নোংরামি ছাড়াও ফুটবল উপভোগ করা যায়, ভালোবাসা যায়

0
83

ফাহাদ আসমার (সিডনী, অস্ট্রেলিয়া) চরম উত্তেজনার পয়সা উসুল এক ক্লাসিকো হল গতরাতে, সে খেলা দেখার পর থেকে এক ধরণের ঘোরের ভেতর আছি। নিজের চোখে দেখা সে খেলা এবং নিজের অনুভূতিতে কিছুটা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করলাম। ফুটবল ভক্ত নামের যেসব শিশুরা দুই লাইনের পুরনো এবং বস্তাপচা সস্তা ট্রল খুঁজছেন, এ লেখা তাঁদের জন্য নয়-

“এখানে ভোর সাতটায় খেলা, এই উপলক্ষে কাজ কর্ম সব জলাঞ্জলি দিয়ে সাররাত না ঘুমিয়ে বসে ছিলাম স্ক্রিনের সামনে। আপনি যে দলেরই সাপোর্টার হন না কেন, ফলাফল ভুলে গেলে এমন একটা ম্যাচ দেখাও শান্তি। প্রথমার্ধের পুরোটা সময় পিংপং বলের মত চোখ একবার মাঠের ডানে একবার বামে গিয়েছে। মাঝখানে বিরতির সময় আর পারছিলাম না, ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছিল। কড়া এক কাপ ব্ল্যাক কফি খেয়ে বসেছিলাম এই মহাযুদ্ধ দেখবো বলে। নাহ হতাশ হইনি, এরকম একটা দ্বৈরথ প্রত্যক্ষ করা যে সকল ফুটবল বোদ্ধার স্বপ্ন।

যারা জিতেছে তারা ট্রল করছে, যারা হেরেছে তারা ইতিহাস টেনে ধরে ডিফেন্ড করছে, পাল্টা ট্রল করছে। ভাইরে, খেলাটা দরকার হলে আরও একবার দেখেন, আপনার তো বিস্ময়ে নির্বাক হয়ে যাবার কথা, ট্রল করবেন কখন? ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এ ধরণের খেলা দেখা যায়, মনেই হয়নি যে লা লিগা দেখছি।
বহুদিন পর এক মাদ্রিদ দেখলাম, হোয়াইট হাউজ দেখলাম, এ সেই চ্যাম্পিয়ন মাদ্রিদ। কি ছিল না তাঁদের খেলায়, এক বেঞ্জেমা ছাড়া পুরো টিমের প্রতিটা খেলোয়াড় প্রতিটা পজিশনে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। আর বার্সা, যারা ট্রল করছেন তাদেরকে বলছি, বার্সা কিন্তু খারাপ খেলেনি, যদিও তাদের সাম্প্রতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নয়।

এইযে বার্সা ভালো খেলেনি, তার জন্য তাদেরকে ট্রল না করে কেন ভালো খেলতে পারেনি সে কথাটাও বলুন। দুদলেরই এমন একটা উজাড় করে দেয়া পজিটিভ ফুটবল দেখে পজিটিভ কথা বলুন। খেলার শুরুতেই মার্সেলোকে দেখে ভয় পেয়েছিলাম, ভেবেছিলাম এই মার্সেলোই আজ ডুবাবে। অথচ মার্সেলো যেন বহুদিন পর ১৬/১৭ সিজনে ফেরত গিয়েছে। যারা বলছেন মাদ্রিদে এটাই মার্সেলোর সেরা খেলা, তারা স্মৃতিশক্তির সমস্যায় ভুগছেন। রোনালদো থাকাকালীন যে মার্সেলো ছিল সে আর কোনদিন ফিরে আসবে না। কারণ ক্রস তুলে দেয়ার মত সেই স্ট্রাইকার নেই মাদ্রিদে। তবুও বহুদিন পর বুড়োটা যে খেলা দেখালো নস্টালজিক হয়ে পড়েছি।

