ন্যাচারাল ট্যালেন্ট ইয়াসিন আরাফাত

0
221

বয়সটা সবে মাত্র আঠারো। বয়সন্ধিকালটা এখন ও পুরোপুরি শেষ হয়নি। কিন্তু বিপিএলে ইতিমধ্যে ইয়াসিন আরাফাত সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের জার্সিতে খেলে ফেলেছেন ৪১ টি ম্যাচ। ফুটবল মাঠে ছেলেটা ফুলব্যাক পজিশনে খেলে কিন্তু সর্বশেষ ৪৫ টি প্রতিযোগিতা মূলক ম্যাচে ১০ বার বল গোল পোস্টে প্রবেশ করিয়েছেন।

যার মধ্যে ৪ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে। এই একই সময়ে অন্যদের কে দিয়ে গোল করিয়েছেন ৮ টি। ১৮ বছর বয়সী একজন তরুণ বাংলাদেশী ডিফেন্ডার থেকে এমন পারফর্ম্যান্স সচরাচর দেখা মিলে না।

বর্তমানে অনেকেই মনে করেন এই দেশে বর্তমানে ইয়াসিনের পজিশনে তাকে টক্কর দেওয়ার মতো কোনো প্লেয়ার নেই। একজন লেফটব্যাক পজিশনে খেলা ফুটবলার তিনি গোল করতে এবং করাতে যেমন পারদর্শী একই ভাবে প্রতিপক্ষ্যের আক্রমণ ঠেকাতেও সমান ভাবে পারদর্শী। ইয়াসিন এর মতো ন্যাচারল ট্যালেন্ট খুঁজে পাওয়া বর্তমানে বাংলাদেশে বিরল ঘটনা।

২০১৭ সালে ঢাকা ৩য় বিভাগ লিগে কদমতলা সংসদ ক্লাবের জার্সিতে তার প্রফেশনাল ফুটবল ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু। ঐ সিজনে তার দূর্দান্ত পারফর্ম্যান্স সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের স্কাউটদের নজরে পরে। এবং ২০১৮-১৯ সিজনে আনুমানিক ১.৬৯ কোটি টাকা রিলিজ ক্লজে সাইফ তাকে দলে ভিড়িয়ে দেশের ফুটবলে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। সরাসরি ৩য় বিভাগ ফুটবল থেকে দেশের সর্বোচ্চ লিগে এমন ট্রান্সফার দেশের ফুটবলে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে। আর দূর্দান্ত পারফর্ম করে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের এই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করেছেন ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ ফুটবলার।

নারায়নগঞ্জ থেকে উঠে আসা এই তরুণ ফুটবলার বাংলাদেশ অ-১৮ দলকে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে অ-১৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে তুলেছেন।এএফসি অ-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাই পর্বেও অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছে। খেলেছেন অ-১২, অ-১৪, অ-১৫ এবং অ-১৬ দলেও। সব শেষ এসএ গেইমস অ-২৩ দলের হয়েও খেলেছেন একটি ম্যাচ।

২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর ভুটানের সাথে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে প্রথম জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামেন এই তরুণ। এরপর জাতীয় দলে নিয়মিত ডাক পেলেও এখনো নিজের জায়গায় থিথু হওয়ার সুযোগ পাননি। মূলত বাংলাদেশে লেফটব্যাক, রাইটব্যাক পজিশনে জাতীয়দলের নিয়মিত স্ট্রাইকারদের ও খেলিয়ে থাকে লিগের দল গুলো। সেই জায়গায় এই পজিশনে লড়াই করে নিজের অবস্থানে টিকে থাকা এবং ম্যাচের পরে পরে ম্যাচ পারফর্ম করে যাওয়া ১৮ বছর বয়সী ইয়াসিনকে দিয়েই সম্ভব।তাইতো জেমির চোখের আড়ালে যায়নি এই তরুণ কখনোই। নারায়নগঞ্জ এর এই ফুটবলার মাত্র ১৮ বছর বয়সে ধারাবাহিক পারফর্ম করে এবার ও জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় দলে।

