চ্যালেঞ্জটা ভালই নিতে জানেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

0
1172

প্রিয় রোনালদো, হয়তো আপনার ফিরে আসা দেখা হবেনা। শেষবারের মত চেষ্টা করুন। দেখা যাক কিছুতে কিছু হয় কিনা। না পারলেও ব্যাপার না৷ হাসিমুখ করেই থাইকেন আমিও থাকবো সবসময়…একজন ক্ষুদ্র ফ্যান হিসেবে আপনার এই গ্রেটনেস দেখার যেই সৌভাগ্য হয়েছিল এটাই আমার জীবনের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি!

কেননা শুধু বর্তমান না জন্মের পরের সময়টা আপনার ভাল যায়নি কখনোই। পৃথিবীতে এসেছিলেন একরাশ অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে। পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়েছেন তাও বলা যাবেনা। জীবন-নির্বাহের জন্য রাস্তায় ঝাড়ুদারের কাজও কথা করতে হয়েছিল! চলার পথে একগাদা বদনাম আর অপবাদ মাথায় ছিল। ক্রাই বেবি, এরোগেন্ট ইত্যাদি….ফিফা প্রেসিডেন্টও আপনাকে নিয়ে ট্রল করেছিল। তাও আবার ওপেন প্রেসে নাচের অঙ্গ-ভঙ্গিতে। সবাই আপনার শেষ দেখে ফেলেছিল যখন ব্যালন ডি’অর ১-৪ ব্যাবধানে পিছিয়ে ছিলেন পত্রিকায় এসেছিল সেই শ্যাম্পুর হাতে ধরা ট্রল করা ছবি!! শিরোনাম হয়েছেন কাতালান মুন্ডো দেপোর্তিভো পত্রিকার ‘The End’, ‘Diving’, ‘Awful Character’ ইত্যাদি হেডলাইনে!! তবে সবকিছু উপেক্ষা করেই আপনে ফিরে এসেছিলেন আপন নিয়মে…

লাল জার্সির হয়ে খেলতেন সেই পিচ্ছি ছোকড়া, কি দুর্দান্ত গতি, ভয়ানক ড্রিবলিং, ছোট বেলা থেকেই সেলুনের দোকানে গিয়ে পত্রিকা পরার এক বড় অভ্যাস ছিলো সেই থেকেই পত্রিকা পড়ে টুকটাক জানতাম আপনার সম্পর্কে, মাদ্রিদে আসার পর আস্তে আস্তে প্রিয় হয়েছেন কিন্তু তখনও আমার প্রিয় খেলোয়াড় ছিল কাকা ফুটবলের প্রথম ভালোবাসা, যদিও সেই কাকা এখনো পছন্দ করি। সবচেয়ে বেশি প্রিয় হতে শুরু করে, যখন লোকটা মাদ্রিদে যোগ দেয়, আহা একের ভিতর যেন দুই
কাকার ইন্জুরি, মৌরিনোর সাথে ঝামেলা, ওজিলের দুর্দান্ত ফর্ম, সবশেষে কাকার রিয়াল ছাড়ার পর ভাল লাগাটা আপনার প্রতি আর বাড়ে।

রিয়ালের প্রতি ম্যাচেই দুর্দান্ত ড্রিবলিঙের মায়ায় কিংবা লং রেঞ্জ শটে করে যাচ্ছিলেন। একের পর এক গোল মুগ্ধদায় মাতিয়ে রাখছিলেন মাদ্রিদিস্তাদের। তবে সব উপেক্ষা করেই লোকটা বিভিন্ন কারনে বিভিন্ন অবস্থানে মাথা পেতে নিত। হতো একগোদা ট্রলের বোজা। অনেকেই কটাক্ষ করে বলতেন, মেসির যেখানে ব্যালন ৪ টা রনের মাত্র ১টা অনেক। মেসি ভক্তরাও টিটকিরি দিয়ে রন ভক্তদের বলতেন জীবনেও ফেসবুক আসার পর রনের ব্যালন নিয়ে স্ট্যাটাস দিতে পেরেছেন! তবে রনের মতই তার ভক্তকূলের বিশ্বাস ছিল একদিন তা সমান হবেই! ফেসবুক না থাকায় না তাই তর্ক টা হতো সরাসরি, লোকটার হয়ে অনেকে বাজিও ধরতেন, তবুও খটকা লাগতো পারবো তো? তারপর আবার ৫-৩ তখনও বলেছিলাম যেই লোক ৪-১ থেকে ৪-৩ করতে পেরেছে সেই লোক একদিন অবশ্যই ৫-৫ করতে পারবে এবং আপনি সত্যি তা বাস্তবে রুপ দিয়েছিলেন!

