একজন অধিনায়ক এবং তার অর্জন

0
23

৩ আগষ্ট ১৯৮৪ সালে জম্ম এই ভারতীয় ফুটবলারের। আজ ৩৫ বছর বয়সে পা দিচ্ছেন ভারতীয় জাতীয় ফুটবল দলের এই অধিনায়ক। দেশটির হয়ে তাদের ফুটবলে অসাধারন এবং খুবই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছেন ভারতের সবর্কালের সেরা ফুটবলাদের একজন তিনি।

ভারতের সেকেন্দ্রাবাদে জম্মগ্রহন করেন সুনীল চেত্রী। ২০০২ সালে কলকাতার জনপ্রিয় ক্লাব মোহানবাগানে খেলা শুরু করেন তিনি। ২০০৫ সাল পযর্ন্ত এই ক্লাবেই ছিলেন। এরপর যোগ দেন জেসিটিতে। ২০০৫ সাল থেকে ২০০৮ সাল পযর্ন্ত এই ক্লাবের হয়ে ৪৮ ম্যাচে ২১ গোল করে সবার নজর কাড়েন তিনি। ২০০৮-০৯ মৌসুমে যোগ দেন কলকাতা ইস্টবেঙ্গলে। ২০০৯-১০ মৌসুম খেলেন ডেমপো ক্লাবের হয়ে। ২০১০ সালে আমেরিকার ক্লাব স্পোর্টিং কানসাস সিটিতে যোগ দেন এই ভারতীয়। এরপর ২০১১ সালে আবার ভারতে চলে আসেন তিনি। ২০১১-১২ মৌসুম খেলেন সাবেক ক্লাব মোহনবাগানের হয়ে। ২০১২-১৩ মৌসুমের জন্য পুর্তগীজ ক্লাব স্পোটিং সিপি তাকে সাইন করায়। স্পোটিং সিপির বি টিমের হয়ে ৩টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান তিনি। এরপর চার্চিল ব্রাদাসে লোনে আসেন সেখান থেকে ২০১৩ সালে তাকে বেঙ্গালুরু এফসি নিয়ে নেয়। এরপর আর ক্লাব ছাড়েননি তিনি। বেঙ্গালুরু এফসির সেরা খেলোয়াড় হয়ে আছেন তিনি। মাঝে আইএসএলে মুম্বাই সিটি এফসির হয়ে খেলেছেন। এবারও মুম্বাইয়ের হয়ে আইএসএলে অংশ নিবেন তিনি

ভারতীয় জাতীয় দলের হয়ে তিনি ১১১ম্যাচে ৭১টি গোল করেছেন। ভারতের হয়ে তিনবার নেহেরু কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। এএফসি চ্যালেন্জ কাপ জিতেছেন ১বার ২০০৮ সালে।

এসয়েএফএফ চ্যাম্পিয়নশীপ জিতেছেন ২০১১ ও ২০১৬ সালে। ক্লাবের হয়ে আই লীগ জিতেছেন ৪বার। বেঙ্গালুরু এফসির হয়ে জিতেছেন ইন্ডিয়ান সুপার লীগ। ২০১৬ সালে ক্লাবটির হয়ে এএফসি কাপে রানারআপ হয়েছিলেন তিনি।

ব্যক্তিগত অর্জনে এআইএফএফ এর প্লেয়ার অব দ্যা ইয়ার হয়েছেন ৬বার। ২০০৮ সালে হয়েছেন এএফসি চ্যালেন্জ কাপে মোস্ট ভেলুয়েবল প্লেয়ার হয়েছেন। এএফসি এশিয়ান আইকন হয়েছেন ২০১৮ সালে। জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন ভারতীয় এই ফুটবল খেলোয়াড়। আর্জুন এওয়্যার্ড এবং পদ্মা সারি এওয়্যার্ড পেয়েছেন তিনি।

এশিয়া মহাদেশের অনেক বড় ফুটবলারদের মধ্যে একটি নাম হয়ে উঠেছেন এই সুনীল ছেত্রী। ভারতীয় ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়াতে সামনে থেকে দিয়েছেন নেত্বতৃ। এশিয়া মহাদেশে অনেক খ্যাতিমান ফুটবলার বা তাদের মত কোনো বড় ক্লাবে বড় কোনো অর্জন নেই এই ভারতীয় কিংবদন্তী ফুটবলারের। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে ৭১টি গোল বা দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াতে রেখেছেন অনেক বড় অবদান। তাই আমার ব্যক্তিগত চোখে তিনি একজন এশিয়ান লেজেন্ড। হয়তো অনেকে মানবে না। নিজেও তিনি মানতে চান না।

কিন্তু ভারতীয় ১২০ কোটির মানুষের দেশের অধিনায়ক এই সুনীল ছেত্রী তার দেশের মানুষের কাছে ফুটবলের লেজেন্ডারি এবং একজন অসাধারন অধিনায়ক হয়ে থেকে যাবেন। থেকে যাবেন তাদের ফুটবল ইতিহাসে। তাদের ইতিহাসে স্বর্নঅক্ষরে লেখা হবে এই কিংবদন্তীর নাম।