ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দশক সেরা একাদশে সাকিব আল হাসান

0
72
আম্পায়ারের কাছে আবেদন করছেন সাকিব আল হাসান। ছবিঃ সংগৃহীত।

দেখতে দেখতে চলে যাচ্ছে আরেকটা বছর, তার সাথে আরেকটা দশকও। দশকে রয়েছে বেশ কিছু উত্থান-পতনের গল্প। বেশ কিছু খেলোয়াড় এই দশকে যুক্ত হয়েছেন ক্রিকেটের সাথে, আবার অনেকে নিজেদের নিয়ে গিয়েছেন সফলতার চরম শিখরে। তারই ধারাবাহিতায় ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া’ প্রকাশ করেছে এই দশকের সেরা ওডিআই একাদশ। সেখানে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সাকিব আল হাসান।

১। রোহিত শর্মা (ভারত)

শুরুতেই ওপেনারের জায়গা পেয়েছেন ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় ইতোমধ্যেই জায়গা পাওয়া রোহিত শর্মা। এই দশকে তার নামের পাশে ছিলো তিনটা ডাবল সেঞ্চুরি! সর্বোচ্চ রান ছিলো ২৬৪, যা কিনা ইতিহাসের যেকোনো এক দিনের ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারের থেকেও ২৭ রান বেশি। গড় রান ৫৩.৫৬। ২৮ সেঞ্চুরির মধ্যে ১৮টাই ছিলো ভারতের বাইরে।

২। হাশিম আমলা (দক্ষিণ আফ্রিকা)

রোহিতকে সঙ্গ দেবার জন্যে রয়েছে এই মডার্ন যুগের সবচাইতে আন্ডাররেটেড ব্যাটসম্যান, দক্ষিন আফ্রিকার মাস্টার ক্রাফটসম্যান হাশিম আমলা। যার এই দশকে ১০০০ রান করার পর ২০০০ এবং ৭০০০ রান করতে লেগেছে সবচাইতে কম সময়। দশকে শতক হাকিয়েছেন ২৬ বার, অর্ধশতক ৩৩ বার।

৩। বিরাট কোহলি (ভারত)

৩য় ব্যাটসম্যান হিসেবে ভিরাট কোহলির নাম ছাড়া অন্য কারো নাম মাথায় আনা সম্ভব না। চমৎকার একটা দশক পার করেছেন এই ভারতীয় ব্যাটসম্যান। সবদিক থেকে এই দশকের সেরা ব্যাটসম্যান তিনিই ছিলেন, যে কিনা হয়তো তার ক্যারিয়ার শেষে সর্বকালের সেরা রান সংগ্রাহক হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। গত দশ বছরে তার সেঞ্চুরির সংখ্যা ৪২টা! শুধুমাত্র রোহিত আর আমলাই কোহলির সেঞ্চুরির অর্ধেকের সামান্য বেশি সংখ্যক সেঞ্চুরি হাকাতে সক্ষম হয়েছেন। শচীন টেন্ডুলকারের এক দশকের ১৮,৪২৬ রান আর ৪৯টা সেঞ্চুরি ধরতে না পারলেও মাত্র ৩১ বছর বয়সী কোহলির সামনে আরো বিশাল সুযোগ রয়েছে লিটল মাস্টারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। এই দশকের কোহলির ম্যাচপ্রতি গড় রান ছিলো ৬০.৭৯!

৪। এবিডি ভিলিয়ার্স (দক্ষিণ আফ্রিকা) 

Related image

তারপরে যিনি রয়েছেন তার নাম শুনলেই মাথায় বিভিন্ন কায়দার ব্যাটিংয়ের স্টাইল ঘোরে সবার, দক্ষিণ আফ্রিকার মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রী খ্যাত এবিডি ভিলিয়ার্স। গত দশ বছরে যে ২৪ জন ৪০০০ রান অতিক্রম করেছেন তাদের মধ্যে এবিডি’র স্ট্রাইক রেট দেখলে চোক্ষু ছানাবড়া হয়ে যাবার জোগাড় হয়, ১০৯.৮৯! দশকের মাঝে যিনি করেছিলেন ওডিআই ইতিহাসের দ্রুততম ৫০,১০০ আর ১৫০ রানের রেকর্ড। ম্যাচপ্রতি তার গড় রান ছিলো ৬৪.২০! শতক হাকিয়েছেন ২১বার এবং অর্ধশতক ৩৩বার।

৫। সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ) 

৫ নাম্বারে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের জান-প্রান, সাকিব আল হাসান, যিনি কিনা এই দশকের ২য় সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক। স্ট্রাইক রেটে অন্যদের মত তুলনামূলক সুবিধা করতে না পারলেও ব্যাট-বল হাতে বাংলাদেশকে টেনে সামনে নিয়ে গিয়েছেন একাই। দশকে তার ম্যাচপ্রতি গড় রান ছিলো ৩৮.৮৭। বল হাতে ৫ উইকেট শিকার করেছেন দুইবার। বেস্ট বোলিং ফিগার ৫-২৯।

