অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ জিতলো ভারত

0
8

১০৭ রানের সহজ এক লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছিলো বাংলাদেশের যুবারা। ভারতের দরকার ছিলো শুরুতেই উইকেট পাওয়ার। প্রথম ওভারেই আকাশের বদৌলতে আসে সেই উইকেট। তানজিদ হাসান তামিম কোন রান না করে ফেরেন এলবিডব্লিউ হয়ে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বিদ্যাধর পাতিলের বলে বাউন্ডারি হাঁকানোর চেষ্টায় বল আকাশে তুলে সাজঘরে ফেরেন পারভেজ হোসেন ইমন। তামিমের মতো তৌহিদ হৃদয়কেও রানের খাতা না খুলতে দিয়ে বোল্ড করেন আকাশ নিজের দ্বিতীয় ও ইনিংসের তৃতীয় ওভারে।

নিজের তৃতীয় ওভারে আকাশ মাহমুদুল হাসান জয়কে নিজের তৃতীয় শিকার বানান তিনি।

পঞ্চম উইকেট জুটিতে শাহাদত হোসেনকে নিয়ে ইনিংস বড় করার চেষ্টা করেন অধিনায়ক আকবর আলি। তবে টেম্পারমেন্ট দেখানো শাহাদত ২৯ বলে ৩ রান করে অথর্ভ আনকোলেকার বলে ধ্রুব জুরেলকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তাতে ভাঙে আকবর-শাহাদতের ২৪ রানের জুটি।

শামীম হোসেন আকবর আলিকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হন। ৭ রান করে অহেতুক স্ট্রোক খেলতে যেয়ে আনকোলেকারের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। শামীম যখন ৬ষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসাবে আউট হন দলের রান তখন ৫১। ৮ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী দলকে এনে দেন কার্যকর কিছু রান।

বৃষ্টিতে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হলে মনযোগ হারিয়ে বসেন আকবর। ৩৫ বলে ২ চারে ২৩ রান করে থামেন আকবর। পরের ওভারে ২ চার ও ১ ছয়ে ২১ রান করা মৃত্যুঞ্জয়ও আউট হন। তখনও টাইগার যুবাদের দরকার ছিলো ২৯ রান। ৯ম উইকেট জুটিতে সাকিব ও রাকিবুল ২৩ রান যোগ করেন। ৩৫ বলে ১২ রান করে এলবিডব্লিউ হন তানজিম সাকিব। ২ বল বাদে আউট হন শাহিন আলম।
৫ রানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় টাইগার যুবাদের।

এর আগে শ্রীলঙ্কার আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টসে জেতেন ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক ধ্রুভ জুরেল। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন জুরেল।

ভারতীয় যুবাদের আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তানজিম হাসান সাকিব ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথে বল করে ভারতীয় টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের ভুল করতে বাধ্য করেন।
তৃতীয় ওভারেই এই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক অর্জুন আজাদকে (২০২) কোন রান না করতে দিয়ে আকবর আলির ক্যাচে পরিণত করেন সাকিব।একই রকম ভাবে তিলক বার্মাকে ফেরান মৃত্যুঞ্জয়। ওপেনার সুবেদ পারকার অবশ্য নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতে পারেন। ১৪ বলে ৪ রান করে সুবেদ ফিরেছেন শামীম হোসেনের ডিরেক্ট থ্রোতে রান আউট হয়ে।

৮ রানে ৩ উইকেট হারানো ভারতীয় যুবাদের ইনিংস লম্বা করতে শুরু করেন অধিনায়ক ধ্রুব জুরেল ও পাচে নামা শাশ্বত রাওয়াত। এই জুটি ৪৫ রান যোগ করার পর শাশ্বত রাওয়াতকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান শামীম হোসেন। ঐ একই ওভারে বরুন লাভান্ডেকে শূন্য হাতে ফেরান শামীম, দারুণ এক ক্যাচ ধরেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।

সুবেদ পারকারের পর অথর্ভ আনকোলেকারও রান আউটের শিকার হন। অথর্ভের ফেরার ৪ বল পরে ফেরেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক ধ্রুভ জুরেল। ৫৭ বলে ২ চার ও ১ ছয়ে ৩৩ রান করা ধ্রুব জুরেলকে মৃত্যুঞ্জয়ের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান শামীম।

এরপর ভারতীয় যুবাদের রান যা বেড়েছে তা আট নম্বরে নামা কারান লালের কল্যাণে। ৮ম উইকেট জুটিতে মিশ্রকে সঙ্গে নিয়ে কারান গড়েন ২০ রানের জুটি। শেষ উইকেটে আকাশের সঙ্গে গড়েন ২২ রানের জুটি। ৪৩ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে দলীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রান করে মৃত্যুঞ্জয়ের তৃতীয় শিকার হয়ে আউট হন কারান।
৩২.৪ ওভারে ১০৬ রান তুলেই অলআউট হয় ৬ বারের চ্যাম্পিয়নরা। ৩ টি করে উইকেট নেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ও শামীম হোসেন।

মাত্র ৫রানের জন্য এশিয়া কাপ জয় করা হলো না যুবাদের। এবার ভালো খেলেও পেরে উঠা হলো না শক্তিশালীর ভারতের বিপক্ষে।