ঐতিহাসিক কোলকাতা মোহামেডানে ইতিহাস গড়তে পারবেন তো জামাল?

0
69

ভারতের আই লিগের দল কলকাতা মোহামেডানে খেলতে যাচ্ছেন জামাল ভুঁইয়া। বেশ কয়েকদিন ধরে চলতে থাকা গুঞ্জনকে সত্যি করে কলকাতা মোহামেডানে নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সবকিছু ঠিক থাকলে পাঁচ মাসের চুক্তিতে ১২৯ বছরের পুরনো ভারতীয় ক্লাব কলকাতা মোহামেডানে খেলবেন জামাল।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ড্যানিশ ফুটবলার জামাল ভুঁইয়ার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুটা ২০১৩ সালের দিকে, প্রথম প্রবাসী ফুটবলার হিসেবে জাতীয় দলে অভিষিক্ত হন জামাল। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বছর দুয়েকের মধ্যেই দলে জায়গাটা পাকাপোক্ত করে ফেলেন জামাল।

মাঝমাঠে দলের প্রাণভোমরা হয়ে ওঠা জামাল ২০১৫ সালের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে হয়েছিলেন মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার। ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে কাতারকে হারানো ম্যাচে করেছিলেন জয়সূচক গোল আর সেই গোল খুলে দিয়েছিল এশিয়ান গেমসের নকআউট পর্বের রাস্তা, ইতিহাসে প্রথমবারের মত।

স্প্যানিশ লা লিগায় অতিথি ধারাভাষ্যকার হিসেবে ধারাভাষ্য দিতেও দেখা যায় জামালকে। জাতীয় দলের বর্তমান অধিনায়ক দেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনও বটে। ভারতের একাধিক ক্লাব থেকে প্রস্তাব পেলেও জামাল বেছে নিয়েছেন কলকাতা মোহামেডানকে। কারণ হিসেবে বলেছেন মোহামেডানের চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইট দেওয়া লক্ষ্যের কথা, “দেখুন আমার কাছে ভারতের বেশ কয়েকটি ক্লাব থেকে ডাক এসেছে। আমি মোহামেডানের ম্যানেজার ওয়াসিম ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, তারা লিগে কোন পর্যায়ে থাকতে চায়। চ্যাম্পিয়নশিপ, মধ্যম সারির দল নাকি তলানির দল। তিনি আমাকে বললেন তারা চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইট দিবে। আমার কাছে তার কথা ভাল লেগেছে। তাই মোহামেডানে খেলতে রাজি হয়েছি।”

কলকাতা ভারতের বেশ পুরনো ও জনপ্রিয় একটি ক্লাব। ১৮৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই ক্লাবের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। ডুরান্ড কাপজয়ী প্রথম ভারতীয় ক্লাব এটি। তাছাড়া ১৯৬০ সালে আগা খান গোল্ড কাপ জয়ের মাধ্যমে হয়ে যায় স্বাধীনতা পরবর্তীযুগে বিদেশের মাটিতে টুর্নামেন্টজেতা প্রথম ভারতীয় ক্লাব। আই লিগে সেকেন্ড ডিভিশনে গেল মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মোহামেডান, প্রথমবারের মত। সেই সুবাদে পরের মৌসুমে প্রথম বিভাগে খেলবে তারা। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইট দেওয়ার লক্ষ্যেই শক্তিশালী দল সাজাচ্ছে এবার। এশিয়ান কোটায় সামনের মৌসুমে সেখানে খেলবেন জামাল। বর্তমানে সাইফ স্পোর্টিংয়ের সাথে চুক্তিবদ্ধ জামালের মোহামেডানের সঙ্গে চুক্তিটা হয়েছে ত্রিপক্ষীয়। সাইফ স্পোর্টিং জামালকে ছাড়তে না চাওয়ায় চুক্তি হয়েছে পাঁচ মাসের জন্য। পাঁচ মাসের চুক্তি শেষে আবার জামাল যোগ দেবেন সাইফে।

গতবছর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে জামালের এসিস্টে গোল করেছিলেন সাদ উদ্দিন। ম্যাচটা ১-১ গোলে ড্র হলেও জামাল ভারতীয় ক্লাবগুলোর নজরে আসেন সেই ম্যাচের মাধ্যমেই। এরপরই উঠতে থাকে বিভিন্ন গুঞ্জন। এবার শেষমেশ কলকাতা মোহামেডানে নাম লিখিয়ে ফেললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ভারতে জামালের খেলার সুযোগ পাওয়াটা নিঃসন্দেহে হতে যাচ্ছে দেশের ফুটবলের জন্য ইতিবাচক দিক। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলে খেলে অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করে নেওয়ার সুযোগ থাকছে জামালের সামনে। আর ভারতের বিশাল দর্শকগোষ্ঠী ত আছেই। ভিন্ন আবহ, প্রতিপক্ষ, ফুটবলের মান সব কিছু মিলিয়েই বাংলাদেশ থেকে উন্নত ভারতের ফুটবল। আই লিগে জামাল ভুঁইয়ার খেলার সুযোগ পাওয়াটা তাই দারুণ এক অধ্যায় হতে যাচ্ছে জামালের ক্যারিয়ারে, সেই সাথে দেশের ফুটবলের লাভও হচ্ছে নিঃসন্দেহে।

১৯৯৬ সালে ভারতের জাতীয় ফুটবল লিগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে ২০০৭ সালে আই লিগ নামধারণ করে। লিগে মোট দলের সংখ্যা ১১। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান গত মৌসুমে জিতে নিয়েছে নিজেদের ২য় লিগ শিরোপা। ২০১৬-১৭ সাল পর্যন্ত এই লিগই ছিল ভারতের প্রিমিয়ার টপ ডিভিশন লিগ, ২০১৭-১৮ সাল থেকে আইএসএলের সাথে যৌথভাবে ভারতের টপ ডিভিশন লিগ হিসেবে আই লিগ চলমান।

সাধারণত বিদেশি লিগে খেলার বিষয়ে কিছুটা অনাগ্রহই দেখা যায় বাংলাদেশি ফুটবলারদের মাঝে। এজেন্ট নিয়োগ, চুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জটিলতায় বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ পান হাতেগোনা কয়েকজন বাংলাদেশি।

ভারতের লিগে একসময় নিয়মিত ছিলেন বাংলাদেশের তারকারা। সেই বন্ধ দুয়ার আবারও খুলছে লাল সবুজ অধিনায়ককে দিয়ে। মোনেম মুন্না, শেখ আসলাম, রুম্মন সাব্বির, গোলাম গাউছ, মামুনুলদের উত্তরসূরী তিনি। ভারতে খেলার এই সুযোগ নিশ্চিতভাবেই সমৃদ্ধ করবে জামালের অভিজ্ঞতার ঝুলিকে। জামাল ভুঁইয়ার আই লিগ যাত্রা সুখকর হোক- দর্শক ভক্তদের প্রত্যাশা এখন এমনটাই।