দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে কেন যায় না বাংলাদেশীরা?

0
41

‘লয়ালিটি’ শব্দটি ফুটবলের সাথে পরিচিত সবাই চিনে। একটি ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা থেকে নিজের পুরো ক্যারিয়ার কাটিয়ে দেন এই ক্লাবে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছেন। লয়ালিটির প্রমাণ দিয়ে নিজের ক্যারিয়ার শেষ করে নিজের প্রাণ প্রিয় ক্লাব থেকেই। ইউরোপ বা উন্নত ফুটবল দেশের এমন অনেক বড় ফুটবলারই রয়েছে যারা শুরু থেকে শেষ পযর্ন্ত এক ক্লাবেই খেলেছেন।

এমন তালিকায় সবার উপরে থাকবেন রোমার ট্টটি। লয়ালিটি শব্দটা তার জন্যই হয়তো সবচেয়ে বেশি মানায়। ১৯৮৯ সালে রোমার যুব দলের হয়ে খেলা শুরু করেন ইতালির সর্বকালের সেরাদের একজন ট্টটি। ১৯৯২ সালে চলে আসেন রোমার মূল দলে। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজেকে প্রমান করে গেছেন রোমার জার্সিতে। দীর্ঘ ২৫ বছর রোমার জার্সিতে খেলে ২০১৭ সালে রোমার হয়েই বুট জোড়া তুলে রাখেন ট্টটি। লম্বা সময় এই ক্লাবে ছিলেন ক্লাবকে অনেকটাই ভালোবাসতেন তিনি যার কারনে অনেক টাকাও তাকে অন্য ক্লাবে নিতে পারেনি।

আরেক ফুটবলার হচ্ছেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা কাটিয়েছেন স্পেনে ক্লাব বার্সালোনাতে। নিজের শেষটা তিনি বার্সাতে করেনি। জাপানে করছেন কিন্তু বার্সালোনার প্রতি তার ভালোবাসা বা লয়ালিটি যাই বলি না কেন প্রংশসার দাবি রাখে। ২০০১-০৩ বার্সালোনা যুব দলে খেলা শুরু করেন। ২০০২ ডাক পান মূল দলে। সেখান থেকে ২০১৮ পযর্ন্ত বার্সালোনার জার্সিতেই খেলেছেন এই স্পেনিস লেজেন্ড। ২০১৮ সালে ক্লাব ছেড়ে পাড়ি জমান জাপানে। কিন্তু ভালোবাসা বা লয়ালিটি আজো কমেনি।

বাংলাদেশের ফুটবল লেজেন্ডদের দিকে তাকালে সবার উপরে আসে কায়সার হামিদের নাম। শুরু এবং শেষ করেছেন সাদা কালো মোহামেডানের হয়ে। বাফুফে সভাপতী কাজি সালাউদ্দিন হয়ে উঠেছিলেন আবাহনীর ঘরের ছেলে। ১৯৭২ তে আবাহনীতে যোগ দিয়েছিলেন। মাঝে এক মৌসুম ১৯৭৫-৭৬ খেলেছিলেন বিদেশী ক্লাবে। ১৯৮৪ পযর্ন্ত ফুটবল খেলেছেন আবাহনীর হয়ে। আবাহনীর কোচও ছিলেন এই ফুটবলার।

বর্তমান সময়ে ফুটবলাদের মধ্যে ওয়ালি ফয়সাল দীর্ঘদিন আবাহনীর হয়ে খেলছেন। এখনো আবাহনীতেই আছেন এই ফুটবলার। তার সাথে আবাহনীর সোহেল এবং প্রাণোতোষরা দীর্ঘদিন আবাহনীর জার্সিতেই খেলছেন।

কিন্তু বর্তমানে তা আমাদের প্রায় খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা যায় না। প্রত্যেক মৌসুমেই ক্লাব পরিবর্তন করছে আমাদের ফুটবলাররা। ১/২ মৌসুমের বেশি এক ক্লাবে থাকছেন না তারা। এমনটা হওয়ার কারন শুধু টাকা। টাকা বাড়তি দিলেই ক্লাব পরিবর্তন করছে খেলোয়াড়রা। বর্তমান সময়ের সেরা ফুটবলার জামাল ভূইয়া এবার ২য় মৌসুম সাইফে কাটাবেন। এছাড়াও ইমন বাবু আবাহনীতে নিজের সেরা সময়টা কাটালেও সর্বশেষ মৌসুমে যোগ দেন বসুন্ধরাতে। আবাহনীতে ছিলেন ২ বছর।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কারোই নেই বললে চলে। দীর্ঘদিন কোনো ক্লাবের হয়ে খেলবে বা থাকবে বা ভালোবেসে ফেললাম এমনটা আমাদের বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে খুব কমই দেখা যাচ্ছে।

১ বছরের বেশি চুক্তি করতে তারা রাজি নয় যেখানে ইউরোপে ৬/৭ বছরেরও চুক্তি হচ্ছে। ভালো করলেই ক্লাব পরিবর্তন অতিরিক্ত মূল্য নিয়ে চলে যায় নতুন ক্লাবে। ক্লাব পরিবর্তন করে দীর্ঘ পরিকল্পনায় যেতে রাজি নয় খেলোয়াড়রা। বিপদে পড়তে হয় ক্লাবগুলোর। যেমন- বসুন্ধরা কিংস এইবারের মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন। তারা সামনের বার এএফসি কাপে অংশ নিবে। এএফসি কাপ টার্গেট করেই দল করে ছিলো ক্লাবটি। কিন্তু ১ বছরের বেশি কেউ চুক্তি না করায় খেলোয়াড়রা ছাড়তে পারেন ক্লাব। এতে আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে খারাপ ফল আসে বাংলাদেশের ক্লাবগুলো। বসুন্ধরার প্রধান গোলরক্ষক জিকো, ডিফেন্ডার নাসির, মিডফিল্ডার ইমন বাবু সহ আরো কিছু খেলোয়াড়রের ক্লাব ছাড়ার গুন্জন রয়েছে। এতে তাদের এএফসি কাপের পরিকল্পনা খারাপ হয়ে যাচ্ছে এবং আবার তাদের নতুন পরিকল্পনা করতে হতে পারে।

এতেই প্রশ্ন উঠছে দীর্ঘদিন চুক্তি কেন নয়? কেন এক খেলোয়াড় ১/২ বছরের বেশি ক্লাবে থাকছে না?