জেমি ডের হাত ধরে সোনালী অতীত ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখছে ফুটবল প্রেমীরা

আবার যেন জেগে উঠছে বাংলাদেশের ফুটবল। এ বছরই আট ম্যাচ খেলে র‍্যাঙ্কিংয়ে অনেক ভালো অবস্থানে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে চার জয়ের পাশাপাশি দুটিতে ড্র করেছেন জামাল ভূঁইয়ারা। যে দুটি ম্যাচে হেরেছে, সেখানেও দাপট দেখিয়েছে লাল-সবুজের দল।

সম্প্রতি ভারতের বিপক্ষে ড্রয়ে বেশ সাড়া ফেলেছে বাংলাদেশের ফুটবল। কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে একটি গোল করে ৮৮ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকে ভারতের ৮০ হাজারের বেশি দর্শককে নীরব করে দিয়েছিল তারা। তবে শেষ মুহূর্তে গোল করে খেলার সমতায় ফেরে সুনীল ছেত্রিরা। বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন সাদ উদ্দিন।

যাঁর হাত ধরে বাংলাদেশ ফুটবলের এই উত্থান, তিনি হলেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ জেমি ডে। দেশের ফুটবলের দুর্দিনে হাল ধরেছেন লন্ডনে জন্ম নেওয়া ৩৯ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ নাগরিক। খুব বেশি দিন হয়নি জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছেন। এর মধ্যে অনেকটাই পরিবর্তন নিয়ে এনেছেন।

একটা সময় বাংলাদেশের ফুটবলের অবস্থান এমন ছিল, পুরো ৯০ মিনিট টানা একই ছন্দে খেলে যাওয়া কঠিন ছিল, কিন্তু শেষ কয়েকটি ম্যাচে সে অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে।

বিশেষ করে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিতে ১-০ ব্যবধানে হারলেও পুরোটা সময় বেশ টক্কর দিয়েছে বাংলাদেশ।

গত ১০ অক্টোবর শক্তিশালী কাতারের কাছে ২-০ গোলের আক্ষেপ ভরা এক হারে মাঠ ছেড়েছিল বাংলাদেশ। কাতার বর্তমান এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন। তবে অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ের একটি ম্যাচে কাতারকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশের দলটি। আর গোলটি করেছিলেন বর্তমান জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া।

২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর ভুটানের কাছে এশিয়া কাপ বাছাইয় পর্বের একটি ম্যাচে ৩-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলে ২০১৮ সালের ২৭ মার্চ, অর্থাৎ প্রায় দেড় বছর কোনো ধরনের ফুটবল খেলেনি জাতীয় দল। যেকোনো আন্তর্জাতিক দলের জন্য যা অবাক করার মতো বিষয়। লাওসের বিপক্ষে ২০১৮ মার্চের সেই ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ।

ভুটানের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ২-০ ব্যবধানে জয় পায়। পাকিস্তানকে হারায় ১-০ ব্যবধানে। ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর লাওসকে হারায় ১-০ ব্যবধানে।

এরপর ২০১৯ সালে কম্বোডিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে এবং লাওসের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রাক-বাছাই ম্যাচেও জয় পায়। এই ছয়টি ম্যাচে জয় ছাড়াও বাংলাদেশ ফুটবল দল মোট পাঁচটি ম্যাচ হারে ও দুটি ম্যাচে ড্র করে।

এ সময়ে বাংলাদেশ হারিয়েছে ভুটান, লাওস ও পাকিস্তানকে। এর মধ্যে ভুটানের র‍্যাঙ্কিং এখন বাংলাদেশের চেয়ে ওপরে। লাওস বাংলাদেশের চেয়ে এক ধাপ নিচে। পাকিস্তানের অবস্থান র‍্যাঙ্কিংয়ে ২০৩।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১১৬ নম্বরে। যেটা ২০০০ নাগাদ ১৫১ নম্বরে আসে। এরপর বাংলাদেশ ফুটবল দল ফিফার এ তালিকায় উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যায়। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ছিল ১৭৪ নম্বর অবস্থানে, সেখান থেকে এক বছরের ব্যবধানে ১৪৯ নম্বরে উঠে আসে বাংলাদেশ।

কিন্তু এরপর নামতে নামতে ২০০-এর কাছাকাছি পৌঁছায়, অল্পের জন্য ২০০ না ছুঁলেও বাংলাদেশ ১৯৭ নম্বরে নেমে আসে ২০১৭ সালে। এখন বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৮।