এস এ গেমসে হবে হানিমুনও!

দুজনের প্রথম দেখা ক্রীড়াঙ্গনে। পরিচয়টা সেখান থেকেই শুরু। সাধারণ কথোপকথন থেকে কখন যে তা সম্পর্কে রুপ নিয়েছিলো নিজেরাও জানতেন না। সম্পর্ক গভীর হয়েছে, তাতে আস্থা বেড়েছে, পূর্নতা দেওয়ার হাতছানি এসেছে। সেই পরিচয় থেকেই প্রেম ভালোবাসা হয়ে ক্রীড়াঙ্গনের সুখি এক দম্পতি।

গল্পটা পানির রাজ্যে ভেসে বেড়ানো সাঁতারু দম্পতি মাহফুজা খাতুন শিলা এবং শাহজাহান আলী রনির। ঢাকা থেকে ইতিমধ্যেই তারা দুজনেই পাড়ি জমিয়েছেন নেপালের কাঠমুন্ডুতে। তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় দুজনেই এসেছেন একসাথে৷ বরাবরের মতোই হয়েছেন একে অন্যের সহযাত্রী।

Image result for মাহফুজা খাতুন শিলা ও সাগর

তবে দুজনের পরিচয় টা একটু ভিন্ন!
১৩তম এসএ গেমসে বাংলাদেশে পতাকা বাহক মাহফুজা খাতুন শিলা। অন্যদিকে ফেডারেশনের ডেলিগেট হিসেবে এসেছেন শাহজাহান আলী রনি। দেশের হয়ে দুজনেই পানিতে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। অংশ নিয়েছিলেন এসএ গেমসেও। দুজনের মিল আরো একটা জায়গায়, এ দম্পতির প্রিয় ইভেন্ট যে ব্রেস্ট স্ট্রোক। ২০১৬ গুয়াহাটি এসএ গেমসে ৫০ মিটার এবং ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে জোড়া সোনা জিতেছিলেন শিলা। রনির অর্জনটা আরো আগে, ২০০৬ সালের কলম্বো এসএ গেমসেই ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে সোনা জিতেছিলেন।

২০১৬ সালের ১৮ মার্চ এই দম্পতির বিয়ে হয়েছিলো। ভালোবাসার ভেলায় চড়ে দিব্যি ভেসে যাচ্ছেন তিন বছরের উপরে৷ ভাসতে চান সারাজীবন। তবে নানা ব্যস্ততায় হানিমুনটাই করা হয় নি। তবে কি এবার হানিমুনটাও সেড়ে নিবেন? অবসর নেওয়ার পর এবারই প্রথম অফিসিয়াল ট্যুর। দুজনেই এসেছেন দেশের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে। দেশের পতাকা বইবেন বলে খুশিতে আত্মহারা মাহফুজা খাতুন শিলা। এবারই প্রথম এই সম্মানে অর্জিত হচ্ছেন।

নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই দম্পতিকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন সাঁতার ফেডারেশনের সহকারী কোচ গোলাম মোস্তফা।

২৩ বছরের লম্বা ক্যারিয়ারে শিলা জিতেছেন স্বর্ন পদক। পেয়েছেন খ্যাতি, সম্মান, আর্থিক পুরস্কার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পেয়েছেন অভ্যর্থনা, ফ্ল্যাট উপহার।

অন্যদিকে প্রথমবারের রনিও নেপালে যাচ্ছেন।
আপাতত খেলোয়াড়দের সাথেই থাকবেন তারা, তবে ঠিকই ঘুরে বেড়াবেন নেপালে। যাবেন
সৌন্দর্যের পোখারা শহরে।

হয়তো এই সুযোগে হানিমুন টাও সেরে ফেলবেন দেশের হয়ে স্বর্ন পদক জেতা এই তারকা দম্পতি!