মেসিকে নিয়ে ভয় ছিল, সেটা থাকাটাই স্বাভাবিক। সে ম্যাজিশিয়ান, শুকনো মাঠেও ফুল ফোটাতে পারে। অথচ তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁর রেটিং নিয়ে ট্রল হচ্ছে, অথচ কেন মেসিকে পাওয়া যায়নি কেউ কি দেখেছেন? কাসেমিরোর ট্যাকলগুলো দেখেছেন? কারভাহাল, মার্সেলো, ক্রুস, ভালভারদের ডিফেন্সিভ মেকানিজম দেখেছেন? যেই ছেলেগুলো মেসির মত এমন একটা দানবকে বোতলবন্দী করে ফেললো তাঁদের কৃতিত্ব দিন কিছুটা। রিয়াল সমর্থকেরা দিচ্ছে না কারণ তাতে মেসির অতিমানবিকতাটা স্বীকার করা হয়ে যাবে, বার্সা ফ্যানেরা দিচ্ছে না কারণ তাতে রিয়াল ভালো খেলেছে বলে ফেলা হবে। অথচ, স্বীকার করুন বা না করুন আপনাদের দেখা অন্যতম পজিটিভ ম্যাচ ছিল এটা।

বেঞ্জেমা যেমন মাদ্রিদের হতাশা ছিল, তেমনি গ্রিজম্যান বার্সার। বরাবর বিপক্ষ টিমে খেললেও গ্রিজম্যান খুব পছন্দের একটা খেলোয়াড়। গতকাল বার্সার ফরোয়ার্ড লাইনে সবচেয়ে ভালো সেই খেলেছে। অথচ পাসাপাসি করতে গিয়ে এতোগুলো সুযোগ থাকার পরেও বেশিরভাগই শট নিতে পারলো না। হয়তো টিম প্লেয়ার হতে গিয়ে, সমর্থক আর সতীর্থদের ভালোবাসা, বিশ্বাস আদায় করতে গিয়েই পাসাপাসি করেছে কিন্তু সে ভুলে গেছে যে মেসি নিচে চলে যাওয়ায় সেই ছিল নাম্বার নাইন। বেঞ্জেমা কি করছে দলে আমি জানি না, ভালোবাসা আছে, সন্মানও আছে কিন্তু যে খেলোয়াড় একশো ক্রস পেলে একটাতে পা লাগায় সে মাদ্রিদের মত দলের ফরোয়ার্ডে যায় কিনা পাপা পেরেজ ভালো জানেন।

বার্সার সবচেয়ে আন্ডাররেটড দুই খেলোয়াড় ভিদাল এবং বুড়ো বুসকেটস যদি গতকাল না খেলতো তাহলে খেলার ফলাফল কি হত সেটা হার্ডকোর বার্সা ফ্যানেরাও চিন্তা করার দুঃসাহস দেখাবে না। গতরাতে এক বুসকেটস ছিল তাঁর সেরা ছন্দে। আচ্ছা এত যে রূপকথার গল্প, সে গল্পের নায়ক ডি ইয়ং কোথায় ছিল কাল? অথচ বার্সা যাকে সবচেয়ে আন্ডারএস্টিমেট করে সেই এক ভিদালের ছায়াতেই তাকে খুঁজে পাওয়া গেল না। আর্তুরো ভিদাল একটা মেশিন, অফেন্সিভ কিংবা ডিফেন্সিভ। জর্দি অ্যালবার প্রথমার্ধ ভালো ছিল, ভালো ছিল সোমেডো। টের স্টেগান যে সেরাদের একজন সেটা তো আবারো প্রমাণ করে দিল। সবাই পিকে’কে নিয়ে ট্রল করে। অথচ পুরো ডিফেন্সিভ স্ট্রাকচারে পিকের চেয়ে ভালো বা কাছাকাছি খেলেছে বার্সার এমন আর একজন দেখানতো গতরাতে?

মাদ্রিদ নিজের টিম, তারওপর ম্যাচজয়ী তাই খুব বেশি কিছু বলার নেই। তবে মানবতার ফাঁক বলে আপনারা সমানে যাকে ট্রল করেন একটা স্যালুট কিন্তু তাঁকে দিতেই পারেন। একটা গোলকিপার কতটুকু আত্মবিশ্বাসী এবং কুল হেডেড পজিটিভ ফুটবল খেলতে পারে সেই উদাহরণ দেখাতে ম্যাচের ভিডিও সেভ করে রাখতে পারেন। একঝাঁক বার্সা প্লেয়ারের মাঝে দাঁড়িয়েও, গোললাইন ছেড়ে তাঁর ব্যাকপাস দেয়ানেয়া কতবার বুকের মাঝখানে কামড় দিয়েছে সেটা দুদলের সমর্থকই স্বীকার করবেন। আর কার্ভাহাল, আহা কার্ভাহাল। আগের ম্যাচে ম্যাড়ম্যাড়ে পারফরম্যান্সের পুরোটাই যেন উসুল করিয়ে দিল। এরকম ওয়ার্করেট দেখে ডানপাশের ত্রাস হয়ে ওঠা বার্সার সময়ের সেই দানি আলভেজও হাততালি দেবে নিশ্চিত।

