জন্মদিনে হিউজকে ছুঁতে ওয়ার্নার উড়লেন বারবার!

শাহীন আফ্রিদির বলে আলতো ছোঁয়ায় লেগে পাঠিয়ে প্রান্ত বদল করলেন। ততক্ষণে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ডাবল সেঞ্চুরি পেয়ে গেছেন। শুণ্যে লাফিয়ে উঠলেন, বরাবরের মতোই আকাশপানে তাকিয়ে কাউকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন। পাঁচ বছর আগে চলে যাওয়া কাছের বন্ধুর যে আজ জন্মদিন, বেঁচে থাকলে একসাথেই হয়তো মাঠে থাকতেন। ফিলিপ জোসেফ হিউজকে যে আজও তাই খুঁজে বেড়ায় স্মিথ-ওয়ার্নাররা। সেঞ্চুরি করেই আকাশের দিকে তাকান, ওয়ার্নার লাফিয়ে উঠেন, বন্ধুর কাছে যেতে চান, হয়তো বলতে চান, ” ফিলিপ তোকে এখনো ভালোবাসি বন্ধু! ”

কলাচাষি বাবার ঘরে জন্মেছিলেন, সেখান থেকেই ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠেন। বাবার স্বপ্ন ছিলো একদিন দেশের হয়ে মাঠে নামবেন, হিউজও সেই স্বপ্ন ধারন করতেন, ২০০৯ সালে অভিষেকও হয়ে গিয়েছিলো। তবে প্রথম ইনিংসে ০ রান করেই মাঠ ছেড়েছিলেন। পরের ইনিংসে ৭৫ রান করে পুষিয়ে দিলেও সেঞ্চুরির দেখা পাননি। তবে পরের টেস্টেই পেয়েছিলেন অধরা সেঞ্চুরির দেখা, তাও আবার টানা দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি পেয়ে সবচেয়ে কম বয়সে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির মালিক বনে যান ক্ষনজন্মা এই ক্রিকেটার।

ফিলিপ হিউজের সবচেয়ে বড় দূর্বলতা ছিলো শর্ট বল, প্রায়ই দল থেকে বাদ পড়তেন এইজন্য। তবে যখনই সুযোগ পেতেন নিজের সেরাটা দিতেন। প্রথম অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে ওয়ানডের অভিষেকেও সেঞ্চুরি ছিলো এই ক্রিকেটারের।

২০১৪ সালেও দলের বাইরে ছিলেন, ভারত সিরিজের আগে হুট করেই ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, ২৫ নভেম্বর শেফিল্ড শিল্ডের সেই ম্যাচে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬৩ রানে অপরাজিত ছিলেন, ততক্ষণে অবশ্য মোট ১৯ টা বাউন্সার দারুণ দক্ষতায় রুখে দিলেন। কিন্তু ২০ তম বাউন্সারে হিসাবে যেন সামান্য ভুল হয়ে গেলো। শন এব্যোটের সেই বাউন্সার হিউজের হেলমেটের নিচ দিয়ে লেগেছিলো কানের নিচে, কাঁধের একপাশে। সাথে সাথে লুটিয়ে পড়েছিলেন, কয়েক সেকেন্ড পড়েই হয়েছিলেন অজ্ঞান, যে জ্ঞান আর ফিরে আসেনি কখনোই।

৩ দিন পর সবাইকে কাঁদিয়ে অপারে চলে গিয়েছিলেন, ভারতের বিপক্ষে খেলার কথা ছিলো অথচ আর কখনোই ব্যাগি গ্রীন ক্যাপ পড়ে মাঠলেন না। ২৬ তম জন্মদিনের আগে কেক কাটা হলো না, আর কখনোই কাটতেও পারবেন না।

Image result for phillip hughes death

আবার ওয়ার্নারের গল্পে ফেরা যাক!
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বিশ্বকাপে ফিরেছিলেন, অথচ বিশ্বকাপে যতটা উড়ন্ত ছিলেন ঠিক ততটাই ভূপতিত ছিলেন ঐতিহ্যবাহী এ্যাশেজে।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১০ ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ৯৫ রান। সেখান থেকেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি তে হাকিয়েছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি। ফর্ম টাকে টেনে এনেছেন লাল বলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে করেছিলেন দেড়শোর্ধ ইনিংস। সেখান থেকে দ্বিতীয় টেস্টে গোলাপি বলে প্রথম দিনেই পেয়েছিলেন সেঞ্চুরি, আর আজ ডাবল সেঞ্চুরি থেকে আব্বাসের বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে পেয়ে গেছেন ক্যারিয়ারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি। টিম পেইন ইনিংস ডিক্লেয়ার করার আগে অপরাজিত ছিলেন ৩৩৫ রানে।

৫১৯ মিনিট খেলে ৩৭ চারে ৩৮৯ বলে ছুঁয়েছিলেন ৩০০ রানের মাইলফলক, দিবারাত্রি টেস্টে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন, সেখান থেকে ৪১৮ বলে ৩৯ চারে ৩৩৫ রানে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন। ততক্ষণে এডিলেইডে ডন ব্রাডমানের সর্বোচ্চ ইনিংস (২৯৯) টপকে গেছেন, গোলাপি বলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস, অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে টেস্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ!

Image result for david warner

আবার হিউজে ফেরা যাক!
রিকি পন্টিংয়ের জায়গায় তার যোগ্য উত্তরসূরী ভাবা হতো ফিলিপ জোয়েল হিউজকে। উঠতি তারকা ছিলেন, নিজের যোগ্যতার প্রমাণও বারবার দিয়ে গেছেন। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ৬৩ রানেই অপরাজিত থেকে গেলেন। আর কোন রেকর্ড গড়া হলোনা, আর কোথাও নিজের নাম লেখানো হলো না, চলে গেলেন অপারে!

বন্ধুর জন্মদিনে তাই ডেভিড ওয়ার্নার নিজের সেরাটা দিলেন। ডাবল সেঞ্চুরির পর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলেন, লাফিয়ে উঠে বন্ধুকে ছুঁয়ে দেখতে চাইলেন। আরেকবার লাফিয়ে উঠলেন ট্রিপল সেঞ্চুরি করে। আবারো উড়লেন, বন্ধুর জন্মদিনে বন্ধুর জন্য বারবার আকাশে উড়লেন, নিজের সেরা টা দিয়ে বন্ধুকে স্মরণ করলেন।

শুভ জন্মদিন ফিলিপ জোয়েল হিউজ, অভিনন্দন ডেভিড এন্ড্রু ওয়ার্নার!

ডেভিড ওয়ার্নার, ফিলিপ হিউজ, এক অসমাপ্ত বন্ধুত্ব!