আমরা থাকতে চাই শুধু এই বাংলা মায়ের সন্তান হয়েই, কোন বেজন্মা হয়ে নয়!

0
105

সেই ছোট্ট বয়সে রোজারিও থেকে ইউরোপের উন্নত শহর বার্সেলোনায় আসা এক পিচ্চি বালক।

তারপর সেখানেই চিকিৎসা, স্বপ্নপূরণ। সময়ের পরিক্রমায় বালক ল্যাটিনের চেয়েও বেশি স্প্যানিশ হয়ে ওঠে।

অথচ সেই বালক কি ভুলে গিয়েছিলো, একটা ছোট্ট শহরের কথা। যেখানে কেটেছিলো তার শৈশব। একটা পতাকার কথা, যার নীল সাদা রঙ তাকে স্বপ্ন দেখাতো।

না সে ভুলে নাই। আজ পর্যন্ত বিদ্রুপ সমালোচনা নিয়েই নীল সাদা নিয়ে কিছু একটা জিততে চায়। ক্লাবের জার্সি গায়েই জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে যাওয়ার পরও কেন, কি আছে সেই নীল সাদায়? যা ছেলেটাকে বারবার তাড়া করে ফিরে।

মাদেইরার লিকলিকে ছেলেটা। বাবা রোনাল্ড রিগ্যানের ভক্ত জন্য নাম লিখেছিলেন রোনালদো।

পরিশ্রম আর একাগ্রতা দিয়ে আজ তর্কসাপেক্ষে বিশ্বের সেরা দুজনের একজন।

ইউরো ফাইনাল। স্বপ্ন পুরনের সামান্য একটু দূরেই বিশ্বজয়ী ছেলেটা। অথচ অঘটন, শুরুতেই চোট। মাঠের বাইরে।
তারপরেরর সবকিছু রুপকথার মতই, ডাগআউটে চিৎকার, একটা গোল।
ম্যাচশেষে ছেলেটার হাতে ট্রফি আর চোখে পানি। কতগুলো ইউসিএল আর ব্যালন হাতে তোলা মেশিনখ্যাত মানুষটার চোখে আজ পানি কেন? কি আছে এই ট্রফিতে? কি আছে এই জার্সিটিতে?

সার্বিয়া সুইজারল্যান্ড ম্যাচ। সুইজারল্যান্ড, পৃথিবীর অন্যতম ধনী এবং সেরা একটা দেশ। বলা হয়ে থাকে সুইস নাগরিকদের মতন সুযোগ সুবিধা পৃথিবীর আর কোন দেশের নাগরিকরা পায় না।

সেই দেশের অন্যতম সেরা একজন ফুটবলার। জারদান শাকিরি। বিশ্বকাপে সার্বদের বিপক্ষে গোল করে সেই উৎযাপন। কসোভার কান্নার জবাব ছিলো যে উৎযাপনে। কি সম্পর্ক শাকিরর সাথে কসোভার? কেন ছিলো জবাব সে উৎযাপনে? কি করেছিলো সার্বরা?

উত্তরের জন্য আরেকটা গল্পে যাই। ৮৪ মিনিটে পাকিস্তানের জালে বাংলাদেশের গোল। গোলদাতা তপু বর্মণ এক অভিনব উৎযাবন করলেন। নকল গুলি করার মত,অভিনয়।
সারা স্টেডিয়াম চিৎকার করে উঠলো। লাল সবুজের পতাকা উড়তে শুরু করলো।

চিৎকারের মাঝে একটা শব্দ ভেসে আসলো,, ‘জয় বাংলা’
বুকের মধ্যে ছলকে উঠলো আবেগ, মুক্তিযুদ্ধ, হত্যা, মুক্তি, স্বাধীনতা, জন্মভূমি।

যেমন টা শাকিরির বুকে উঠেছিলো সেদিন, সার্বদের গনহত্যার জবাব দিয়েছিলো উৎযাপনে কসোভায় জন্ম নেওয়া শাকিরি। সুইজারল্যান্ডের দামী বাতাস যাকে ভুলাতে পারে নাই জন্মভূমির সংগ্রাম মুক্তি চেতনা।

সব জিতেও ভুলে নাই রোজারিও মেসি, আকাশী সাদার আর্জেন্টিনার ডাক, ভুলে নাই ক্রিষ্টিয়ানো সে একজন সমুদ্র জিততে নামা পর্তুগীজ নাবিক।

এটাই জন্মভূমির ডাক, এটার নিজের জন্মের ইতিহাস তার চেতনা নিয়ে বেঁচে থাকা।

ওরা সব পেয়েও ভুলতে পারে নাই, তবে আমরা কেন ভুলে যায়।

কেন আজ বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলেও আমাদের ভারত পাকিস্তান সাপোর্ট করতে হয়? কেন আফ্রিদির লালসায় লালা ঝরে এদেশের বাতাস খাওয়া বেজন্মাদের?