গতরাতে অসাধারণ খেলা মাদ্রিদ মাঝমাঠের প্রানভোমরা প্রফেসর ক্রুস প্রতিম্যাচেই এমন খেলেন, তাঁকে নিয়ে আর নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে তাঁর নতুন করে শ্যুটিং প্র্যাকটিস করাটা জরুরী। ডি বক্সের বাইরে থেকে তাঁর কামানের গোলাগুলো একটাও লক্ষের ধারেকাছে ছিল না, ছিল না সেই ধার। এই রিয়ালের খেলার সাথে ইস্কো যায় না, ইস্কো রিয়াল টাইপ না। তবুও সুযোগ পেয়েই জাত চিনিয়েছে সে। ভিনিসিয়াস অবশেষে পাসাপাসি, মোচড়ামুচড়ি বাদ দিয়ে গোলে শট নেয়ার মত সাহস দেখালো। যে গতি আর স্কিলের সমন্বয়ে সে খেলেছে, বেঞ্জেমা না হয়ে একটু ইয়াং যে কোন স্ট্রাইকার তাঁর সাপোর্টে থাকলে কে জানে ফলাফল কি হত। আর আমাদের ভালভারদে, আহা যেন একটা রঙধনু। এই বাচ্চা ছেলেটাকে নিয়ে যতই ট্রল করুন, বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় বলে উড়িয়ে দেন, খোঁজ নিয়ে দেখেন পুরো সিজনে আকাশ্চুম্বি নাম নিয়ে আশা ডি ইয়ং এর সাথে তাঁর তুলনাটা কেমন হয়। এবং আরও একটা বড় ম্যাচের ম্যান অভ দ্যা ম্যাচ। শুধু কি তাই, শেষ দুই ক্ল্যাসিকো আর শেষ দুইটা মাদ্রিদ ডার্বির কিং অব দ্যা ম্যাচ সে। অথচ মাদ্রিদ ডার্বি তে এক লাল কার্ডে যতটা ধুয়ে শুকিয়ে আবার ধুয়েছেন তার সিকিভাগ স্বয়ং এটলেটিকো কেলোয়াড়/ফ্যান করেনি। শুধু রাইভাল বলে? এই বাচ্চাটা একদিন অনেক বড় হবে, যদি ইনিয়েস্তা কিংবা জিদান হয়ে যায় আশ্চর্য হব না।

গোল নয়, মাদ্রিদের যে খেলাটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে তা হল ট্যাকল, বল ছিনিয়ে নেয়া। মেসির মত ম্যজিশিয়ান বল পায়েই রাখতে পারেনি। কিছুটা এক বুসকেটস ছাড়া আসলে কেউ পারেনি। এত বিপুল এনার্জি, এত ক্ষুরধার ট্যকল, এত ছিন্নভিন্ন করে দেয়া গতি যদি কাছাকাছি পরিমাণ অন্য ম্যাচগুলোতে ঠিক রাখতে পারতো, মাদ্রিদ লা লিগায় এ সিজনের লিভারপুল হয়ে যেত।

আমি সেতিয়েনের কৌশল ঠিক বুঝতে পারিনি। আজ সে মাদ্রিদের গতির কাছেই হেরেছে মূলত। প্রতিটা ওয়ান ওয়ান দৌড়ে মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের গতি বেশি ছিল। মেসি কে এত নিচে নামিয়ে খেলানোটা ঠিক ধরতে পারি না। তাঁর অর্ধেক টিকিটাকা স্লো স্টাইল বারবার মার খেয়ে গেছে জিদানের কাউন্টার এটাকে। হ্যাঁ, চিরচেনা দ্রুতগতির কাউন্টার এটাক খেলা সেই মাদ্রিদ আবার চেনারুপে ফিরে এসেছে। যদিও একইরকম কাউন্টারে খেলা ছোট কিন্তু তরুণ কোন দলের বিপক্ষে হয়তো কিছুটা ঝামেলা হবে। দুপাশে ভিনিসিয়াস, ভালভারদে যতই গতিময় হোক না কেন সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ডে বেঞ্জেমার মত কচ্ছপ থাকলে এই কাউটারে কোন লাভ নেই। বহুবার দেখা গেছে ভালভারদে কিংবা ভিনিসিয়াস দ্রুতগতিতে ডি বক্সে চলে গেছে কিন্তু পাস দেয়ার মত কেউ নেই সেখানে। বার্সাকে ছোট দল বলছি না, কিন্তু যদি কৌশল না পালটায় তাহলে এই মাদ্রিদের সাথে যতবার খেলা হবে ততবার হারবে।

