এমিলিয়ানো মার্টিনেজঃ আধুনিক ফুটবলের রবার্ট ব্রুস!

0
65

” একবার না পারিলে দেখো শতবার “
জীবনে হাজার টা বাধা আসবে, তা উতরে সাফল্যের চূড়ায় পৌছানো টাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ধৈর্য, একাগ্রতা, অধ্যাবসায়। আপনার লক্ষ্য ঠিক থাকলে আপনাকে কেউ আঁটকে রাখতে পারবেনা।

অসচ্ছল এক পরিবারে জন্ম, টানাপোড়েনের সংসার। আর্জেন্টিনার মার প্লাটায় অভাবের সাথে লড়াই করেই বেড়ে উঠেছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। পুরো নাম, ডেমিয়ান এমিলিয়ানো মার্টিনেজ রোমেরো। তো সেই অভাবের সংসারেই একদিন ইংল্যান্ড থেকে এক সুখবর আসলো। ১৭ বছরের মার্টিনেজ ডাক পেয়েছেন আর্সেনালে।

আর্জেন্টিনা থেকে ইংল্যান্ড। এতদূর যেতে হবে ভেবে মন খারাপ এমির মা – বোনেদের। কিন্তু বাবার মাথায় ঋনের বোঝা, সব ভেবে সিদ্ধান্ত নিলেন আর্সেনালে যোগ দিবেন। ২০১২ সালে গানারদের হয়ে নাম লেখালেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ভাগ্যের চাকা ঘুরলো তবে?

আগস্ট ১, ২০২০!

মাঠের এক কোনে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন ১০ বছর আগে ঘর ছেড়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমানো এমি। এই কান্নায় যতোটা আনন্দ তার চেয়েও যেনো নিজেকে প্রমাণ করতে পারার আত্মতুষ্টি। দশ বছর পর এসে নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছেন? হাস্যকর না?

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এই দশ বছরে আর্সেনালের হয়ে নিজের নাম থাকলেও তা কেবল খাতা কলমেই যেনো থেকেছে। খোদ গানার ফ্যানরাই হয়তো চিনেনা এই গোলরক্ষককে। এই মৌসুমের আগে মাত্র ১৪ ম্যাচেই গানারদের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন এই আর্জেন্টাইন।

১০ বছরে ৬ বার লোনে দলের বাইরে ছিলেন, না হলে পুরোটা সময়ই ব্যাকবেঞ্চারদের মতো সবার পিছনে থেকেছেন। প্রথম চয়েজের গোলরক্ষক ত দূরে থাক, কখনো দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় পছন্দেরও হতে পারেননি। এরপরেও ভালোবেসেই গানারদের সাথে থেকে গেছেন।

কিন্তু এই মৌসুমে প্রথমবারের মতোন দ্বিতীয় পছন্দের গোলরক্ষক হয়ে দলের সাথে থেকেছেন। এরমধ্যে নিয়মিত গোলরক্ষক বার্নড লিনোর ইঞ্জুরিতে কপাল খুলে যায় এমির৷ সুযোগ টা কাজেও লাগান। এফএ কাপের সেমিফাইনালে দুর্দান্ত ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে দলকে ক্লিনশিট উপহার দিয়ে ফাইনালে তুলে নেন৷ প্রথমবারের মতোন যেনো সবার নজরে আসেন এই আর্জেন্টাইন।

” এটা আমার জন্য কিঞ্চিৎ আবেগের ব্যাপার। তা ম্যান সিটির মতোন বড় দলকে হারিয়েছি বলেই না, বরং, আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি এই ক্লাবের হয়ে একটা ফাইনালে খেলার জন্য অনেক যুদ্ধ করেছি। দশ বছর হয়েছে আমি এই ক্লাবে এসেছি, আর প্রথমবারের মতোন এত বড় সুযোগ পেয়েছি। আমি খুব গরীব পরিবার থেকে এসেছি। আর তাদের সন্তান ৯০০০০ এর মতোন দর্শকের সামনে ফাইনালে ট্রফির জন্য লড়াই করবে। যা আমার পরিবারের জন্য গর্বের বিষয়। “

সেমিফাইনালের ম্যাচ জয়ের পর এমনটাই বলেছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

তবে ঝড়ে বক মরে, আর ফকিরে কেরামতি বাড়ে ” এই প্রবাদের মতোন হুট করেই আবার নিশ্চুপ হয়ে যান নি। বরং চেলসির বিপক্ষে ফাইনালেও অসাধারণ খেলা উপহার দিয়ে দলকে ১৪ তম এফএ কাপের শিরোপা উপহার দেন।

” আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি এই জায়গায় আসার জন্য। একটা সুযোগ পাওয়ার জন্য ১০ টা বছর অপেক্ষা করেছি। আমার এই সাফল্যে আমার পরিবার নিশ্চয়ই খুশি হয়েছে। তারা কেঁদেছে। এটাই আমার জন্য সাফল্য “

ফাইনালের পর মাঠের এক কোনায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ব্যাপার টা লক্ষ্য করে এগিয়ে আসলেন অবামেয়াং। আলতো করে কাধে হাত রাখলেন। আর তাতেই এতদিনের কষ্টগুলো অঝোর ধারায় কান্না হয়ে বেরিয়ে আসছিলো। এ প্রসংগে অবামেয়াং বলেন,

” আমরা সবাই খুশি। আমরা এই ব্যাপারটাতে আনন্দিত। আমি এমিকে কান্না করতে দেখেছিলাম। সে এই শিরোপা টা ডিজার্ভ করে। তার অনেক কষ্টের ফসল এই শিরোপা। “

ছোটবেলায় আমরা রবার্ট ব্রুসের অধ্যাবসায় থেকে সাফল্যের গান জানতাম। বড় হয়ে কখনো তা রোনালদো, কখনোবা অন্য কোন এথলেটের ভিতর তা খুঁজে বেড়াতাম। আজ নতুন করে আরো একজন জানলাম।

ডেমিয়েন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ রোমেরো, আধুনিক ফুটবলের রবার্ট ব্রুস।