তিন দশকের অপেক্ষা, ইংলিশ লিগের শিরোপা

0
12

৭৭তম মিনিটে টমি আব্রাহামের প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে ফেরালেও সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ম্যানচেস্টার সিটির ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ফার্নানদিনহো।

ভিএআরের সাহায্যে ততক্ষণে যে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিলো টমির নিশ্চিত গোল হাত দিয়ে ফেরান এই মিডফিল্ডার, তাতে নিজে তো লাল কার্ড দেখেনই উল্টো চেলসিকেও পেনাল্টি উপহার দেন। আর স্পট কিক থেকে গোল থেকে বিন্দুমাত্র বেগ পেতে হয়নি চেলসির ব্রাজিলিয়ান উইংগার উইলিয়ানের। আর উইলিয়ানের এই গোলেই যেনো ইতিহাস রচিত হয়ে গেছে। চেলসি কোনো শিরোপা জিতেনি, উইলিয়ান সাধারণ এক পেনাল্টিতে গোল বৈ কিছুও করেনি। তারপরেও ইতিহাস রচনা? সেটা কিভাবে?

আগের দিন ঘরের মাঠে ক্রিষ্টাল প্যালেসকে হারিয়ে বিজয় মঞ্চ তৈরীই করে রেখেছিলো ক্লপের শিষ্যরা। দরকার ছিলো মাত্র ২ পয়েন্টের। যেটা পরের ম্যাচ জিতলেই হয়ে যেতো। কিন্তু চেলসির মাঠে ম্যানসিটির হারের পর সাত ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে গেলো লিভারপুলের। ৩০ বছর পর প্রথমবারের মতোন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জয় তাও আবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী চেলসির কাছ থেকে অগ্রীম উপহার, সবুরে মেওয়া ফলে। আসলেই?

বৃহঃস্পতিবার রাতে ঘরের মাঠে ম্যাচের ৩৬তম মিনিটেই পুলিসিচের গোলে এগিয়ে যায় চেলসি।
অবশ্য তাতে যেনো ম্যানসিটির অবদান বেশী। অতিথিদের দুই ডিফেন্ডার বেঞ্জামিন মেন্ডি আর গুন্ডোগানের নিজেদের মধ্যে ভূল বোঝাবুঝিতে বল পেয়ে যায় পুলিসিচ। আর তা থেকে দলকে এগিয়ে নিতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি চেলসির এই আমেরিকান রিক্রুট। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই ডেসিংরুমে যায় স্বাগতিকরা।

বিরতির পর আবারও আক্রমণ – পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ গড়াতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ৫৫তম মিনিটে অসাধারণ এক ফ্রিকিক থেকে গোল করে পেপের দলকে সমতায় ফেরান সিটির বেলজিয়াম মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইন। সেই সাথে যেনো আবারও অপেক্ষা বেড়ে যায় এই ম্যাচে না খেলেও আড়াল থেকে ম্যাচের সাথেই জড়িয়ে যাওয়া লিভারপুল। ৭৪তম মিনিটে চেলসির আক্রমণ গোললাইন থেকে থেকে ঠেকিয়ে দেয় ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু পরেরবার আর অাঁটকে রাখা যায় নি ব্লুজদের।

৭৭তম মিনিটে অতিথিদের মিডফিল্ডার ফার্নানদিনহো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তো ফিরতি পেনাল্টি থেকেও গোল করে চেলসির জয় অনেকটাও নিশ্চিত করে দেন উইলিয়ান। দশজনের দল নিয়ে শেষপর্যন্ত আর পেরেও উঠেনি পেপ গার্দিওয়ালার শিষ্যরা। শেষ বাজি বাজার সঙ্গে সঙ্গে তাই দুইশো মাইল দূরের লিভারপুলে যেনো আনন্দ উৎসব শুরু হয়ে যায়। যার রেশ ছড়িয়ে পরে গোটা বিশ্বের আনাচে-কানাচেতে থাকা লিভারপুলের ভক্তদের মাঝে।

১৯৮৯-৯০ এর পর দীর্ঘ ৩০ বছর পর ইংলিশ লিগ জেতার সৌভাগ্য হলো লিভারপুলের। যদিও শেষবার জয়ের সময় এই লিগের নামকরণ ছিলো ” ইংলিশ ফাস্ট ডিভিশন ” তাই প্রিমিয়ার লীগ নামকরণ হওয়ার পরেও প্রথম শিরোপা জয় করলো লিভারপুল। সব মিলিয়ে ১৯ বারের মতো ইংলিশ লীগ জয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে ক্লপের শিষ্যরা। যদিও করোনার জন্য আপাতত বড় কোনো উৎসব করা হবে না।

অন্যদিকে এই জয়ে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লীগে নিজেদের পথ আরো সুগম করে তুললো অল ব্লুজরা। ৩১ ম্যাচ শেষে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে চেলসি রয়েছে টেবিলের চতুর্থ স্থানে। সমান ম্যাচে লিচেস্টার সিটির পয়েন্ট ৫৫। তারা রয়েছে টেবিলের তৃতীয় স্থানে। আর ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

অপরদিকে সবার উপরে থাকা ক্লপের দলের পয়েন্ট ৩১ ম্যাচ শেষে ৮৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট সমান ম্যাচে ৬৩।
আপাতত তাই লিগের বাকি সব ম্যাচে হেরে গেলেও যেমন লিভারপুলের কাছ থেকে ট্রফি কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবেনা, তেমনি বাকি সাত ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতলেও শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হবেনা গার্দিওয়ালার ম্যানচেস্টার সিটির। নিয়মরক্ষার এই শেষের লড়াইটা যেনো এখন চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রবেশের রাস্তাটা আরো দৃঢ় করার জন্যই।