দেশের ফুটবলে একই দীর্ঘশ্বাস আর কতদিন?

গতকাল ভারতের মাটিতে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের শেষদিকে হাঁপিয়ে উঠা বাংলাদেশ দলকে নিয়ে একটু উঁহ্-আহ্ হচ্ছে ঠিক, তবে জেনে রাখুন এমন আফসোস অনেক আগেই পার করে আসা যেতো। বিপ্লব-রজনীদের মতো সিনিয়রদের বাদ দিয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ, তরুণ ও ফিট ফুটবলারদের নিয়ে ব্রাজিলিয়ান ডিডো যখন জাতীয় দল গঠন করেন তখন তাকেই তোপের মুখে পড়তে হয়।

সিনিয়র এসব ফুটবলাদের প্রতি ফেডারেশনের পক্ষপাতীত্বের জের ধরে ডিডো বিদায় নেয়। বিদায় নেয় নব্বই মিনিট সমানতালে লড়ার মতো টিম নিয়ে খেলার স্বপ্ন। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, দশ বছর আগের কথা এসব। তখন ভারত-বাংলাদেশের ফুটবলে খুব বেশি তফাৎ ছিলো না, খুব বেশি হলে ঊনিশ-বিশ ছিলো।

এখন তাদের আইএসএলে স্প্যানিশ ফুটবলাররা খেলে, বুড়িয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক তারকারা খেলে। তাদের আই লীগ দক্ষিণ এশিয়ার সেরা পেশাদার লীগ। তাদের ফুটবল ম্যানেজমেন্ট খুব শক্তিশালী। আমাদের দেশের প্রথম বিদেশী পেশাদার লীগে খেলা ফুটবলার সালাউদ্দিন যে স্বপ্ন দেখিয়ে দায়িত্ব নেয়, সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। ফুটবলারদের কালে-ভদ্রে বিদেশী লীগে খেলার ডাক এলেও সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ফেডারেশন সেভাবে সাহায্য করে না। ফুটবলাররাও জাতীয় দলের রাডারের বাইরে চলে যাওয়ার ভয়ে বাইরে খেলার সুযোগ বিসর্জন দিতে হয়। ভারতের ফুটবল যতটা এগিয়েছে, আমাদের ফুটবল ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছে। পিছিয়ে যাচ্ছে খেলোয়াড়দের মানের জন্য না, পিছিয়ে যাচ্ছে ফেডারেশনের অদক্ষতায়, দক্ষ সংগঠকদের মূল্যায়ন না করে সালাউদ্দিনের মতো মানুষদের গুটিবাজির খেলায়।

কেউ কি জানেন ইউরোপের ক্লাবে ট্রায়াল দিয়ে আসা হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস জাতীয় দলের বাইরে কেন? উত্তরটা হেমন্তও দিতে সাহস করবে না। অপেশাদার ফেডারেশন দিয়ে জামাল ভূঁইয়ার মতো পেশাদারদের দীর্ঘদিন সার্ভিস পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার, আসলে অপেশাদার ফেডারেশন ও ক্লাবগুলোর জন্য আমাদের পাওনা মামুনুলের মতো বিশৃঙ্খল ফুটবলার, যে নিজের ক্যারিয়ার তো ধ্বংসের মুখে ফেলেছেই, সাথে অন্য ফুটবলারদেরও বিপথে নিয়ে গেছে।

জেমি ডে-কে দিয়ে হয়তো কিছুদিন ভালো রেজাল্ট পাওয়ার মতো টিম পাওয়া যাবে, তবে দেশে মানসম্মত অনেক ফুটবলার পাওয়ার জন্য পেশাদার ক্লাব, পেশাদার ফেডারেশন দরকার। না হয়, ভারতের কাছে ভবিষ্যতে নাকানি-চুবানি খেতে হবে। তারা এখন এশিয়ান কাপ খেলে, আর আমরা?

সাফ জেতার স্বপ্ন দেখে তৃপ্তির ঢেকুর তুলি!