আর হয়তো ফিরে আসা হবে না…শৈশবের সেই আপনার খেলা দেখে কাটানো জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় শেষ করে ক্রান্তিলগ্নে এসে পড়েছি,
৯ জার্সি হাতে বার্নাব্যুর ঘাসে আবির্ভাব, সেই একবিংশ শতাব্দীর সময় শেষে আমিও পড়াশোনা প্রায় শেষ করে ব্যস্তজীবনে চাকুরীর বাজারের খুব সন্নিকটের খরিদ্দার, এখন বিদায়বেলা, পড়ন্ত বিকেল গোধুলিলগ্ন….

আমি আর লোভ করবো না আপনার প্রতি বা চাওয়ারও কিছুই নেই, আপনার ঘুরে দাঁড়ানোর দরকার নাই, যেই বয়স পড়েছে এই বয়েছে আপনার কাছে কিছু চাওয়া মানেই অনেকটা জোড় করে চাপিয়ে দেওয়া, এমনিতে প্রচুর দিয়েছেন,
গার্দিওলার বার্সার স্বর্নযুগে এসেও পাহাড়সম দায়িত্ব নিয়ে একাই লড়ে গেছেন। কখনো জয় ছিনিয়ে আনতেন কখনো বা হেরে যেতেন ভাগ্যের কাছে। সতীর্থ, কোচ, অপনেন্ট, টিম ম্যানেজম্যান্ট সবাই ছিল আপনার একেকটা চ্যালেঞ্জ। তবে নুইয়ে পড়েননি। ক্লামা ক্লামায় স্তব্ধ করেছিলেন গোটা নূ ক্যাম্প এমনকি রাইভালদের গ্রেটেস্ট প্লেয়ারের সেরা সময়েও দলকে এনে দিয়েছেন ৪টি ইউসিএল ব্যাক টু ব্যাক ৩ টি! ভাগ্য বিধাতাও আপনি খালি হাতে ফিরিয়ে দেয়নি দেশের হয়ে ২ টা ট্রফি ও দিয়েছেন, আর কিছু চাওয়ার নেই বুড়ো হয়েছেন, দলটাও একেবারে চলে না সেখানেও গিয়ে নিজের আধিপত্য দেখিয়েছেন!

একদিন আমারও বড় হবো, বোধশক্তি আর হবে।

অতঃপর একটা সময়ে চামড়া জড়িয়ে ঝুলে যাবে।

হাতে থাকবে লাঠি আর চোখে থাকবে।

বাম্প ভর্তী এক ভারী ভারী কাঁচের চশমা।

সেদিনও ফুটবল হবে, মেসি-ড্রিবিংয়ের মায়ায় দর্শনে।

অনেকেই মুখরিত হয়ে বাহবা দিবেন!

তবে সব কিছু ছাপিয়ে আমি অপেক্ষায় থাকব খুঁজে।

বেরাবো আপনার রেজাল্ট নির্ভর ফুটবল দেখার!

আপনি যা দিয়েছেন তা নিয়ে আমি সারাজীবন থাকতে পারবো, আপাতত যতদিন আছেন ফুটবল খেলে যান আপনার সার্মথ্য অনুযায়ী ভালো সময়ে যেমন আপনার পাশে ছিলাম খারাপ সময়েও থাকবো! তবে তুরিনের মাটি থেকে ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উপরে থাকা মাথাটার ভিতরে থাকা চ্যালেঞ্জের নেশাটা কখনো ঝেড়ে ফেলবেন না! অবশ্যই দেখা হবে বিজয়ে!