালের গোল রক্ষক কিরণের প্রচেষ্টায় বেঁচে ফিরে সেবার। নেপাল আক্রমণে উঠেও পরাস্ত হয়েছেন রিয়াদ তপু বিশ্বনাথদের কাছে। ১-০ তে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলার মোমেন্ট খুজে পায় নেপাল।মধ্যমাঠকে কেন্দ্র করে বারবার আক্রমণে উঠে নেপাল। ৫৬ মিনিটে ডিবক্সে দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন পায়সান। দ্বিতীয়ার্ধে জামাল, মানিক ও জীবনকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেন জেমি ডে। মাঠে নামেন সোহেল রানা, সুফিল ও ইঞ্জুরী কাটিয়ে উঠা ফাহাদ। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে লং থ্রো থেকে ব্যাকহেডে গোলবারে আঘাত হানা বিপর্যস্ত জায়গায় গোল সেইভ করেন আনিসুর রহমান জিকো। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে নিশ্চিত গোল বাঁচান কিরণ ফ্রিকিক থেকে অনবদ্য শর্ট নেন তপু বর্মণ। ম্যাচের ৮০ মিনিটে সোহেল রানার পাসে লেফট উইং থেকে দ্রুত গতিতে মাহবুবুর রহমান সুফিল অসাধারণ নিপুণ দক্ষতায় গোল কিপারকে পরাস্ত করে ২-০ তে এগিয়ে নেন বাংলাদেশকে। এরপর বল নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকে বাংলাদেশই। এই ঠান্ডার মাথার দারুণ গোলে দেখতে আসা দর্শকদের মনে বাংলাদেশের ই জয়গান।

তবে বাংলাদেশের রক্ষণ ছিলো আজ দেখার মতো।ম্যাচ শেষে জামালের দেয়া প্রতিশ্রুতি যেন ঠিকে গেলো আমরা প্রতিশোধ নিতে চায়। গেলবার বাংলাদেশ ২০১৮ এর সাফে ২-০ তে হেরে বসেছিলো। অনেকদিন পর বাংলাদেশ ফুটবলের এই বিজয় সামনের ম্যাচগুলোতে নিশ্চয় মনোবল বাড়বে খেলোয়াড়দের। কিছু অনুপ্রেরণা রিজার্ভ হয়ে থাকল।