Image result for el clasico

যারা ট্রল করছেন, তারা করবেন এটাই স্বাভাবিক। ট্রল এই ফুটবলেরই একটা অংশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু ব্যাপারটা খুব বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে না? একসময় দু একটা ট্রলের পাশাপাশি চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী প্রচুর পোস্ট দেখা যেত বাংলায়। ইদানীং মনে হয় তারাও ট্রলের ভয়ে আর কষ্ট করে লিখছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কষ্ট করে বিশ্লেষণধর্মী বড় পোষ্ট দেয়ার চেয়ে দুই লাইনের ট্রল পোস্টে একশগুণ বেশি ট্রাফিক পাওয়া যায়, পাওয়া যায় সস্তা তালি আর ক্যাচাল। এত সস্তায় কেন আপনারা বিনোদিত হন? ঘুম ভাঙতে সবগুলো ফুটবল গ্রুপে শুধু ট্রলই দেখছি, ঘুরে ফিরে একই কথা বারবার। ভাই, বুকে হাত দিয়ে বলেন, ট্রল করার পরেও আনন্দিত কিংবা শিহরিত হবার মত পজিটিভ কিছু কি পাননি এই ম্যাচে? তাছাড়া, ট্রল করার জন্য আপনারা কি নতুন কিছু বানাতে পারেন না? ঘুরেফিরে সেই ওয়াইফাই কানেকশন, ট্রেইনিং গ্রাউন্ড, এলিয়েন, কাঠের টুকরা, গর্ত থেকে বেরিয়ে আসা, দুবাই ডি’অর, কার্ডবাবা এগুলো আর কত? দয়া করে নতুন কিছু আনুন, কুমিরের ছানা দেখানোর মত প্রতিদিন হাজারবার সেই এক বস্তাপচা জিনিস কপি পেস্ট না করে নতুন কিছু ভাবুন। মজার মজার ট্রল করাটাও একটা প্রতিভা, আর সে প্রতিভা না থাকলে অসুস্থ ট্রল করা বাদ দিন। সবচেয়ে বাজে ট্রল কি জানেন? মহাজোট, ঐক্যজোট টাইপ বুলশিট। আমার কথাই যদি বলি, মাদ্রিদ আমার প্রাণ। অথচ ছোটবেলার প্রথম ফুটবল ক্লাব মালদিনির সেই এসি মিলান। মাদ্রিদের বাইরে প্রায় দু দশক যে দলগুলোর খেলা দেখেছি, ফলো করেছি কিংবা সাপোর্ট করেছি সেগুলোর নাম সাহসের সাথেই বলতে পারি। ইংলিশ লিগে সিটি-লিভারপুল,বুন্দেসলিগায় ডর্টমুন্ড-শালকে ০৪, লিগ ওয়ানে অলিম্পিক লিঁও-মার্শেই, সিরি আ তে মিলান-ইউভেন্টাস, পর্তুগালে পোর্তো, ডাচ লিগে আয়াক্স-পিএসভি (ফার্স্ট টিম আগে)। তাহলে এবার বলেন আমি কোনজোট? হ্যাঁ রোনালদো খেলছে বলেই হয়তো মিলানের চেয়ে ইউভেন্টাসের খেলা বেশি দেখছি। হ্যাঁ ভাই, ফুটবলের ক্ষুধায় খেলা ফলো করা, ভিন্ন ভিন্ন লিগের খেলা দেখা এবং তখন কোন কোন দলকে সাপোর্ট দেয়া আর ডাইহার্ড ফ্যান হওয়া এক ব্যাপার নয়। মাদ্রিদ-লিভারপুল ইউসিএল ফাইনাল আমি এই সিডনিতেই বড় স্ক্রিনে দেখার সময় দেখেছি প্রায় সব বার্সা ফ্যান লাল জার্সি পরা। শুধু তাই না, সে খেলায় মাদ্রিদ সমর্থকের সংখ্যা ছিল এখানে খুব বড়জোর ৩০%। তারা কিভাবে মাদ্রিদ-লিভারপুল একজোটে ফেলে?