৬। ইয়ন মরগান (ইংল্যান্ড)

Image result for ian morgan cricket

সাকিবের পর ৬ নাম্বারে রয়েছেন ইংলিশ ক্রিকেটে জয়জয়কার ঘটানো ক্রিকেটার ইয়ন মরগান, তর্কসাপেক্ষে যিনি ছিলেন এই দশকের সেরা ইংলিশ ব্যাটসম্যান। দলের প্রয়োজনে প্রত্যেকবার প্রচন্ড চাপের মধ্যে থেকে দলকে বের করে নিয়ে এসেছেন বারবার। ম্যাচপ্রতি গড় রান ৪০.৮৮ হলেও তার স্ট্রাইক রেট ছিলো ১১৯.৮৩!

৭। এম এস ধোনি (ভারত)

Image result for dhoni

৭ নম্বরে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া মুশফিকুর রহিমের নাম সম্মানের সাথে স্মরণ করলেও সেখানে জায়গা হয়েছে ভারতের এম এস ধোনির। ৬-৭ নাম্বারে নেমেও তার ম্যাচপ্রতি গড় রান ৫০.৩৫ আর স্ট্রাইক রেট ৮৫.৭৯ -ই প্রমান করে দলের সফলতার পিছনে তার অবদান। দশকের শুরুতেই যিনি ঘরের মাঠে দেশকে মাতিয়েছেন বিশ্বজয়ের উল্লাসে।

৮। রশিদ খান (আফগানিস্তান) 

৮ নাম্বারে দেখা মিলেছে এই দশকের সেরা উদীয়মান বোলার রশিদ খানকে, যার ম্যাচপ্রতি খরচ হয়েছে মাত্র ১৮.৫৪ রান। এ বছরের বিশ্বকাপে খেলা ৯ দলের বিপক্ষে এই দশকে খেলা আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে এই লেগ স্পিনার গড়ে মাত্র ২৫ রান খরচ করে নিয়েছেন ৩৭টা উইকট। দশকে ১০০+ উইকেট নিয়েছেন ইতিহাসের যে কোনো লেগ স্পিনারের থেকে ৮টা ম্যাচ কম খেলেই! ঝুলিতে রয়েছে মোট ১৩৩টি উইকেট। ৫টা বা তার বেশি উইকেট শিকার করেছেন ৪বার।

৯। মিচেল স্টার্ক (অস্ট্রেলিয়া)

Related image

রশিদ খানের পর একাদশে জায়গা পেয়েছেন অজি ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্ক, যিনি কিনা এই দশকে রশিদ খানের পর ২য় দ্রুততম ১০০+ উইকেট শিকারি। দশকের দুই শেষ দুই বিশ্বকাপে ম্যাচপ্রতি গড়ে মাত্র ১৪.৮১ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ৪৯ উইকেট! তার বেস্ট বোলিং ফিগার ছিলো ৬-২৮। দশকে মোট উইকেট পেয়েছেন ১৭২টা। ৫+ উইকেট শিকার করেছেন ৭ ম্যাচে।

১০। ট্রেন্ট বোল্ট (নিউজিল্যান্ড) 

Image result for trent boult

একাদশের দশম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন দশকে ১৬৪ উইকেট শিকার করা ট্রেন্ট বোল্ট। টানা দুইবার নিউজিল্যান্ডকে বিশ্বকাপ ফাইনালে নিয়ে যাওয়ায় যার অবদান ছিলো অসামান্য। বিগত দশ বছরে ৪+ উইকেরট শিকার করেছেন মোট ১২ বার! ম্যাচপ্রতি গড় রান খরচ করেছে ২৫.০৬। সেরা বোলিং ফিগার ছিলো ৭-৩৪। ৩০ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলারের সামনে রয়েছে নিজেকে মেলে ধরার আরো অনেক সুযোগ।

১১। লাসিথ মালিঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)

Malinga

সবশেষে জায়গা করে নিয়েছেন এ বছরই একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে অবসর নিয়ে নেয়া শ্রীলঙ্কান ফাস্ট বোলার লাসিথ মালিঙ্গা, যিনি কিনা এই দশকে অন্য যে কোনো বোলারের থেকে ৭১টা উইকেট বেশি শিকার করেছেন! ৫+ উইকেট নিয়েছেন মোট ৮বার। বয়সের কাছে হার স্বীকার করে অবসর নিয়ে নিলেও সাদা বলের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবেই লাসিথ মালিঙ্গার নাম মনে রাখবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।