আমাদের সাকিব, একজন ভক্তের ভালোবাসা!

আমি ভালো নাই, আসলেই ভালো নাই। কি থেকে কি হয়ে গেলো, ভোরবেলা ঘুম ভাঙার পর প্রতিদিনই তো অনলাইনে আসি, অথচ এরকম শক খাইনাই কখনো৷ একটা ট্রামার মধ্যে আঁটকে আছি। ১১ দফা দাবী মেনে নিলো, ভারতের মাঠে খেলতে যাবো সাকিব অধিনায়ক কত কি, অথচ সব নিমেষেই কর্পূরের মতো উবে গেলো!

বললে বলা যায় অনেক কিছুই, পাপনের হাত নাই এখানে, সেটা মেনে নিয়েও বলা যায় কেন পাপন ২১ তারিখ সব জেনে ২২ তারিখ ইঙ্গিত দিয়ে গতকাল বললো সে কিছুই জানতো না? কেন এই মিথ্যাচার? ওনার প্রতি এই দোষারোপের জন্য উনিও কি কম দায়ী? লাগামহীন কথায় বরাবর ওস্তাদ। যেখানে সাংবাদিকরা ২১ তারিখে জেনে মুখে কুলুপ আঁটতে পারে সেখানে সে কিভাবে এসবের ইঙ্গিত দিয়ে চলে যায়?

বললে বলা যায় অনেক কিছুই, সাকিব আল হাসানের সাথে আকসুর কথাবার্তা চলছিলো অনেক আগে থেকেই, তার মানে সাকিব আল হাসান জানতেন কিছু একটা হবেই। তাই তিনি চেয়েছিলেন কিছু একটা করে যেতে, তার জন্যই কি ১১ দফা দাবি? মহানায়ক? বিদ্রোহী নেতা? এই শাস্তিতে অবশ্যই বিসিবির হাত নাই, পাপনের ক্ষমতা অই ঘরের মধ্যেই, আইসিসিতে তার হেডম চলবেনা কখনোই।

বললে বলা যায় অনেক কিছুই, আইসিসির বিজ্ঞপ্তিতে দেখলাম সাকিব আল হাসানের ঘনিষ্ঠ কেউই আগারওয়ালকে নম্বর দিয়েছে উনার, সেই ঘনিষ্ঠ লোক আবার খেলোয়াড়দের পরিচিত, একটু মাথা খাটান, নিয়মিত ক্যাসিনোতে কে যায়? গত কয়েকদিন কার কোন সাড়াশব্দ নাই? কিংবা কে খেলোয়াড়দের খুব নিকটে আবার এসবে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল, নাম টা পেয়ে যাবেন ।

বললে বলা যায় অনেক কিছুই, ২০১০ সালে প্রথমবারে আইসিসিকে সব জানিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান, যেমনটা ২০১২ সালে মাশরাফি জানিয়েছিলেন আকসুকে৷ অথচ টানা তিনবার প্রস্তাব পেয়েও এবার কাউকেই কিছু জানায় নি সাকিব আল হাসান। অথচ নিজেই আছে এমসিজির মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে৷ এর পিছনে কোন কারন আছে? কেয়ারলেস ভাব? নাকি কোন হুমকির ভয়? শোনা যায় আগারওয়ালের হুমকিতে নাকি এর আগে দুজন ক্রিকেটার সুইসাইড করেছিলো, তিনি আছেন আইসিসির কালো তালিকাতেও৷ আদতে কে এই আগারওয়াল, আসলেই কি তার অস্তিত্ব আছে? জানি না কিছুই! শুধু এতটুকু জানি৷ আমাদের মাশরাফি বিন মোর্ত্তাজা আর সাকিব আল হাসানকে জুয়ারিরা কিনতে পারে নাই। টাকার জন্য নিজেদের বিক্রি করে দেয় নাই। টানা তিনবার প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন মহানায়ক সাকিব আল হাসান!

