অবশেষে শেষ হাসি হাসলো সিমিওনে

0
32

অবশেষে! অবশেষে দিয়েগো সিমিওনের দল বড় কোনো দলের বিপক্ষে ২য় লেগের কোনো ম্যাচে জিতে পরের রাউন্ডে গেলো। গত মৌসুমেও যেখানে ২ গোলে এগিয়ে থেকে রোনালদোর জুভেন্টাসের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিলো, সেখানে এবার নক আউট করলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলকে! তাও আবার তাদের মাঠেই! ম্যাচে ২-৩ গোলের জয় নিয়ে এগ্রিগেটে ২-৪ গোলে জিতে শেষ আটে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে সিমিওনের শিষ্যরা।

যদিও ম্যাচের শুরু থেকে বুঝার উপায়ই ছিলোনা যে ম্যাচটার রেজাল্ট এমনও হতে পারে! শুরু থেকেই একেরপর এক এট্যাকে জর্জরিত করে ফেলেছিলো সালাহ-মানেরা। অন্যদিকে ভুলপাসের মহড়ায় মাঠ ভরিয়ে তুলছিলো এটলেটিকোর খেলোয়াড়রা। অন্যদিকে বল পায়েই রাখতে পারছিলোনা তারা। প্রত্যেকবার বল পেলেই কোনো না কোনোভাবে হারিয়ে ফেলছিলো। প্রথমার্ধের ৪০ মিনিট পর্যন্ত লিভারপুলের পজিশন ছিলো ৬৭% যেখানে এটিএমের ছিলো মাত্র ৩৩%! এট্যাকের ধারাবাহিকতায় ৪৩ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলকে হেড দিয়ে গোলে পরিনত করেন উইনালদাম। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ স্কোরলাইন দিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে একটু ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে এটলেটিকো। তাতেও কমেনি লিভারপুলের দাপট। একের পর এক গোলাবারুদের মত আঘাত হানতে থাকে এটলেটিকোর রক্ষণে। ওদিক গোলবারের নিচে ছিলেন এক অতন্দ্র প্রহরী, না তার ইয়ান অবলাক। একেরপর এক সেইভও দিয়ে যাচ্ছিলেন। যেন একাই খেলছেন লিভারপুলের বিপক্ষে। লিভারপুল মোট শ্যুট নেয় ৩০টি, যার মধ্যে ১১টি শ্যুয় ছিলো টার্গেটে। ৯৪ মিনিটে গোলপোস্ট খালি পেয়ে জানে বল জড়াতে ভুল করেন না ববি ফিরমিনো। অতঃপর পরিবর্তিত হয়ে মাঠে নামেন সাবেক মাদ্রিদ খেলোয়াড় মার্কোস লরেন্তে। মাঠে নেমেই ৯৭ মিনিটে গোল করে দলকে টেনে তোলেন খাদের কিনারা হতে। এগ্রিগেটে ২-২ গোলের কারনে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। আবারো আবির্ভূত হয় সেই লরেন্তে! অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের শেষদিক অর্থাৎ ১০৫+১ মিনিটে আরেক অসাধারণ গোল করে বসেন তিনি। লিভারপুল পিছিয়ে পড়ে ২-৩ গোলে। এদিক আবার এটিএম পাচ্ছে দুই হোম গোলের এডভান্টেজ। শুরু হলো অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের খেলা। সেখানেও ডমিনেট করতে লাগলো ক্লপের শিষ্যরা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেছেন আরেক সাবেক মাদ্রিদ খেলোয়াড় আলভারো মোরাতা।

ধারনা করা হচ্ছিলো এনফিল্ডে খুব সহজেই এটলেটিকোকে হারিয়ে পরের রাউন্ডে যাবে লিভারপুল। তা আর হয়ে উঠলোনা। ঠিক ৬৮ ম্যাচ পর এনফিল্ডে হার স্বীকার করে নিতেই হলো লিভারপুলের। সাথে বিদায় জানাতে হলো চ্যাম্পিয়ন্স লীগকেও।