২০১৮ সালে সাইফের সাথে ইয়াসিন আরাফাত এর চুক্তি হয়েছিলো ৩ বছরের জন্য। সরাসরি ৩য় বিভাগ থেকে আসা একজন ফুটবলার এর জন্য ১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা রিলিজ ক্লজ দিয়ে তুলপাড় শুরু হয়েছিলো। প্রথম সিজনে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব তাকে ২৫ লাখ এর ও বেশি টাকা দিয়ে দলে ভেড়ান। এরপরের সিজনে যা ৩৫ লাখ এ গিয়ে দাড়াই। একজন তরুণ ফুটবলার এর জন্য এত টাকা রিলিজ ক্লজ বেধে দেওয়ার ব্যাপারে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এর বক্তব্য ছিলো “জুনিয়র প্লেয়ার হিসেবে তার সাথে আমরা শুরুতে চুক্তি করি তারপর সে পারফর্ম করে জাতীয় দলেও জায়গা করে নিয়েছে ।তার উপর এখন অনেকেরই নজড় থাকবে তাই তাকে হারানোর ভয়ে আমরা তার জন্য ২লক্ষ ডলার রিলিজ ক্লজ নির্ধারণ করে পুনরায় চুক্তি করি।”

অল্প বয়সে অনেক প্লেয়ার উঠে এসে বড় ক্লাবে এবং জাতীয় দলে ডাক পান কিন্তু অনেকেই ঝড়ে যায় সেই পথে হাটতে চাই না ইয়াসিন আরাফাত। জাতীয় দলকে অন্তত ১০ বছর সার্ভিস দিতে চান তিনি। জাতীয় দলে এখন পর্যন্ত ডাক পেয়েছে বহুবার কিন্তু নিজের জায়গা এখন ও বুঝে পাননি তিনি।কিন্তু দলে থেকেও মাঠে না নামতে পেরে হতাশ হওয়ার বদলে মনের ভেতর জেদ লালন করে পরবর্তীতে আরো ভালো পারফর্ম করার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামেন তিনি। আর সাফল্য ও মেলে সেই ভাবেই।

ক্যারিয়ারের শুরু অ-১২ দল দিয়ে। সে বার দলের সাথে মালয়েশিয়া তে গিয়ে সুপার মক কাপের ট্রফি জিতে আসেন তিনি। তারপর আরামবাগ অ্যাকাডেমীর হয়ে পাওনিয়র লিগ এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ৩য় বিভাগে কদমতলা সংসদ কে করে ছিলেন রানার্সআপ। তার নেতৃত্বেই ২০১৭ সালে এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপ এ বাংলাদেশ অ-১৬ দল কাতার অ-১৬ দলকে হারিয়েছিল। অ-১২ দলের সাথে গিয়ে সুপার মক কাপে গোল করেছিলো ৩ টি। অ-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও ভুটান এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গোল ছিলো তার। পাইওনিয়ার লিগে গোল করেছেন ৩টি। ৩য় বিভাগ লিগে তার দুইটি গোল সহ এসিস্ট ছিলো অনেক গুলি।তারপর অ-১৮ এবং অ-১৯ দলের হয়েও গোল পেয়েছেন তিনি। শেখ কামাল ক্লাব কাপে ধারে চট্টগ্রাম আবাহানীর হয়ে খেলে দল কে করেছিলেন রানার্সআপ। সেই বার দারূণ এক গোল করে বিস্মিত করেন গ্যালারির হাজার হাজার দর্শককে।

নারায়নগঞ্জ এর কোচ আসলাম চৌধুরির হাতে তার ফুটবলের চর্চা শুরু। বাবা হারুনুর রশিদ তার উৎসাহের প্রধান জোগানদাতা।ফুটবল এর যেকোনো সাফল্য তিনি সবার আগে বাবার সাথে শেয়ার করেন। ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ বাংলাদেশ দলের সাবেক লেফটব্যাক ওয়ালী ফয়সাল কে পছন্দ করেন এবং বিদেশিদের মধ্যে ব্রাজিলের লেফটব্যাক মার্সেলো কে পছন্দ করে।