বললে বলা ত যায় অনেক কিছুই, আমাদের ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ফ্লাডলাইটের আলোয় গোলাপি বলে খেলা অথচ সেখানে খেলবে না আমাদেরই ক্রিকেটেরই সবচেয়ে বড় আলো বাংলাদেশের জান সাকিব আল হাসান। আগামী একবছর আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসেই সবচেয়ে ব্যস্ত সিরিজ, আরাধ্যের টেস্টের ছড়াছড়ি, অথচ আমরা পাচ্ছিনা আমাদের সম্রাট কে৷ সাদা পোষাকে দেখতে পারবোনা কারো স্যালুট, দেখতে পারবো না আঙুল উঁচিয়ে বিপক্ষের কাউকে থমকে দেওয়া, কিংবা বিপদের সময় বুক চিতিয়ে কারো লড়ে যাওয়া!

সাকিব আল হাসান ভুল করেছেন, তিনি নিজেই জানতেন। এজন্যই আপিল করেছেন শাস্তি মেনে নিয়েছেন। কিন্তু আমি এই সাকিব কে কখনো দেখিনাই, এরকম দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া সাকিব আল হাসানকে দেখা হয়নাই কখনো। বুকের ভিতর বইছে ঝড়, আঁটকে রাখার কতই না চেষ্টা তার!

বললে বলা যায় অনেক কিছুই, অপেশাদার বোর্ড, আমাদের ক্রিকেটের অন্দরগত সমস্যা, প্রভাব, আধিপত্য। কিন্তু সবকিছু বলা হয় না, সাকিব আল হাসানের মতোই মাঝেমধ্যে আড়ালে চলে যেতে হয়। সময়ের অপেক্ষায় থাকতে হয়৷

বললে ত বলা যায়ই, সারাদিনই ফুরোবে না তাতে!
এই যে আইপিএল, পুরোটাই জুয়ারিদের আড্ডা খানা, কই সেক্ষেত্রে আইসিসির পদক্ষেপ কি? যেখানে খোদ ইন্ডিয়ান রাও বলে বেড়াচ্ছে এই লীগের ফিক্সিংয়ের কথা৷ এই যে আজকের ধোনি সবার হিরো, আমারও প্রিয়। কিন্তু এই লোকটা তার জীবনে যা করছে তা যদি ফাঁস হইতো তবে কি হিরো থাকতো? অথচ সাকিব আল হাসান শুধু গোপন রেখে ভুল করলেন, শাস্তিও পেয়ে গেলেন।

আমি আসলে আর লিখতে পারতাছিনা, এই মানুষটার বড় আফসোস ছিলো, “আমরা খুব বেশী টেস্ট খেলতে পারি না” অথচ আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচিতেই উনি খেলতে পারবেন না। ১৩ টা টেস্ট মিস করবেন, তাও আবার চ্যাম্পিয়নশীপের!

আমার খুব কাছের মানুষ রা জানে এই লোকটাকে নিয়ে আমার কত কি আবদার। কাউকে দেখাই না, বুঝাই না, জানাই না। অথচ আমার পুরো টা জুড়ে এই মানুষ টা। সারাদিনে সবচেয়ে বেশী ভাবি এই মানুষ টাকে নিয়ে, অথচ আগামী একবছর তাকে দেখবোনা, আমি আর তার আনন্দে ভাগ বসাতে পারবো না, তার রেকর্ডের অপেক্ষায় বসে থাকতে পারবো না। ১ দিন, ২ দিন করে ৩৬৬ টা দিন। প্রত্যেকটা দিন গুনবো, সময় ফুরোবে, উনার অপেক্ষায় নতুন সময় আসবে। আবারো সাকিব আল হাসান ফিরবে, আমার ভাই মাঠে নামবে, আমি গুনগুন করে গাইবো,
” বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রাণ,
সাকিব আল হাসান, সাকিব আল হাসান! ”

Pain is temporary and greatness lasts forever. You’re a fucking king, our rockstar,
our pride, our very own.

Love You Vaiya, ” Shakib Al Hasan “