এ শতাব্দীর ফুটবলের এক মহাতারকা খেলছিলেন মাঠে, আরেকজন বসে দেখছিলেন গ্যালারীতে। শুধু ফুটবলে নয় সব খেলায় সর্বাকালের সবচেয়ে বড় এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর উপস্থিতি জানান দেয় কত বিশাল খেলা ছিল এটা। ভাই এই ছবিটা সেভ করে রেখে দেন। আর তাঁরা যখন একসাথে একইমাঠে খেলেছে সে ছবিগুলোও বাঁধাই করে রাখুন সম্ভব হলে। বিশ্বাস করেন, আর বেশিদিন নেই। পেলে গারিঞ্চাদের বহুবছর পর এসেছিল ম্যারাডোনা। তার বহুবছর পর আপনি পেয়েছেন মেসি-রোনালদো, তাও একসাথে একই সময়ে। একবার শুধু ভাবুন আপনি আমি কতোটা ভাগ্যবান। তুলনাতো অনেক করেছেন, ট্রল সারাদিন করেন। কিছুটা ভালোবাসা, সন্মান তাঁরা নিজ যোগ্যতাতেই প্রাপ্য। দুজনকে একসাথে ভালবাসলে প্লাস্টিক ফ্যান বলবে লোকে? বলুক না। ৯৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে বাজিলের জয়ে রোমারিওর পোস্টার নিয়ে যেমন উল্লাস করেছি, রবার্তো ব্যাজ্জিওর কান্না দেখে চোখ মুছেছিলাম বারবার অথচ তখন এই খেলাটা গোল ছাড়া আর কিছুই বুঝতাম না। রোনালদো দি লিমা ছিল সবচেয়ে প্রিয় খেলোয়াড়, অথচ লুকিয়ে চুরিয়ে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার গোলে উল্লাস করেছি বহুবার। ব্যাপারটা হাস্যকর কিন্তু সেই ছোটবেলায় মনেপ্রাণে চাইতাম চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা হেরে যাক, কিন্তু বাতিস্তুতা একটা গোল পাক। জার্মানির কাছে ফাইনালে হেরে মেসির করুন চোখে বিশ্বকাপ ট্রফির দিকে তাকিয়ে থাকাটা যদি আপনার বুকের মাঝখানে না লাগে তবে আপনি ফুটবল ফ্যান নন, অবশ্যই এটা ব্যক্তিগত মতামত। না আমি ব্রাজিল ফ্যান তাই মেসির হাতে কাপ উঠুক চাইনি। তাই বলে কি প্রতিপক্ষের প্রতি সন্মান, ভালোবাসা থাকতে পারবে না? জেতাই যদি ফুটবল খেলার একমাত্র উদ্দেশ্য হত তাহলে তো টস করে এক পক্ষকে জিতিয়ে দিলেই হয়। সব খেলার মত ফুটবলেও দিন শেষে জয় পরাজয় মুখ্য কিন্তু তাই বলে খেলাটা দেখবেন না? ভালোবাসবেন না? প্রিয় দলকে অবশ্যই ভালবাসবেন, জিতে এমনকি হেরেও এগিয়ে রাখবেন কিন্তু যদি প্রতিপক্ষকে সন্মান না জানাতে পারেন তাহলে কোনদিন ফুটবল সমর্থক না। পৃথিবীর ইতিহাসে বড় বড় সব যুদ্ধেও দেখবেন জেনারেলরা কীভাবে প্রতিপক্ষকে সন্মান জানিয়েছে। এবং তারাই ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। যারা শুধুমাত্র প্রিয় দল বা খেলোয়াড়ের খেলা হলেই দু একটা দেখে বিশাল পণ্ডিত বনে যায়, নোংরা ট্রলের বেশিরভাগ তারাই করে। তারা ফুটবল দেখেনা, শুধুমাত্র প্রিয় খেলোয়াড়ের জয় পরাজয় দেখে, তাদের জন্য করুণা। ভাই ফুটবল দেখুন, ভালবাসুন। এত সুন্দর একটা খেলা যদি ভিন্ন ভিন্ন দল আর মাঠে না দেখেন ঠিক অনুভব করবেন না।

দিনশেষে এত চমৎকার একটা খেলা উপহার দেয়ার জন্য দু’দলকেই ধন্যবাদ।
আলা মাদ্রিদ।