ডি ভিলিয়ার্স : মিস্টার ৩৬০°

0
34

তার পুরো নাম আব্রাহাম বিনজামিন ডি ভিলিয়ার্স’। তার বাবা ড. এ.পি. ডি ভিলিয়ার্স  এবং মা মিলি ডি. ভিলিয়ার্স। ১৯৮৪ সালে ১৭ ই ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ক্রিকেটের খ্যাতিমান “মিস্টার ৩৬০°”।

তবে ভক্তদের কাছে তিনি এবিডি নামেও বেশ পরিচিত। বিশ্ব ক্রিকেটের জনপ্রিয় ক্রিকেটার এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

মাঠের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে তিনি বল নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ১৪০-৪৬ গতির বল গুলো অবলীলায় পাঠিয়েছেন মাঠের বাহিরে।

বিশ্বের বাঘা বাঘা বোলারদের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান, তাকে নিয়ে বিপক্ষদল আলাদা ভাবে ছক আকঁতেন, রাতের ঘুম হারাম করতেন এই খেলোয়াড়।

ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে দ্রুততম অর্ধশতক শতক ও দেড়শো রানের মালিক এই এবি ডি ভিলিয়ার্স। তার ক্যারিয়ারে এমন অসংখ্য ইনিংস রয়েছে যার উপর ভর করে তার দল খাদের কিনারা থেকে বেঁচে এসেছে আবার এমনও অনেক ইনিংস রয়েছে যার দ্বারা প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে এনেছেন।
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তিনি সমানতালে খেলে গেছেন ক্রিকেটের সব কয়টি ফরম্যাটে এবং ক্রিকেটের সকল ফরম্যাটেই তিনি সফল একজন ব্যাটসম্যান।

উৎসাহ দিয়ে মানুষকে তার সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া যে সম্ভব তার জ্বলন্ত প্রমাণ ডি ভিলিয়ার্স ও তার বাবা। ডি ভিলিয়ার্সের বাবা ছিলেন একজন ডাক্তার এবং একই সাথে একজন স্পোস্টর্সম্যান। এ কারণে ছেলেকে সব সময় খেলার পক্ষে উৎসাহ দিতেন। ছেলেটিও খেলতে খুব পছন্দ করত। ছেলেটির জীবনে এমন কোন দিন নাই যে দিন খেলা বাদে কাটিয়েছেন। আর সেই ছেলেটি আজ ক্রিকেট সৌন্দর্যের এক উজ্জ্বল প্রদীপ, ক্রিকেটের কিংবদন্তীদের একজন। একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে অসাধারণ নৈপুণ্যতার সাথে উইকেটের সামনে চারিদিকে সমানভাবে ব্যাট করতে সমর্থ্য ছিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স ।

‘টেস্ট’ ক্রিকেটের সবচেয়ে রাজকীয় ফরম্যাট, এই রাজকীয় ফরম্যাটেই অভিষেক হয় এবি ডি ভিলিয়ার্সের। ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা কারণ ইংল্যান্ডেই ক্রিকেট এর জন্ম এবং সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০০৪ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৭ তারিখে অভিষেক হয় এবি ডি ভিলিয়ার্সের।

যেমন ছিলো এবি ডি ভিলিয়ার্সের টেস্ট ক্রিকেটঃ

টেস্ট ক্রিকেটে ১১৪ ম্যাচে ১৯১ ইনিংসে, ২২টি সেঞ্চুরি এবং ৪৬টি অর্ধশতকের মাধ্যমে ৫০.৬৬ গড়ে ৮৭৬৫ রান করেছেন তিনি৷ যার মধ্যে তিনি অপরাজিত ছিলেন ১৮ বার৷ টেস্ট ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ২৭৮ রান করেন।

রঙ্গিন পোশাকে একদিনের ক্রিকেটে যেমন ছিলেন ডি ভিলিয়ার্সঃ

টেস্ট ক্রিকেটে রঙিন হলেও একদিনের ক্রিকেটে রঙ ছড়াতে ১৭ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে। প্রথম অর্ধশতক করেন ১৭ ম্যাচ পর।
ওয়ানডে ক্রিকেটে ২২৮ ম্যাচে ২১৮ ইনিংসে, ২৫ টি শতক এবং ৫৩ টি অর্ধশতকের মাধ্যমে ৫৩.৫০ গড়ে ১০১.১ স্ট্রাইক রেটে ৯৫৭৭ রান করেছেন এবি।
একদিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ১৭৬ রান করেন।

এছাড়া টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ৭৮ ম্যাচে ৭৫ ইনিংসে ১০ অর্ধশতাধিকের মাধ্যমে ২৬.১২ গড়ে ১৬৭২ রান করেছেন। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ রান ৭৬।

২০১৭ সালে তিনি টেস্ট খেলা থেকে অবসর নেন। এরপর ২০১৮ সালে তিনি শেষমেশ  ক্রিকেটপ্রেমীদের হতবাক করে এক ভিডিও বার্তায় তিনি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা জানান। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন,

’আমি ক্লান্ত! আমি অনেক খেলেছি এখন সময় এসেছে অন্যদের সুযোগ করে দেওয়ার আমি সব ধরনের ক্রিকেট খেলা থেকে আজ থেকে অবসর নিলাম।’

২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে ডি ভিলিয়ার্সবিহীন সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেট দল রংহীন ছিল। বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীরা মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রী, সুপারম্যান ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটিং সৌন্দার্যকে যেন খুব বেশীই মিস করেছে।

ভাল থাকবেন ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্র, মিস্টার ৩৬০° এবি ডি ভিলিয়ার্স।

অতিথি লেখক: মুন্না চন্দ্র দাস