কৈশোরের প্রেম আর সুনীল ছেত্রীর প্রেরণা

0
113

“আমার বয়স তখন ১৮, ওর মাত্র ১৫! এই অল্প বয়সেও আমার ব্যপারে ওর আগ্রহ যেনো আকাশচুম্বী! ওর বাবা তখন আমার কোচ! উনিই আমাকে উনার মেয়ের সাথে পরিচয় করে দিয়েছিলেন! মেয়েটা আগ্রহ নিয়েই আড়ালে ওর বাবার মোবাইল ফোন থেকে আমার নাম্বারটা সংগ্রহ করে, আমাকে টেক্সট দেয়! “হাই! আমি সোনাম, আমি তোমার বিগ ফ্যান, আমি তোমার সঙ্গে দেখা করতে চাই!” আমার বিন্দুমাত্র ধারণা ছিলোনা, টেক্সট’টা কার!

মেসেজিংয়ে ওর কথাবার্তায় ওকে অনেক মিষ্টি একটা মেয়ে মনে হচ্ছিলো, ভালো লাগছিলো; সিদ্ধান্ত নিলাম ওর সাথে দেখা করার! খুব তাড়াতাড়িই আমাদের দেখা হলো! ছোট্ট একটা মেয়ে! আমি ওকে বললাম – ছোট্ট মেয়ে, এখন তোমার পড়াশোনা করার সময়, যাও, পড়তে বসো! কিন্তু কোন এক অদৃশ্য বন্ধনে আমরা কথা বলা বন্ধ করতে পারলাম না, মেসেজিং চালিয়ে গেলাম!

এভাবেই মাস দুয়েক কেটে গেলো! একদিন কি যেনো হলো, কোচের ফোন কাজ করছিলোনা; উনি আমায় দিলে তা সাড়ানোর জন্যে! ফোনের ব্যাধি খুঁজে বের করার চেস্টা করছিলাম, এমন সময় কোচের নাম্বারে কোচের মেয়ের কল, আমার চোখ আঁটকে গেলো, নাম্বারটা খুব চেনা চেনা লাগছিলো! আমি অবাক হয়ে গেলাম; এটা সোনামের নাম্বার ছিলো! আমি রেগে গেলাম! মুহূর্তেই সোনাম কে কল দিলাম! আমি ভীতিকর পরিস্থিতিতে ছিলাম, কোচ যদি জানে যে আমি উনার মেয়ের সাথে চ্যাটিং করি তবে না উনি আমার ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দেয়! আমি ওর সাথে সব রকমের যোগাযোগ বন্ধ করার মনস্থির করলাম! সত্য না বলায়, ও ক্ষমাও চাইলো, কিন্তু আমি এসব শোনার অবস্থায় ছিলাম নাহ!

কয়েক মাস কেটে গেলো! কিন্তু আমি ওকে কিছুতেই ভুলতে পারছিলাম নাহ! ওকে ঘিরে আমার কাটানো দারুণ সময়, স্মৃতিপটে বারবারই আমায় নাড়া দিচ্ছিলো! আমি ওকে আবারো টেক্সট দেই, এবং আবার আমাদের কথা বলা শুরু হয়!

আমরা আমার দেখা করা শুরু করলাম, কিন্তু খুব গোপনে! ফুটবলের জন্যে আমায় অনেক দূর জার্নি করতে হতো; সময়ের অভাবে আমরা বছরে মাত্র ২/৩ বার দেখা করতে পারতাম!

সময়ের পর সময় যেতে লাগলো, আমাদের বন্ধন আরো দৃঢ় হতে লাগলো। আমি আমার ক্যারিয়ার নিয়ে এগুতে থাকলাম, আর সোনাম’ও সবসময় আমার সাথে ছিলো; আমার প্রেরণা হয়ে, আমার সকল ভয় দূর করার কান্ডারী হয়ে, আমার খারাপ সময়ে আমার সাহস হয়ে, আমার এগিয়ে যাওয়ার সম্বল হয়ে!

জীবনের একটা সময়ে এসে, দুজনে সিদ্ধান্ত নিলাম বিয়ে করার! আমি জানতাম, ওর বাবার সাথে কথা বলার সময় হয়ে এসেছে! একদিন ওর বাবাকে বলেই ফেললাম, ওর বাবা কোন আপত্তি ছাড়াই রাজী হয়ে গেলো!

১৩ বছরের লুকানো ভালোবাসা প্রেম একটা স্বীকৃত সম্পর্কে রুপ পেয়ে গেলো! আর আজ আমরা ২ বছরের সাংসারিক জীবন পার করে ফেললাম!

Image result for sunil chhetri and his wife

সোনাম আমার জীবনে আশীর্বাদ স্বরুপ! আমার জীবনের ভালো কিংবা মিন্দ প্রতিটি বাঁকে আমি তাকে সাথে পেয়েছি! যখন আমি কেউ ছিলাম না, যখন আমার কোন অর্থকরী ছিলোনা, সোনাম ছিলো! আমার ক্যারিয়ারের প্রথম জয়, কিংবা প্রথম পরাজয়, আমার প্রথম অধিনায়কত্ব, সোনাম সবকিছুর সাক্ষী! আমি, আমার অতীত, এমনকি আমার ভবিষ্যৎ, সোনাম ছাড়া কল্পনাও করতে পারিনা!

ঠিক যেদিন ও আমায় নিজেকে আমার বিগেস্ট ফ্যান হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলো, ও হয়তো জানে কিংবা জানেনা, সেদিন থেকেই আমি কিংবা আমার ভালোবাসা, সবকিছু জুড়েই ওর প্রতি আমার ভালোবাসা আর ও, আমার সোনাম!”

মুল লেখা: সুনীল ছেত্রী
ছবি: Humans of Bombay
অনুবাদ: Kamrul Hasan Ratul