ইজরিয়েলি ট্যাংকের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো ফিলিস্তিনি যুবক দেখে আমরা গর্বিত হই। আর মাত্র ৪৮ বছর আগেই এরকম লাখ লাখ যুবক বুকের রক্ত ঢেলে দিলো তবে আমরা কেন গর্বিত হই না? আমাদের কেন এখন প্রশ্ন জাগে, এটা কি মুক্তিযুদ্ধ নাকি ভারতের ষঢ়যন্ত্র, শহীদ কি ত্রিশ লাখ নাকি তিন লাখ?

পাকিস্তানতে ঘৃনা করতে হবে, ওদের বয়কট করতে হবে, এসব বললেই কিংবা ওদের বিরুদ্ধে দুটো কথা বললেই

কেন ভারতের কথা উঠে আসে? কিসের নিরেপেক্ষতা *** আমরা?

আপনাকে আমাকে কে দিব্যি দিয়েছে, ভারতকে ভালোবাসতে, সাপোর্ট দিতে?
না কেউ দিই নাই। তবে কেন ভারত কে তুলে আনি। তারমানে কি যুদ্ধটা আমাদের ছিলো না? রক্ত আমাদের ছিলো না?

যদি সব ভারতের ষঢ়যন্ত্রেই হয়, তাহলে ভারতীয়রা যখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কে ওদের যুদ্ধ বলে দাবি করে, তবে আমাদের পোড়ে কেন?

আমরাই তো ওদের হাতে কৃতিত্ব তুলে দিই। আমরাই তো পাকিস্তানকে ঘৃনা করার জন্য আরেক পাল্লায় ভারতকে তুলে আনি।

প্রশ্নউঠে আসে, তবে কুটনৈতিক সম্পর্ক এখনও কেন পাকিস্তানের সাথে আছে? কেন আমাদের খেলোয়াড়রা ওদের সাথে হাত মেলায়, একসাথে খেলে?

কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের সময়, আমেরিকার একজন সিনেটর বলেছিলো, এখন রাশিয়ার সাথে আমরা হাত মেলাবো, সংস্কৃতি বিনিময় করবো, খেলোয়াড় পাঠাবো।

বাট তারা শত্রুই থাকবে। এবং এই শত্রুতা ধরে রাখবেন আপনার জনগনরা। কারন জনগনই একমাত্র শক্তি যাদের আন্তর্জাতিক আইন মানতে হয় না, লোক দেখানো কটনৈতিক সম্প্রীতি মারাতে হয় না, জনগনই আবেগ দিয়ে শত্রুতা ধরে রাখতে পারে। কোন হামলার পাল্টা প্রতিশোধের হামলা নিতে পারে।

অথচ আমরা পাকিস্তানিদের ঘৃনা করার আগে বাহানা খুঁজি, ওরা কেন বিপিএলে খেলতে আসে? তামিম কেন খেলতে যায়?

তামিম ওদের সাথেও খেলে, আবার লাল সবুজের জার্সি পরে সাইদ আজমল ওমরগুলদের পাছায় ব্যাটের ডাটও ভরে দেয়।

আপনি আমি কি করি?

আমার দেশ শেষের দিকে কত নম্বর পজিশনে তাতে কি? আমাদের কোন ট্রফি নেই তো কি হয়েছে?

শেভচেঙ্কো ইউক্রেন নিয়ে গর্বিত হতে পারলে, মেসি বারবার হেরেও আকাশী সাদায় স্বপ্ন দেখতে পারলে, সালা মিশরকে নিয়ে সংগ্রাম করতে পারলে, আমাদের কেন এত অন্যের প্রতি এত ঝুকতে হয়।

দেশতো মা,, আমার মা যদি একটু কম ধনী হয়, একটু কম সুন্দরী হয়, তাই বলে কি পাশের বাড়ির কেউ আমার কাছে মায়ে চেয়ে বেশি আপন হবে?

আর ধর্মের কথা বলতেছেন,,
তাহলে আজ থেকে সকল বাংলা, হিন্দি গান সিনেমা নাটক দেখা বন্ধ করিস কুত্তার বাচ্চারা,,

বিশ্বকাপে সৌদি, কাতার, মিশর সাপোর্ট করিস হিপোক্রেটরা।
ধর্ম তুলে দেশকে ভুলিস। অথচ জানিস না,,

আমার নবী (স) মক্কা থেকে মদদীনায় হিজরতের সময় মক্কার জন্য কেদে বুক ভাসিয়েছিলো,,। মদীনা বাসির ভালোবাসা সম্মান পেয়েও মক্কাকে একমুহূর্তের জন্যও ভুলেন নাই।

জানি এগুলো তোদের কানে যাবে না। আজ স্বাধীনতার এই দিনে একটাই চাওয়া,, পাকিস্তান যেন একদিন বিশ্বের দরবারে তোদের কে তাদের সন্তান হিসেবে দাবি করে,,

আমরা হাসিমুখে তোদের স্বপ্নের দেশে, আফ্রিদির দেশে, ইমরানখানের দেশে পাঠিয়ে দেব।

আমরা থাকতে চাই শুধু এই বাংলা মায়ের সন্তান হয়েই,, কোন বেজন্মা হয়ে নয়।

পৃথিবীতে আমার আইডেন্টিটি একটাই,, আমার মা, মাতৃভূমি বাংলাদেশ।

অতিথি লেখকঃ জমিদার হুমায়ুন কবির