জবাব টা মাঠে দিতে হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়!

আমার ক্রিকেটের সাথে সম্পর্ক অনেক পুরোনো, শুধু স্কুল জীবনেই বিশ্বকাপ দেখছি মোট তিনটা। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা আরো বাড়বে বৈকি!

মোহাম্মদ আশরাফুলকে এশ ডাকতাম সবসময়, এখন যেমন সাকিব আল হাসান কে সাক্কি ডাকি খুব। তামিম ইকবালের বেলায় সেটা তামিম্বাই, রিয়াদের ক্ষেত্রে রিয়াদ্ভাই, মুশফিকের বেলায় মুশি, মাশরাফি বিন মোর্ত্তাজার বেলায় ম্যাশ!

জানি এরকম অনেকেই ডাকে, ভালোবাসে, আদর করে। আমাদের দেশের মানুষের সাথে ক্রিকেট জড়িত। ক্রিকেটকে যদি ভারতীয়রা পূজো করে আমরা বুকে ধারন করি, ক্রিকেটারদেরই আইকন ভাবি।

আবার আমরাই সব ভুলে যাই, দু’দিন আগেও যাকে মাথায় রাখি, তাকেই দুইদিন পর নিচে ফেলে দেই৷

এই যে সাকিব আল হাসানের স্ত্রীর পিছনে সারা বছর লেগে থাকি, সেই সাকিব কেই এখন সবাই মাথায় রাখছে। যে ম্যাশকে মানুষ লিগামেন্ট দিয়ে দিতে চাইতো, তাকেই এখন দলেও রাখতে চায় না। স্পোর্টস এমনই, আজকে রাজা ত পরশুদিন ভিলেন, কিংবা উল্টোটা।

তবে আপনার মধ্যে থাকতে হবে ফিরে আসার ক্ষিপ্রতা। ফুটবলার রোনালদো কে একবার কমান্ডোর সাথে তুলনা দিয়ে তাচ্ছিল্য করেছিলো সাবেক ফিফা সভাপতি ব্লাটার, পরের ম্যাচেই গোল করেই কমান্ডো স্ট্যাইলে স্যালুট ঠুকেছিলো পর্তুগীজ ভদ্রলোক। অর্থাৎ, জবাবটা আপনাকে মাঠেই দিতে হবে৷

প্রসঙ্গটা উঠেছে, তামিম ইকবালের পেজ বন্ধ হওয়া থেকেই, আগেও একবার হয়েছিলো সেই ম্যাগি নুডলসের যুগে! তামিম কিন্তু এরপরেও ফিরেছিলো। তবে এবারের টা হয়তো বাড়াবাড়ি, প্রফেশনালিজমের এই যুগে আবেগ কে দূর করে এগিয়ে যেতে পারলেই আপনি সফল হবেন। আপনি দেশের সেরা ওপেনার, আপনার প্রতি মানুষের আশাও থাকবে সর্বোচ্চ, অথচ আপনি একেবারে ব্যর্থ। এক ম্যাচ, দু ম্যাচ এভাবে টানা আট ম্যাচেই ছন্নছাড়া এক তামিম ইকবাল। না আছেন ফিল্ডিংয়ে না ব্যাটিংয়ে৷ অথচ সংবাদ সম্মেলনে এসে ঠিকই চটে উঠেছিলেন। জবাব টা দিতে হয় বাইশ গজে, অবশ্যই মাইক্রোফোন হাতে নয়৷

গালিগালাজ আমিও সমর্থন করি না, তবে আপনি এসব এড়িয়ে যেতে পারেন। অবশ্যই আপনার মতো একজন ক্রিকেটার কেন পেজে কি হচ্ছে দেখবেন? আপনার খুব কাছের বন্ধু সাকিব আল হাসান কে দেখেন, তার পেজে এমন কোন দিন নাই যে তার পরিবার নিয়ে টানাটানি লাগে নাই। ” ভারতের দালাল, হোটেল ব্যাবসায়ী, বউ পাগলা, স্ত্রীকে নিয়ে বাজে গালাগালি, বাদ যায় নি তার বাচ্চা শিশুও ”

অথচ সাকিব আল হাসান কি সুন্দর এসব দেখেনই না, অনলাইনে কি হচ্ছে এসব না দেখে মাঠেই নিজের যা করার করেছেন, এই যে বিশ্বকাপের আগে যিনি সবচেয়ে সমালোচিত, যাকে দল থেকেও বাদ দিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছিলো ফটোসেশনে না থাকার জন্য। আজ তার জন্যই মানুষের আফসোস, ” ইশ, আর দুই ম্যাচ খেলতে পারতো?, আমাদের দলে আরেকজন সাকিব আল হাসান থাকতো” সেই ফটোসেশন নিয়ে উল্টো এখন সবাই তাকেই বাহবা দিচ্ছে, ভালোই করেছে এই দলের সাথে ছবি না তুলে। সময় কত দ্রুত বদলায়!

প্রিয় তামিম ইকবাল খান, আপনি আমাদের দেশের সেরা ওপেনার, দু’দিন আগেও আমাদের দেশের সেরা ব্যাটসম্যান কে এটা নিয়ে বলতে দু’বার ভাবতে হতো, অথচ এখন মানুষের আর সেই সমস্যা হয় না, আপনি ত রেস থেকেই বাদ পরে গেছেন। অথচ চাই আপনি ফিরুন। আপনার বন্ধু সাকিব আল হাসান পুরো ক্যারিয়ারে কম গালি খায় নি, উনার অর্জনের চেয়েও গালি খাওয়ার সংখ্যাই বেশী!

আপনাকে আমরা দেখেছি এক হাতে দেশের জন্য লড়াই করতে, সেই আপনাকেই দেখেছি বাচ্চাসুলভ ভুল করে এই বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে দলকে বিপদে ফেলতে।

সবাই সাকিব আল হাসান হতে পারে না, কিন্তু চেষ্টা করলেই অসাধ্য সাধনও করতে পারে৷ আপনি আমাদের কাছে বীর ছিলেন, আপনি আমাদের কাছে সুপারম্যান হয়ে দেখান। ফিটনেসে নজর দিন, নিজেকে প্রমাণ করুন। অতীতে কি হইছে মনে রেখে লাভ নাই, মানুষ অতীত মনে রাখেনা, বর্তমানে বিশ্বাস করে।

২০২৩ সালের বিশ্বকাপে আপনি আমাদের ত্রাতা হোন, ফেসবুক পেজ বন্ধ করে আবেগে আপ্লুত বাচ্চা হইয়েন না। প্রফেশনাল হোন, আবেগী না। আগ্রাসী হোন বাইশ গজে, নিজেকে প্রমাণ করুন ব্যাট হাতে!

আমাদের যেমন সাকিব আল হাসানকে দরকার, আমাদের একজন তামিম ইকবালকেও দরকার!