কতটুকু সফল বঙ্গবন্ধু টি-টুয়েন্টি কাপ?

0
40

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনাল ম্যাচে গাজি গ্রুপ চট্টগ্রামকে ৫ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছে তারকাখচিত অভিজ্ঞ দল জেমকন খুলনা। বাবা হারানো শহিদুল ইসলামকে শিরোপাটা উৎসর্গ করেছে জেমকন খুলনা।

পুরো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে নজরকাড়া দিক বলা যেতে পারে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যদের ভালো পারফরম্যান্সকে। আকবর আলি, পারভেজ হোসেন ইমন, শরিফুল ইসলাম, রাকিবুল হাসানরা ব্যাট-বল হাতে ঝলক দেখিয়েছেন। টুর্নামেন্টের তিন সেঞ্চুরির একটা এসেছে পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাট থেকে।

ব্যাট হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন লিটন দাস। টুর্নামেন্টজুড়ে সুন্দর ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী করা লিটন ৫০ ছুঁইছুঁই গড়ে মোট রান তুলেছেন টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৩৯৩। সেরা পাঁচ রানসংগ্রাহকদের মধ্যে বাকিরা যথাক্রমে তামিম, নাজমুল শান্ত, ইয়াসির আলি আর সৌম্য সরকার। এদের মধ্যে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলেছেন শান্ত, ৮ টা। স্ট্রাইকরেটটাও দারুণ, প্রায় ১৫৭!

পুরো টুর্নামেন্টে সব মিলিয়ে সেঞ্চুরি হয়েছে তিনটা। পারভেজ ইমন, নাজমুল শান্ত ছাড়া অন্য সেঞ্চুরিটা হাঁকিয়েছেন বাঁহাতি ওপেনার নাইম শেখ। সাইলেন্ট কিলার মাহমুদুল্লাহ বরাবরের মতই দলের রক্ষাকর্তারূপে আবির্ভূত হয়েছেন, ফাইনাল ম্যাচে খেলেছেন ৪৮ বলে ৭০ রানের দারুণ এক ইনিংস। সেই ইনিংসেই খুলনা পায় লড়ার মত একটা স্কোর, ফাইনালের ম্যাচসেরাও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহই। তাছাড়া আফিফ, আকবর আলি, শামসুর, আরিফুল হকরা লোয়ার মিডল অর্ডারে বেশ কয়েকটা কার্যকরী ইনিংস খেলেছেন।

বোলিংয়ের কথা বলতে গেলে সবার আগে আসবে মুস্তাফিজের কথা। কাটার মাস্টার নিয়েছেন টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ২২ উইকেট, ধারেকাছে নেই আর কেউ। ইকোনোমি রেট ছয়ের একটু উপরে। বেশ কিছুদিন ধরেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজতে থাকা মুস্তাফিজের জন্য এই পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস যোগাবে মুস্তাফিজকে। দ্বিতীয় অবস্থানে ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ মুক্তার আলী। ১৬ টা করে উইকেট নিয়ে এরপরেই কামরুল ইসলাম রাব্বি আর অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের পেসার শরিফুল ইসলাম। ১৫ উইকেট নিয়ে পাঁচ নম্বরে আছেন শহিদুল ইসলাম। স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে উইকেট নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন বেক্সিমকো ঢাকার রবিউল ইসলাম রবি। এরা ছাড়াও হাসান মাহমুদ, রুবেল হোসেন, শফিকুল ইসলামরাও ভালো বল করেছেন। আছেন সেরা দশে।

টুর্নামেন্টে অনেক বেশি প্রশংসিত হয়েছে লিটন-সৌম্যর ওপেনিং স্ট্যান্ড। প্রায় প্রতি ম্যাচেই দারুণ শুরু এনে দিয়েছেন গাজি গ্রুপ চট্টগ্রামকে। দুজনের সুন্দর ব্যাটিং ভক্তদের দিয়েছে চোখের শান্তি। এছাড়াও হুট করে অধিনায়কত্ব পেয়ে যাওয়া মোহাম্মদ মিথুনও অধিনায়ক হিসেবে ভালোই করেছেন, দলকে ফাইনালে তুলে হয়েছেন রানার্স আপ। খুলনার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর অধিনায়কত্বও বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাহমুদুল্লাহর পারফরম্যান্স। যোগ্য অধিনায়কের মতই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দলকে। তারকাখচিত দল হওয়া সত্ত্বেও হোচট খেয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা খুলনাই শেষ হাসি হেসেছে, সেটাও আবার দলের সবচেয়ে বড় তারকা সাকিবকে ছাড়াই। ঘরোয়া ক্রিকেটে বরাবরের মত সফল মাহমুদুল্লাহ বিসিবি প্রেসিডেন্ট’স কাপের পরে জিতে নিলেন বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের শিরোপাটাও।

তাছাড়াও অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যরাও বেশ ভালো করেছেন। একটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন পারভেজ ইমন, শরিফুল ইসলাম ছিলেন সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেটশিকারীর মধ্যে একজন। আকবর আলি, স্পিনার রাকিবুল হাসানদের প্রতিভার ঝলকও দেখা গেছে, যেটা নিঃসন্দেহে বেশ আশা জাগানিয়া।

এছাড়া জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটারদের অনেকেই ভালো করতে পারেন নি। এনামুল হক বিজয়, শুভাগত হোম, সাব্বির রহমানরা যথারীতি ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন, জাতীয় দলে ফিরতে চাওয়া মোহাম্মদ আশরাফুলও আহামরি কিছু করতে পারেন নি। নিজের প্রত্যাবর্তনটা রাঙাতে পারেন নি সাকিব আল হাসানও।

ফাইনাল ম্যাচ শেষে দেওয়া হয়েছে বেশকিছু পুরস্কার-

১ লাখ ৫০ হাজার টাকা- জেমকন খুলনার প্রত্যেক ক্রিকেটার।
৭৫ হাজার টাকা- গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের প্রত্যেক ক্রিকেটার।
৩ লাখ টাকা- টুর্নামেন্ট সেরা ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমান।
১ লাখ টাকা- ম্যান অব দ্যা ফাইনাল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
২ লাখ টাকা- টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটসম্যান লিটন দাস।
২ লাখ টাকা- টুর্নামেন্টের সেরা বোলার মুস্তাফিজুর রহমান।
১ লাখ টাকা- স্পেশাল পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড- নাজমুল হোসেন শান্ত, পারভেজ হোসেন ইমন, শরিফুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম রবি।

সবকিছু মিলিয়ে করোনা পরবর্তী সময়ে এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে অনেক খেলোয়াড়ই খেলার মধ্যে ফিরতে পেরেছেন। আগামী বছরের ১০ ই জানুয়ারি বাংলাদেশে আসার কথা আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রস্তুতিতে এই টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগবে এমনটাই মনে করেছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।